শিরোনাম
দুঃস্থ নারীদের নগদ টাকা উপহার দিল হিউম্যান সাপোর্ট ফাউন্ডেশন খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় বায়েজিদ থানা ছাত্রদলের মিলাদ ও ইফতার বিতরণ স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা হেলাল উদ্দিনের অর্থায়নে ফ্রি সবজি বাজার আন্দরকিল্লায় রমজানে ডায়াবেটিস রোগীর সমস্যা, সমাধানে করণীয় ও হোমিওপ্রতিবিধান ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন চট্টগ্রামে আজ মাহে রমজানের শেষ জুমা; জেনে নিন জুমাতুল বিদার মহত্ত্ব আলোচিত ‘নয়া দামান’ গানের মূল শিল্পী তোসিবা বেগম উপেক্ষিত নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভারত থেকে প্রবেশ বাড়ছে আখাউড়া স্থল বন্দর দিয়ে বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা কেন করবেন? সরকারিভাবে অন্তত ৯০০ টন অক্সিজেন মজুত আছে
শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ০৮:২৫ পূর্বাহ্ন

বায়ু ও শব্দ দূষণে বিপর্যয়ের কবলে চট্টগ্রামের পরিবেশ

মুজিব উল্ল্যাহ্ তুষার / ১৩৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০২১

সহনীয় মাত্রার তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি বায়ু ও শব্দ দূষণে চট্টগ্রামের পরিবেশ বিপর্যয়ের কবলে পড়েছে। ফিটনেস বিহীন গাড়ির অনিয়ন্ত্রিত কালো ধোঁয়া, কলকারখানার ধোঁয়া এবং হাইড্রলিক হর্ন ব্যবহারের কারণেই দূষণের মাত্রা বাড়ায় নগরবাসী স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে পরিবেশ অধিদফতরের সূত্রে জানা যায়।

এ দিকে, চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবেশ অধিদফতর পাহাড় কাটা, জলাশয় ভরাট, নিষিদ্ধ পলিথিন আটকসহ বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করলেও বায়ু ও শব্দ দূষণ বিরোধী অভিযান বন্ধ রয়েছে দীর্ঘ দিন ধরে। অন্য দিকে, অভিযানে দায়ের করা মামলার তদন্তে অগ্রগতি না থাকায় পরিবেশ দূষণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। চট্টগ্রাম পরিবেশ আদালত সূত্র অনুসারে, পরিবেশ আদালতে বর্তমানে তিন শতাধিক মামলা বিচারাধীন। অধিকাংশ মামলার তদন্ত রিপোর্ট এখনও আদালতে পৌঁছেনি।

অন্য দিকে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সড়ক সংস্কার, সম্প্রসারণ ও রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কারণে বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ বেড়েছে।

সম্প্রতি নগরীর একে খান মোড়, সিটি গেট, জিইসি মোড়, জামালখান, মুরাদপুর, টাইগারপাসসহ বিভিন্ন এলাকার বাতাস পরীক্ষা করে পরিবেশ অধিদফতর দেখতে পায়, এ সব এলাকার বাতাসে ভাসমান বস্তুকণার (সাসপেন্ডেড পার্টিকুলেট মেটার বা এসপিএম) পরিমাণ গ্রহণযোগ্য মাত্রার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণের বেশি। বাতাসে এসপিএমের সহনীয় মাত্রা প্রতি ঘন মিটারে ২০০ মাইক্রোগ্রাম। সেখানে একে খান মোড়ে এর পরিমাণ ৪২০ মাইক্রোগ্রাম, সিটি গেটে ৪৪০ মাইক্রোগ্রাম, বিআরটিসি মোড়ে ৪৩৫ মাইক্রোগ্রাম, আগ্রাবাদে ৩৯৫ মাইক্রোগ্রাম, ষোলশহরে ৪০৬ মাইক্রোগ্রাম ও টাইগার পাস মোড়ে ৪২৬ মাইক্রোগ্রাম।

বাতাসে সালফার ডাই-অক্সাইড, সিসা, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইডসহ অন্য ক্ষতিকর উপাদান বিপজ্জনক মাত্রায় ছড়িয়ে পড়ায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।

অন্য দিকে, চট্টগ্রামে শব্দ দূষণের মাত্রাও সহনীয় মাত্রা ছাড়িয়েছে প্রায় দ্বিগুণ। পরিবেশ আইন অনুযায়ী, সকাল ছয়টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত শিল্প এলাকায় শব্দের সহনীয় মাত্রা ৭৫ ডেসিবল, আবাসিক এলাকায় ৫০ ডেসিবল, আর মিশ্র এলাকায় ৬০ ডেসিবল। কিন্তু পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালিত পরীক্ষায় দেখা যায়, নগরীর খুলশী (আবাসিক) এলাকায় শব্দের মাত্রা ছিল ১০৬ ডেসিবল, ইস্পাহানি মোড়ে ১১০ ডেসিবল, একে খান গেট (শিল্প) এলাকায় ১৩৫ ডেসিবল, পাহাড়তলী এলাকায় ১৫৫ ডেসিবল।

ধুলাবালির কারণে বাচ্চারাই সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকে। বাতাসে ভাসমান বস্তুকণার কারণে শিশুদের নিউমোনিয়ার মতো মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা থাকে। মারাত্মক বায়ু দূষণের কারণে মানুষ প্রতিনিয়ত অ্যাজমা, হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের ক্যান্সারসহ মারাত্মক ক্রনিক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। উচ্চমাত্রার শব্দ দূষণের কারণে শ্রবণেন্দ্রিয়ের সমস্যা তৈরি হয়। ধুলাবালিতে অ্যাজমা ও হাঁপানি রোগীদের অবস্থা বেশি খারাপ হয়। এছাড়া ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়া মানুষের শরীরে ঢুকে নানা রোগের সৃষ্টি করে।

চট্টগ্রামের পরিবেশ কর্মী আলিউর রহমানের মতে, সামগ্রিকভাবে সারা দেশের মতো চট্টগ্রামের পরিবেশ দূষণের মাত্রা ক্রমশ ভয়ানক পর্যায়ে যাচ্ছে। গাড়ির ধোঁয়ার পাশাপাশি ইটের ভাটা, ট্যানারি বর্জ্য, শিল্প বর্জ্য, মেডিকেল বর্জ্য, যত্রতত্র গৃহস্থালির বর্জ্য ফেলাসহ নানা কারণেই পরিবেশের এ বিপর্যয় ঘটেছে। ফিটনেস বিহীন গাড়ির অনিয়ন্ত্রিত হাইড্রলিক হর্ন ব্যবহারের কারণে শব্দ দূষণের মাত্রা বেড়েছে।

চট্টগ্রামে বায়ু দূষণের সঙ্গে শব্দ দূষণও দিন দিন বাড়ছে। শীত মৌসুমের শুরুতেই বাতাসে বস্তুকণার পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। স্বাভাবিক নিয়মে যার সহনীয় পরিমাণ ২০০ এসপিএম হলেও এখন তা চারশতে গেছে।

বিআরটিএ সূত্রানুসারে, নগরীতে প্রায় ২৫ হাজার যানবাহন চলাচল করছে, যেগুলোর ফিটনেস নেই। নগরীতে চলাচলকারী যানবাহনের প্রায় ৩৫ শতাংশই ফিটনেস বিহীন। এসব যানবাহন কালো ধোঁয়া সৃষ্টি করছে এবং হাইড্রলিক হর্ন ব্যবহার করছে। ফলে বায়ু ও শব্দ দূষণ বাড়ছে।

লেখক: সাংবাদিক, সংগঠক ও সমাজ কর্মী

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ