মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন

বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো: মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ পুরো বিশ্বেই

ডা. মুহাম্মদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ / ৮৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২০

বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো! মানে কঠিন সতর্কতার ভেতরে অসতর্কতা। আইন যত কঠিন তা ভাঙ্গা ততই সহজ। ঘটা করে আইন করা হয় যেন তা ভাঙ্গার আনন্দ লাভের জন্য।

আইন ভাঙ্গার এ ধারাবাহিকতায় বিশ্বের অন্য দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও আজ ১০ ডিসেম্বর পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব মানবাধিকার দিবস।’

করোনা ভাইরাসে সৃষ্ট মহা সংকটে মানবাধিকার পরিস্থিতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নারী-পুরুষ ও শিশু নির্বিশেষে সমাজে বসবাসকারী প্রতিটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে মানবাধিকারের প্রভাব অনস্বীকার্য।

১৯৪৮ সালের এ দিনে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়। পরে ১৯৫০ সালে এ দিনটিকে জাতিসংঘ ‘বিশ্ব মানবাধিকার দিবস’ হিসেবে ঘোষণা দেয়। তখন থেকেই বিশ্বজুড়ে এ দিনটি পালন করা হচ্ছে। বাংলাদেশেও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়।

মানবাধিকার রক্ষা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে জাতিসংঘ কর্তৃক মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র গৃহীত হওয়ার পর থেকে প্রতি বছর এ দিন ‘বিশ্ব মানবাধিকার দিবস’ হিসেবে পালিত হয়।

খৃস্ট্ পূর্ব প্রায় ২২৮৮ থেকে ২১৩০ সালে পৃথিবীর প্রাচীনতম আইন সংকলন ব্যবলিনের রাজা হাম্মারাবীর নিয়ামাবলীতে মানবাধিকার সংরক্ষণের কথা পাওয়া যায়। খৃষ্টীয় সপ্তম শতাব্দীতে মদিনার বহু ধর্মভিত্তিক সমাজে হযরত মুহাম্মদ (স.) কর্তৃক প্রণীত ‘মদিনার সনদ’ এ মদিনার সব নাগরিকই সমান অধিকার ভোগ করবে- এ কথা বলা হয়েছিল।

বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে গুরুত্বের সাথে ঘোষণার ৩০টি ধারায় প্রধান প্রধান অধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা সংযোজন করা হয়েছে। কোনো প্রকার বৈষম্য ছাড়াই পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তের মানুষ ওই অধিকার ও স্বাধীনতা ভোগ করতে পারে।

ঘোষণায় যে সব অধিকার যুক্ত হয়েছে তার মধ্যে আছে : জীবন, স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তার অধিকার, দাসত্ব থেকে মুক্তি, স্বৈরাচারী আটক ও গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষ আদালত কর্তৃক সুষ্ঠু বিচারের অধিকার, দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত নিরপরাধ হিসেবে গণ্য করার অধিকার, আবাসস্থলের অলঙ্ঘনীয়তা ও পত্রালাপের গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার, চলাচল ও বসবাসের অধিকার, বিবাহ ও পরিবার গঠনের স্বাধীনতা, সম্পত্তির অধিকার, চিন্তা, বিবেক ও ধর্মীয় স্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণভাবে জমায়েত হবার ও সংগঠন গড়ার স্বাধীনতা, ভোটদান এবং সরকার গঠনে অংশগ্রহণের অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা, কর্মের ও উপযুক্ত জীবন-যাত্রার মানের নিশ্চয়তা বিধান, শিক্ষা ও সমাজের সাংস্কৃতিক জীবনে অংশগ্রহণের অধিকার।

মানবাধিকার সম্বন্ধে সর্বজনীন ঘোষণায় সংগঠন, প্রত্যক্ষভাবে বা জন প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সরকারে অংশগ্রহণ, সরকারি চাকরি লাভের ক্ষেত্রে সমানাধিকার, বিশ্রাম ও অবসর যাপনের অধিকার, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক স্বাস্থ্য রক্ষার অধিকার; রোগ, অক্ষমতা এবং বৃদ্ধ বয়স ও বৈষম্যে নিরাপত্তা এবং অভাব থেকে মুক্তির অধিকার স্বীকৃত হয়েছে।

তাছাড়া সাধারণভাবে অভাব থেকে মুক্তি এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তার অধিকার স্বীকার করা হয়েছে, আইনের দৃষ্টিতে সাম্য এবং আইনের দ্বারা সমানভাবে সংরক্ষিত হবার আধিকারও ঘোষিত হয়েছে।

সাধারণ পরিষদ ওই ঘোষণাকে সব মানুষ ও জাতির পক্ষে সাফল্যের সাধারণ মান হিসাবে উল্লেখ করেছে। ওই সব জাতির অধিকার ও স্বাধীনতার স্বীকৃতি এবং তাদের প্রয়োজনের জন্য সাধারণ মানুষ ও সব জাতির কাছে আবেদন করেছে।

দিবসটি জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃত দক্ষিণ আফ্রিকায় শার্পেভিল গণহত্যাকে স্মরণ করে দিবসটি উদযাপিত হয় ২১ মার্চ এবং ১৯৫০ সালের ৪ ডিসেম্বর, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৩১৭তম পূর্ণ অধিবেশনে ৪২৩ (৫) অনুচ্ছেদের মাধ্যমে সদস্যভূক্ত দেশসহ আগ্রহী সংস্থাগুলোকে দিনটি তাদের মতো করে উদযাপনের আহ্বান জানানো হয়।

মানবাধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে সভা-সমাবেশ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন ধরণের তথ্যচিত্র কিংবা চলচ্চিত্র প্রদর্শনী প্রধানতঃ এ দিনের সাধারণ ঘটনা।

বিশ্বজুড়ে যখন মানবাধিকার দিবসে নানা আহ্বান তখন মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ পুরো বিশ্বেই। প্রতিদিনই নির্যাতন ও হত্যার শিকার হচ্ছে বার্মার শত শত রোহিঙ্গা মুসলিম।

বিজয়ের পর ৪৯ টি বছর পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশেও রক্ত ক্ষরণ আজো থামে নি। এ দিনে সবার অঙ্গীকার হোক ‘সুন্দর ও সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়ার।’

লেখক: স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা, হিউম্যান রাইটস রিভিউ সোসাইটি কেন্দ্রীয় কমিটি

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ