রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন

বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে তিন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে বিজিএমইএ; জমি ইজারা চুুক্তি সই

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৬ মার্চ, ২০২১
  • ১৩৯ Time View

ঢাকা: চট্টগ্রামের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে একটি বিশেষায়িত গার্মেন্টস পার্ক স্থাপনে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যনুফাকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) মধ্যে ৪১টি প্রতিষ্ঠানের সাথে জমি ইজারা চুক্তি স্বাক্ষর সোমবার (১৫ মার্চ) রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমাদ কায়কাউস, বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং বিজিএমইএর সভাপতি ড. রুবানা হক ।

সভাপতিত্ব করেন বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী।

বিজিএমইএ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে তিন বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যার মাধ্যমে প্রায় তিন লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে এবং প্রায় পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের উৎপাদন/রপ্তানির পথ সুগম হবে। বিজিএমইএ মূলত গার্মেন্টস এবং গার্মেন্স একসেসোরিজ সেক্টরে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী সেই লক্ষ্যে বেজার আওতাধীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে ৫০০ একর জমি বরাদ্দ প্রদানে বেজা সম্মত হয় এবং এ বিষয়ে গত ২০১৮ সালের ২১ মার্চ বেজা ও বিজিএমইএর মধ্যে একটি সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষর হয়। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার (১৫ মার্চ) বেজা ও বিজিএমইএর ৪১ টি প্রতিষ্ঠানের সাথে জমি বরাদ্দে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়।

ড. রুবানা হক বলেন, ‘বিজিএমইএ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে একটি পরিকল্পিত গার্মেন্টস জোন করার বিষয়ে বেজার সাথে কাজ করার মাত্র দুই বছরের মাথায় শিল্প স্থাপনের জন্য প্রস্তুত করে দিয়েছে, এর জন্য বিজিএমইএ বেজার প্রতি কৃতজ্ঞ। বেজা এবং বিজিএমইএর মধ্যে যে চুক্তি স্বাক্ষর হল, এর মাধ্যমে বিজিএমইএর দীর্ঘ দিনের চাওয়া বা স্বপ্ন পূরণ হল। আমি আশা করি, বিজিএমইএ এর যে সব প্রতিষ্ঠান আজকে চুক্তি স্বাক্ষর করলেন, তারাা দ্রুত শিল্প নির্মাণের কাজ শুরু করবে এবং বেজা তাদের সব ধরনের সেবা প্রদান করবে।’

মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ভূমি মন্ত্রণালয় বেজাকে ভূমি দ্রুততার সাথে দিতে বদ্ধপরিকর।’

হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘আমরা বেজাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর উন্নয়নে সরাসরি সহযোগিতা প্রদানে পানি সরবরাহ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। খুব দ্রুত এ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।’

আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, ‘অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগকারীদের সব সেবা ওয়ানলাইনের মাধ্যমে প্রদানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বেজা এক সাথে কাজ করছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নে অংশীদার হতে পেরে আনন্দিত। এছাড়া বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা প্রদানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বেজার সাথে এক সাথে কাজ করছে।’

ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, ‘এ উদ্যোগের ফলে বিজিএমইএ এবং বেজার মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক দৃঢ় হবে এবং ভবিষ্যতে এ গার্মেন্টস ভিলেজের সফল বাস্তবায়নে বেজা এবং বিজিএমইএ এক সাথে কাজ করবে এবং পরিকল্পিত শিল্প বাস্তবায়নের পথ সুগম হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ উদ্যোগ বেজা ও বিজিএমইএ’র অন্যতম সফলতা বলেও তিনি উল্ল্যেখ করেন।

পবন চৌধুরী বলেন, ‘বিজিএমইএ দ্রুত এ শিল্প স্থাপন করলে ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরের উপর জন-স্রোতের চাপ কিছুটা হলেও কম হবে এবং বন্দরের পার্শ্ববর্তী হওয়ার কারণে পরিবহন ব্যয় হ্রাস পাবে। এতে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানী বৃদ্ধি পাবে।’

বেজার পক্ষে স্বাক্ষরকৃত চুক্তি হস্থান্তর করেন নির্বাহী সদস্য মোহাম্মাদ এরফান শরীফ ও আব্দুল আজিম চৌধুরী এবং বিজিএমইএ এর পক্ষে চুক্তিপত্র গ্রহণ করেন ৪১টি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকগণ।

উল্লেখ্য, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, ১৫ বছরের মধ্যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, পত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এক কোটি লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি বছর অতিরিক্ত ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় প্রত্যাশা নিয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড ও মিরসরাই উপজেলা এবং ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার প্রায় ৩০ হাজার একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর। ইতিমধ্যে ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ এখানে নিশ্চিত হয়েছে। এ শিল্পনগরে ইতোমধ্যে শেখ হাসিনা সরণি নির্মাণ, সুপারডাইক নির্মাণ, গ্যাস সংযোগ প্রদান, বিদ্যুৎ সরবরাহের কাজ শেষ হয়েছে। এ শিল্পনগরে বর্তমান ১৩টি শিল্প নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে আরও ১৫ টি প্রতিষ্ঠান শিল্প নির্মাণের অংশ হিসেবে প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এ শিল্পনগরে মাধ্যমে ১৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

Share This Post

আরও পড়ুন