বৃহস্পতিবার, ০৬ মে ২০২১, ১০:৪৪ অপরাহ্ন

বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঢাকা উত্তরের প্রকল্প মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন

পরম বাংলাদেশ প্রতিবেদন / ৯৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১২ নভেম্বর, ২০২০

ঢাকা: বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গৃহীত প্রকল্প সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি অনুমোদন দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ইনসিনারেশন পদ্ধতিতে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিদ্যুৎ বিভাগের প্রস্তাব অনুমোদন হয়।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম ঢাকা শহরের অন্যতম সমস্যা বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনার এ উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এ জন্য দফায় দফায় সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা এবং অন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সাথে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক সভা করেন। এ বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জনের লক্ষ্যে তিনি যে সকল দেশ বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে এমন বেশ কয়েকটি দেশ ভ্রমন করেন । পাশাপাশি এ বিষয়ে অভিজ্ঞ দেশ বিদেশের বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ করেন তিনি।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং প্রক্রিয়াকরণ কমিটির সুপারিশের আলোকে প্রাইভেট সেক্টর পাওয়ার জেনারেশন পলিসি-১৯৯৬ এর আওতায় বিওও ভিত্তিতে আইপিপি হিসেবে চায়না মেশিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন (সিএমইসি) কর্তৃক ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার বর্জ্য বিদ্যুৎ কেন্দ্র ‘নো ইলেকট্রিসিটি, নো পেমেন্ট’এর ভিত্তিতে ইনসিনারেশন পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। আগামী ২০ মাসের মধ্যে সিএমইসি এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। চুক্তির মেয়াদ ২৫ বছর।

স্পন্সর কোম্পানি নিজ ঝুঁকিতে প্লান্ট স্থাপন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বহন এবং উৎপাদিত বিদ্যুৎ পিডিবির কাছে বিক্রির মাধ্যমে তাদের ব্যয় নির্বাহ করবেন। সিটি কর্পোরেশন প্লান্ট স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় জমির সংস্থান এবং নিয়মিত বর্জ্য সরবরাহ করবে।

ইন্সিনারেশন প্রক্রিয়ায় এ প্লান্টটি চালু হলে সেখানে প্রতিদিন তিন হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য সরবরাহ করতে হবে। এই পরিমাণ বর্জ্য সরবরাহ করতে না পারলে উত্তর সিটি কর্পোরেশনকে প্রতি মেট্রিক টন ঘাটতি বর্জ্যের জন্য এক হাজার টাকা হারে স্পন্সর কোম্পানিকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। যেহেতু প্রতিদিন তিন হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য প্রয়োজন হবে, তাই এই পরিমাণ বর্জ্য সংগ্রহ করতে হলে আর যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা পড়ে থাকবে না।

এই প্রক্রিয়ায় বর্জ্য প্রায় সম্পূর্ণরূপে পুড়িয়ে বর্জ্যের আয়তন প্রায় ৯০ শতাংশ হ্রাস করা সম্ভব এবং এর ফলে পৌর বর্জ্য ফেলার জমির চাহিদা হ্রাস পাবে। বিদ্যুৎ কেন্দ্র ইন্সিনারেশন প্রযুক্তি প্রয়োগে বর্জ্যে পুড়িয়ে সৃষ্ট গ্যাসীয় নি:সরণ মানমাত্রা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে। ইইউ/২০১০/৭৫ইইউ মানদণ্ড দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হবে যা বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা ১৯৯৭ এর মানদণ্ড হতে অধিক পরিবেশ বান্ধব এবং বর্তমানে উন্নত দেশসমূহে অনুসরণ করা হচ্ছে।

এই প্রকল্পটির সফলভাবে বাস্তবায়ন হলে দেশের সকল সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা এবং জেলা পর্যায়ে ইনসিনারেশন পদ্ধতিতে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে সরকার।

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ