শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ০৯:০৮ অপরাহ্ন

বাংলাদেশের সমর্থনকৃত ক্রস-বর্ডার পেপারলেস ট্রেড চুক্তি কার্যকর শনিবার থেকে

পরম বাংলাদেশ প্রতিবেদন
  • প্রকাশ : শুক্রবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৩৩৯ Time View

ঢাকা: এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আন্তঃদেশীয় বাণিজ্য ব্যবস্থা ত্বরান্বিতকরণের লক্ষ্যে সম্পাদিত ‘দ্যা ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট অন ফ্যাসিলিটেশন অফ ক্রস-বর্ডার পেপারলেস ট্রেড ইন এশিয়া অ্যান্ড দ্যা প্যাসিফিক’ চুক্তিটি কাল শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) থেকে কার্যকর হবে।

ইউএনএসক্যাপ (UNESCAP) এর সহায়তায় ২৫টি দেশের সমন্বিত প্রচেষ্টায় ২০১৬ সালে এসক্যাপ (ESCAP) ভুক্ত সদস্য দেশসমূহ ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তিটি গ্রহণ করে। কাগজবিহীন ইলেকট্রনিক মাধ্যমে আন্তঃদেশীয় বাণিজ্য সংক্রান্ত ডেটা ও ডকুমেন্ট আদান প্রদান সহজীকরণের লক্ষ্যে এ চুক্তিটি গৃহীত হয়। বর্তমানে এসক্যাপ ভুক্ত ৫৩টি সদস্য দেশ এ চুক্তিতে অংশগ্রহণ করতে পারে।

আজারবাইজান, বাংলাদেশ, চীন, ইরান, ফিলিপাইন ইতোমধ্যেই চুক্তিটি কার্যকর করার ক্ষেত্রে অনুসমর্থন করে চুক্তির পক্ষ হয়েছে । এছাড়া আর্মেনিয়া ও কম্বোডিয়া চুক্তিটি সই করেছে। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের এসক্যাপ ভুক্ত অন্যান্য দেশ চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।

কোভিড-১৯ এর ফলে আন্তঃদেশীয় বাণিজ্য ব্যবস্থার (আমদানি-রপ্তানি) ক্ষেত্রে সৃষ্ট জটিলতা দূরীকরণে পেপারলেস ট্রেড/ডিজিটাল ট্রেড পদ্ধতি ইতোমধ্যেই সমাদৃত হয়েছে। কোভিডোত্তর বিশ্ব বাণিজ্যে ক্রস-বর্ডার পেপারলেস ট্রেড ব্যবস্থা বাণিজ্য সহজীকরণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এছাড়া ক্রস-বর্ডার পেপারলেস ট্রেড দেশের বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধি, ই-কমার্স ও ডিজিটাল অর্থনীতি গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।

ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্টটি বাস্তবায়নের ফলে আন্তঃদেশীয় বাণিজ্য সম্পাদনের সময় ও ব্যয় হ্রাস পাবে। ইউএনএসক্যাপ (UNESCAP) এর প্রকাশনা হতে জানা যায় যে, ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশন (ডব্লিউটিও) ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন এগ্রিমেন্ট ও ইউএনএসক্যাপ ক্রস-বর্ডার পেপারলেস ট্রেড সমন্বিতভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ বাণিজ্য বাবদ খরচ তেত্রিশ শতাংশ কমিয়ে আনতে পারে, যার আর্থিক মূল্য বার্ষিক দশমিক সাত বিলিয়ন মার্কিন ডলার। উন্নয়নশীল দেশ হতে বাংলাদেশের উত্তরণের ফলে সম্ভাব্য বাণিজ্য সংকোচন মোকাবিলায় বাংলাদেশ এ এগ্রিমেন্টের আওতায় কারিগরি সহযোগিতা পেতে পারে। চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ইজ অফ ডুয়ি বিজনেস ইনডেক্সে বাংলাদেশের অবস্থান এগিয়ে যাবে এবং বাংলাদেশ অধিকতর বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে সক্ষম হবে। এছাড়া, সরকারের ওয়ান স্টপ সার্ভিস ও ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইনডো প্রজেক্ট বাস্তবায়নের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনাও সৃষ্টি হবে।

ক্রস-বর্ডার পেপারলেস ট্রেড এগ্রিমেন্টটি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সহজ ও নমনীয়। ডিজিটালাইজেশনের যে কোনো পর্যায়ে উন্নত ও উন্নয়নশীল নির্বিশেষে এসকেপ (ESCAP) ভুক্ত যে কোনো দেশ এ চুক্তিটিতে যোগ দিতে পারে। চুক্তিটি কার্যকর করা হলে ডব্লিউটিও টিএফএ এবং ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইনডো পদ্ধতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তা সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশসমূহ ক্রস-বর্ডার পেপারলেস ট্রেড এগ্রিমেন্টে যোগ দিয়ে বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে। একই সাথে এটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশসমূহ ই-কমার্স ও ডিজিটাল ইকোনমির ক্ষেত্রে উদ্ভুত চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলা করতে পারবে।

খবর পিআইডির

Share This Post

আরও পড়ুন