শিরোনাম
প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা তহবিলে এক কোটি টাকা অনুদান দিল চট্টগ্রাম চেম্বার প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনের ছুটি বাড়ল ৩০ জুন পর্যন্ত নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম’র আইটি বিশেষজ্ঞ গ্রেফতার চট্টগ্রামে সাদার্ন ইউনিভার্সিটিতে দুই মাসব্যাপী আন্তঃবিভাগ বির্তক প্রতিযোগিতা শুরু নাভানাসহ সীতাকুণ্ডের সব কারখানায় ঈদুল আজহার আগে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দাবি পরিবেশ বিষয়ক গল্প : মন পড়ে রয় । নাজিম হোসেন শেখ পিএইচপি অটো মোবাইলসের তৈরি অ্যাম্বুলেন্স উপহার পেল চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল সোতোকান কারাতে স্কুল চট্টগ্রামের কারাতে বেল্ট প্রতিযোগিতা সম্পন্ন চট্টগ্রামের পাহাড় অপরাজনীতি, অপেশাদার আমলাগিরির শিকার হাটহাজারী নাজিরহাট কলেজে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন
রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ০৮:২১ পূর্বাহ্ন

বাজেটে নিজেদের আট দাবির বাস্তবায়ন চায় সিএসই

পরম বাংলাদেশ ডেস্ক / ২৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ৬ জুন, ২০২১

চট্টগ্রাম: বাংলাদেশ আজ বিশ্বের ৪১তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। বাঙালি জাতি নতুন উদ্দীপনায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশিত পথে অর্থনৈতিক মুক্তির রথে এগিয়ে চলেছে। স্বাধীনতার গৌরবময় সুবর্ণজয়ন্তীর এ সময়ে আমাদের উত্তরণ হয়েছে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে। এ যেন আধুনিক বাংলাদেশের রুপকার প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্তের অবদান।

‘মেইড ইন বাংলাদেশকে’ উপজীব্য ধরে এবং আমদানি নির্ভরতা হ্রাসকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (৩ জুন) অর্থ মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল মহান জাতীয় সংসদে আগামী ২০২১-২০২২ অর্থ বছরের বাজেট ঘোষণা করেছেন।

বিশ্ব মহামারী কভিড -১৯ নভেল করোনা ভাইরাসের এ ক্রান্তিকালে দাঁড়িয়ে ’জীবন জীবিকায় প্রাধান্য দিয়ে সুদৃঢ় আগামীর পথে বাংলাদেশ’ শিরোনামে যে বাজেট অর্থ মন্ত্রী অত্যন্ত প্রজ্ঞা এবং সাহসের সাথে উপস্থাপন করেছেন, সে জন্য চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

বাজেট বক্ততায় অর্থরমন্ত্রী বলেছেন, ‘সরকার পুঁজিবাজার গতিশীল ও উজ্জীবিত করার লক্ষ্যে নানাবিধ সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে । স্টক এক্সচেঞ্জগুলো লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার উদ্দেশ্যে ও যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আরো কিছু পদক্ষেপ শিগগিরই বাস্তবায়ন করা হবে। যেমন- পুঁজিবাজারে ট্রেজারি বন্ডের লেনদেন চালু করা, আধুনিক পুঁজিবাজারের বিভিন্ন ইন্সট্রুমেন্ট, সুকুক, ডেরিভেটিভস, অপশনের লেনদেন চালু করা, ইটিএফ প্রচলন করা, ওপেন এন্ড মিউচুয়াল ফান্ড তালিকাভুক্ত করা ইত্যাদি। সার্বিক পুঁজিবাজারের উন্নয়নে অনেকগুলো বিষয় গুরত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়েছে এ বাজেটে। সার্বিক দিক বিবেচনায় এবারের প্রস্তাবিত বাজেট শেয়ারবাজার বান্ধব বলে আমরা মনে করি।

প্রস্তাবিত বাজেটের এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে আগামীতে শেয়ারবাজার আরো গতিশীল হবে এবং বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়বে ।

গত অর্থ বছরে বাজেটে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহ বাজারবান্ধব ছিল। এ বছর আমাদের চিটাগাং স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে, বিদ্যমান বিধানসমূহ যেন অপরিবর্তিত থাকে। আমরা আনন্দিত যে, প্রায় সব বিধান অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যদের লেনদেনের উপর বিদ্যমান উৎস কর ০.০৫ শতাংশ থেকে পূর্বাবস্থায় অর্থাৎ ০.০১৫ শতাংশ নামিয়ে আনার সুপারিশ করা হয়েছিল, যা বাজেটে ঘোষিত হয়নি। ব্রোকারেজ হাউজগুলুর সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য পরিচালন খরচ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি তীব্র প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ব্রোকারেজ সেবার কমিশন অত্যন্ত কমে আসার কারণে এ কর্তনকৃত অর্থ অধিকাংশ ক্ষেত্রে কার্যকর করদায় হিসেবে অধিক হয়। তাই উৎসে করহার হ্রাসে আমাদের প্রস্তাব পুনঃবিবেচনার অনুরুধ জানাচ্ছি। এছাড়াও ব্রোকারদের বিও অ্যাকাউন্ট ম্যানটিনেন্স ফী হতে প্রাপ্ত আয় ১০০ টাকা হতে বিবেচ্য করকে উল্লেখিত ০.০১৫ শতাংশ উৎসে কর সংযুক্ত হয়েছে বলে বিবেচনা করার জন্য আবেদন করছি।

ঘোষিত বাজেটে তালিকাভুক্ত কোম্পানিসগুলোর বিদ্যমান করহার ২৫ শতাংশ থেকে ২২.৫ শতাংশে নির্ধারণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আমাদের দাবি ছিল, এ করহার ২০ শতাংশে কমিয়ে আনা। এতে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির কর্পোরেট করহারের ব্যবধান বৃদ্ধি পাবে। ফলে মৌল ভিত্তি সম্পন্ন দেশি, বিদেশী এবং বহুজাতিক কোম্পানিগুলো তালিকাভুক্ত হতে উৎসাহিত হবে।

কৌশলী বিনিয়োগকারী আকর্ষণ করাসহ স্টক এক্সচেঞ্জের কারিগরি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য মূলধন পুনঃবিনিয়োগের প্রয়োজন হয়। বিনিয়োগকারীদের জ্ঞান ও দক্ষতা ও দীর্ঘ মেয়াদে একটি স্থিতিশীল পুঁজিবাজার গঠনের লক্ষ্যে সিএসইর আর্থিক সক্ষমতা প্রয়োজন হলেও বর্তমানে এক্সচেঞ্জসমূহের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। জনস্বার্থ রক্ষায় নিয়জিত বিশেষায়িত জাতীয় প্রতিষ্ঠান ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে এক্সচেঞ্জসমুহের প্রযোজ্য কর্পোরেট করহার ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করা যেতে পারে ।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন লাভজনক কোম্পানিগুলোর শেয়ার বিক্রির কথা বিভিন্ন সময়ে বলা হলেও ঘোষিত বাজেটে এর কোন পরিকল্পনা পরিলক্ষিত হয়নি। অর্থায়নের উৎস হিসেবে শেয়ার অফ লোড করে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের জন্য ১০ শতাংশ কর পরিশোধ করে পুঁজিবাজারে অপ্রদশিত অর্থ বিনিয়োগের সময়সীমা এ বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত রয়েছে। ব্যক্তি শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ, যার সময়সীমা ঘোষিত বাজেটে বাড়ানো হয়নি । আমরা বিদ্যমান আইনের এ সময়সীমা বাড়ানোর জন্য আবেদন জানাচ্ছি ।

বর্তমানে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এসএমই বোর্ডের মাধ্যমে স্বল্প মুলধনী কোম্পানিসমূহকে তালিকাভুক্ত হতে উৎসাহিত করছে । আমরা তালিকাভুক্ত এসএমই কোম্পানিসমূহের জন্য ১০ শতাংশ হারে ৫ বছরের জন্য কর নির্ধারণ করার প্রস্তাব করেছিলাম। এতে অধিক সংখ্যক কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড থেকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরিত হবে।

বর্তমানে শুধুমাত্র জিরো কুপন বন্ড থেকে প্রাপ্ত আয় ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যতিরেকে করমুক্ত। দেশের অর্থনীতির আকার এবং বাঙ্কিং খাতের অস্থিতরতার প্রেক্ষিতে একটি শক্তিশালী বন্ড মার্কেট তৈরি অতি জারুরি। এ পদক্ষেপ পুঁজিবাজারের পাশাপাশি আর্থিক খাতেও শৃঙ্খলা আনয়ন করতে পারে। সে কারণে নতুনভাবে একটি বন্ড মার্কেট তৈরি করার লক্ষ্যে সব প্রকার বন্ড থেকে প্রাপ্ত আয়কে করমুক্ত করা প্রয়োজন এবং জিরো কুপন বন্ড থেকে প্রাপ্ত আয়ের করমুক্ত সুবিধা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ সব করদাতাকে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন ।

লভ্যাংশ প্রদানের সময় কোম্পানি তার মুনাফার উপর কর প্রদান করে, পুনরায় লভ্যাংশ বিতরণের সময় কর কর্তনের জন্য দ্বৈত করের সৃষ্টি হয়। লভ্যাংশ আয়ের উপর এ দ্বৈত করনীতি পরিহার করা যেতে পারে। সেই লক্ষ্যে করমুক্ত লভ্যাংশের সীমা ৫০ হাজার টাকা থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যেতে পারে।

নিউজ রিলিজ

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ