শিরোনাম
সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ০১:৩১ অপরাহ্ন

‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’ অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুনকে সংবর্ধনা

পরম বাংলাদেশ ডেস্ক / ২১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৬ মার্চ, ২০২১

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’ পদে অধিষ্ঠিত হওয়ায় বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ, জনবুদ্ধিজীবী ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষক অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুনকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৫ মার্চ) তার সম্মানে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিট কমান্ড, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি চট্টগ্রাম, প্রজন্ম ‘৭১ চট্টগ্রাম, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড চট্টগ্রাম মহানগর ও ইতিহাস সম্মিলনীর যৌথ উদ্যোগে চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে সংবর্ধনা সভার আয়োজন করে।

বালাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিট কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর আহমদের সভাপতিত্বে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক রাসেলের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী। প্রধান আলোচক ছিলেন চবির উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীন আখতার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন চবির সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. গাজী সালেহ উদ্দিন।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিটের ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শহীদুল হক চৌধুরী ছৈয়দ, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. সেকান্দর চৌধুরী, প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া, ইতিহাস সম্মিলনীর সভাপতি মোহাম্মদ সামসুল হক, সাধারণ সম্পাদক মোঃ বেলাল হোসেন, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার, মুক্তিযুদ্ধ পরিবার বর্গের চেয়ারম্যান মোঃ জসিম উদ্দিন চৌধুরী, জহুর আহমেদ চৌধুরী ফাউন্ডেশনের পরিচালক শরফুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী রাজু, , মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোঃ সরওয়ার আলম চৌধুরী মনি, মহানগর কমিটির সদস্য সচিব কাজী মুহাম্মাদ রাজিশ ইমরান, জেলা কমিটির আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার মশিউজ্জামান সিদ্দিকী পাভেল, বিজয় ৭১ সভাপতি সজল চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ডা. আর.কে রুবেল প্রমুখ। সংবর্ধনা সভার শুরুতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশ করেন নৈতিক স্কুলের শিক্ষার্থীরা।

সভায় চট্টগ্রাম মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর মুক্তি সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ডাকে সাড়া দিয়ে জীবনের মায়া ত্যাগ করে আমরা মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে বিশ্ব মানচিত্রে লাল সবুজের পতাকা প্রতিষ্ঠিত করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে আরো বেশি বেশি বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গবেষণা দরকার।’

সংবর্ধিত অতিথি অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছেন, স্বপ্ন দেখিয়েছেন এবং স্বপ্ন কার্যকর করিয়েছেন। তিনি যখন ঢাকায় রাজনীতি করা শুরু করেন, তখন অনেকেই তাঁর তুলনায় বড় মাপের রাজনীতিবিদ ছিলেন। কিন্তু তিনি সবাইকে ছাপিয়ে গিয়েছেন। দেখেছি সংগঠনের ওপর তিনি কী গুরুত্বারোপ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু সাংগঠনিক যে ভিত্তিটা গড়ে তুলেছিলেন সেটার ওপরেই ভর করে আজকে আমাদের পথচলা একথা বলেছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কাজের অনেক সুযোগ আছে। কিন্তু গবেষকের দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে না করলে তা কাজে দেবে বলে মনে হয় না। আর আমাদের একাডেমিক সার্কেলে আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে একটি তাচ্ছিল্যের ভাব আছে। জিয়াউর রহমানকে নিয়ে আশির দশকে গবেষণা করা হয়েছে। অথচ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কোনও বিশ্ববিদ্যালয় কোনও ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করেনি, কাজও করেনি। এটা সত্যিই খুব দুঃখজনক। তারা আওয়ামী লীগের সুবিধাটা নিতে চান, কিন্তু বঙ্গবন্ধু বা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কাজ করতে চান না। দুই-একটি সংকলন আমার চোখে পড়েছে। তবে গবেষণা আর সংকলন তো এক নয়। আওয়ামী লীগ পছন্দ করেন, সুবিধা নেন, কিন্তু আমার মনে হয়েছে, আমাদের এখানে প্রতিক্রিয়াশীলরা খুবই শক্তিশালী ‘

প্রফেসর ড. শিরীন আখতার বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বঙ্গবন্ধুই। বিভিন্ন সময় স্বাধীনতা বিরোধীরা বঙ্গবন্ধু ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে। কিন্তু রাবার দিয়ে ইতিহাস মোছা যায় না। বঙ্গবন্ধুকে হৃদয়ে ধারণ করতে হয়। অনেকে মানবে না। না মানুক, কী আসে যায়? তিনি তো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। জাতির জনক। আমি কী ভাবলাম, কে কি ভাবলো ইতিহাসের কিছু আসে যায় না।’

প্রেস রিলিজ

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ