শিরোনাম
নিংশ্বাসের বন্ধু’র প্রথম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন চট্টগ্রামে ১৬-১৭ জুন থিয়েটার থেরাপি প্রয়োগ বিষয়ক রিফ্রেশার্স ট্রেনিং চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ে জরুরী রোগী ব্যবস্থাপনার দুই দিনের প্রশিক্ষণ শুরু চা শ্রমিক নেতা বাবুল বিশ্বাসের মৃত্যুতে চা শ্রমিক নেতাদের শোক প্রকাশ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর ভ্যাট চায় না চট্টগ্রাম সিটি ছাত্রদল বিডার কাছে ব্যবসায় সহজীকরণের উদ্যোগ চায় বিজিএমইএ মিরসরাই বঙ্গবন্ধু শিল্প নগরে বেপজার প্লট পেল বঙ্গ প্লাস্টিকসহ দেশি বিদেশি দশ প্রতিষ্ঠান ভারতীয় ভেরিয়েন্ট দেশে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডে উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে কাউন্সিলর শহিদুল আলম টেকনাফে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৮০০ পিস আন্দামান গোল্ড বিয়ার জব্দ
মঙ্গলবার, ১৫ জুন ২০২১, ১২:২৪ অপরাহ্ন

বঙ্গবন্ধু শিল্প নগরে তৃতীয় ফ্যাক্টরি স্থাপন করতে যাচ্ছে ভারতের প্রসাধন নির্মাতা ম্যারিকো

পরম বাংলাদেশ প্রতিবেদন / ৬৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ৬ জুন, ২০২১

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরে (মিরসরাই, ফেনী এবং সীতাকুন্ড অর্থনৈতিক অঞ্চল) ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড বাংলাদেশে তাদের তৃতীয় ফ্যাক্টরি স্থাপন করতে যাচ্ছে। এখানে প্রায় ২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রায় ৫০০ লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এ কারখানায় মূলত প্রসাধন সামগ্রী এবং পিইটি বোতল প্রস্তুত হবে।

এ লক্ষ্যে ভারতের অন্যতম প্রসাধন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের অন্তর্গত ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডের সাথে জমি লিজ চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। সোমবার (৬ জুন) বেজা কার্যালয়ে এ চুক্তি সই সম্পন্ন হয়।

বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় উপস্থিত ছিলেন ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশীষ গোপাল এবং প্রতিষ্ঠানটির উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

বেজার নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ আলী আহসান এবং ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশিষ গোপাল জমি লিজ চুক্তিতে সই করেন।

 

চট্টগ্রামের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরে (মিরসরাই, ফেনী এবং সীতাকুন্ড অর্থনৈতিক অঞ্চল) ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড বাংলাদেশে তাদের তৃতীয় ফ্যাক্টরি স্থাপন করতে যাচ্ছে। এখানে প্রায় ২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রায় ৫০০ লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এ কারখানায় মূলত প্রসাধন সামগ্রী এবং পিইটি বোতল প্রস্তুত হবে।

পবন চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চলের হাত ধরে বাংলাদেশ বিনিয়োগ-বান্ধব সুস্থ পরিবেশ গড়ে তুলতে সমর্থ হয়েছে এবং বিশ্বের কাছে উন্নয়নের একটি রোল মডেল স্থাপন করেছে। মিরসরাইতে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মিত হচ্ছে এবং এর ফলে এদেশে শিল্পায়নের অভূতপূর্ব বিপ্লব সাধিত হবে এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যসমূহ পূরণ হবে। এছাড়াও, জলবায়ুর পরিবর্তনের নিরিখে সবুজ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার জন্য নীতি নির্ধারণের কাজও শীঘ্রই বাস্তবায়িত হবে। ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগ আসছে এবং ম্যারিকো তাদের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে।’

ম্যারিকো বাংলাদেশের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আশীষ গোপাল বলেন, ‘বর্তমানে ম্যারিকোর ৯৯ শতাংশ পোর্টফলিও বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে প্রস্তুতকৃত। ১০ টি ক্যাটাগরির ৩৬টি ব্র্যান্ড রয়েছে ম্যারিকোর এবং দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে তারা পণ্য রপ্তানি করেন।’

তিনি আরো জানান, ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ এর একটি গর্বিত অ্যাম্বাসেডর হয়ে দেশ ও দেশের বাইরে ভোক্তাদের বিশ্ব মানের পণ্য সরবরাহে তারা সর্বদাই সচেষ্ট। উৎপাদন পরিধি বৃদ্ধি করতে তারা ২২০ কোটি টাকার অধিক বিনিয়োগের লক্ষ্য স্থির করেছেন এবং স্থানীয়ভাবে পণ্যসামগ্রী উৎপাদনের মাধ্যমে পোর্টফোলিও আরো মজবুত করতে বদ্ধপরিকর।’

উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে যাত্রা শুরু করা ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড, বাংলাদেশের সেরা তিন এফএমসিজি বহুজাতিক কোম্পানির একটি এবং সৌন্দর্য ও সুস্বাস্থ্য খাতের ভোগ্য পণ্যের জন্য বিশ্বস্ত একটি ব্র্যান্ড। ইতোমধ্যে এর ফ্ল্যাগশিপ ব্র্যান্ড প্যারাস্যুট ক্রমবর্ধমান একটি শক্তিশালী ভোক্তাশ্রেণীকে সাথে নিয়ে শীর্ষ ১০ বিশ্বস্ত ব্র্যান্ডের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে। মেইড ইন বাংলাদেশের গর্বিত অ্যাম্বাসেডর হিসেবে, ম্যারিকোর ৯৯ শতাংশ ভাগ পণ্যই বাংলাদেশে উৎপাদিত হয় এবং এসব পণ্য বিভিন্ন দেশে রপ্তানী করা হয়। ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড ঢাকা এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ তালিকাভুক্ত একটি কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটি মুনাফার ১ শতাংশ সামাজিক দায়বদ্ধতা উদ্যোগে ব্যয় করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং দেশের শিক্ষা, নারী ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

এ দিকে, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, ১৫ বছরের মধ্যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, পত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১ কোটি লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিবছর অতিরিক্ত ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় প্রত্যাশা নিয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম প্রধান মন্ত্রীর নির্দেশে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড ও মিরসরাই উপজেলা এবং ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার প্রায় ৩০ হাজার একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর। ইতোমধ্যে ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ এখানে নিশ্চিত হয়েছে। বিদেশী বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রয়েছে জাপানের নিপ্পন, ভারতের এশিয়ান পেইন্টস, যুক্তরাজ্যের বার্জার পেইন্টস, সিঙ্গাপুরের উইলমারসহ আরো অনেকে এবং দেশী স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে পিএইচপি, বসুন্ধরা গ্রুপ, টিকে গ্রুপ ছাড়াও আরো নানা বিনিয়োগকারী। এ শিল্পনগরে ইতোমধ্যে সরকারী বিভিন্ন সংস্থার সাথে বেজার সুসমন্বয়ের ফলে নির্মিত হয়েছে শেখ হাসিনা সরণি, দেশের সর্বপ্রথম সুপারডাইক, প্রতিষ্ঠিত হয়েছে গ্যাস সংযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহের কাজ। এ শিল্পনগরে বর্তমান ১৩টি শিল্প নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে আরও ১৫টি প্রতিষ্ঠান শিল্প নির্মাণের অংশ হিসেবে প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে। জুলাই মাস নাগাদ কমপক্ষে দুটি শিল্প কারখানা উৎপাদনে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ শিল্পনগরে মাধ্যমে ১৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। কোভিড-১৯ মহামারীর সময়েও এ শিল্পনগরের জন্য প্রায় ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ প্রস্তাব গৃহিত হয়েছে।

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ