শিরোনাম
চট্টগ্রাম রেলওয়ে পুলিশের সমন্বয় সভায় ট্রেনে যাত্রী সেবা বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ নিংশ্বাসের বন্ধু’র প্রথম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন চট্টগ্রামে ১৬-১৭ জুন থিয়েটার থেরাপি প্রয়োগ বিষয়ক রিফ্রেশার্স ট্রেনিং চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ে জরুরী রোগী ব্যবস্থাপনার দুই দিনের প্রশিক্ষণ শুরু চা শ্রমিক নেতা বাবুল বিশ্বাসের মৃত্যুতে চা শ্রমিক নেতাদের শোক প্রকাশ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর ভ্যাট চায় না চট্টগ্রাম সিটি ছাত্রদল বিডার কাছে ব্যবসায় সহজীকরণের উদ্যোগ চায় বিজিএমইএ মিরসরাই বঙ্গবন্ধু শিল্প নগরে বেপজার প্লট পেল বঙ্গ প্লাস্টিকসহ দেশি বিদেশি দশ প্রতিষ্ঠান ভারতীয় ভেরিয়েন্ট দেশে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডে উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে কাউন্সিলর শহিদুল আলম
মঙ্গলবার, ১৫ জুন ২০২১, ০১:৩৮ অপরাহ্ন

প্লেবেক থিয়েটার কথন

ওবায়দুল ইসলাম মুন্না / ১৭৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৮ জুন, ২০২১

প্লেবেক থিয়েটারে গল্প: প্লেবেক থিয়েটার ব্যক্তি বা সমষ্টিগত মানুষের কোন গল্প বা অনুভূতি তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থাপনের একটি স্বতঃস্ফুর্ত থিয়েটার কৌশল। এখানে নির্দিষ্ট বা অনির্ধারীত কোন বিষয়ে ব্যক্তি বা সমষ্টিজনের গল্প, অভিজ্ঞতা, বিশেষ অনুভূতি জীবন থেকে নেওয়া সত্য ঘটনাগুলো অভিনীত হয়ে থাকে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ভিন্ন-ভিন্ন জনগোষ্ঠীর সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংকট, তার সাথে ব্যক্তি ও সমষ্ঠিগত মানুষের সম্পর্ক, তা থেকে উত্তরনের পথ খুঁজতেও প্লেবেক থিয়েটারের ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

প্লেবেক থিয়েটারে গল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা ছাড়া প্লেবেক থিয়েটারের অস্তিত্ব কল্পনা করা কোনভাবেই সম্ভব নয়। প্লেবেক থিয়েটারে আগত দর্শকদের মধ্য থেকে যিনি গল্প বা অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন তাকে কথক (story teller) বলা হয়। কথক বর্ণিত ঘটনা, অনুভূতি বা অভিজ্ঞতার বর্ণনাই মূলত গল্প হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।দর্শকদের বলা গল্পগুলো তাদের জীবনে ঘটে যাওয়া কোন সত্য, তাদের দৈনন্দিন জীবনের পথ চলার অভিজ্ঞতা কিংবা পরম প্রত্যাশিত কিছু যা ঘটেনি কিন্তু ঘটবার প্রত্যাশা সে করে এমন ঘটনাও হতে পারে। কথকের গল্পের ধরণ এবং গল্প পরবর্তী সম্ভাব্য পরিস্থিতির আগাম পর্যালোচনা থেকেই প্লেবেক থিয়েটারের সঞ্চালক দলের সদস্যদেরকে নির্দিষ্ট ফর্ম বা কৌশল ব্যবহার করে ওই গল্প উপস্থাপন করে থাকেন। কিন্তু একটি গল্প কেবলমাত্র একটি গল্প নয়; এ থিয়েটারে একটি গল্পকে কার্যকরীভাবে উপস্থাপনের জন্য কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। প্লেবেক থিয়েটারে একটি গল্পকে মূলত ছয়টি অংশে বিভক্ত করা যায়, যথা:

সেটিং: প্লেবেক থিয়েটারে গল্প উপস্থাপনের জন্য সেটিং একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সার্বিকভাবে মঞ্চ, অভিনেতা, বাদ্যযন্ত্র এবং অন্য উপকরণগুলোর সম্মিলিত ও কার্যকরী উপস্থিতি সেটিংয়ের আওতায় আসে। অর্থাৎ, আয়োজনের বিভিন্ন উপাদানসহ ইতিবাচক পরিবেশ ও পারিপাশ্বিকতা নির্মাণের বিষয়টিকে প্লেবেক থিয়েটারে একটি গল্প উপস্থাপনের প্রথম অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

চরিত্র: প্লেবেক থিয়েটারে কথক যে গল্প বলেন, সেখানে বিভিন্ন চরিত্র থাকে। অভিনেতা দলের সঞ্চালক বিশেষ এবং গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলোর প্রতি মনযোগ দেন, সেগুলোকে চিহ্নিত করেন। কথকের সাথে আলাপচারিতার মাধ্যমে কোন চরিত্রটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বা কোন কোন চরিত্রকে তিনি অবশ্যই মঞ্চে দেখতে চান, সেই বিষয়ে সঞ্চালক কথকের সাথে আলাপচারিতার মাধ্যমে সিদ্ধান্তে আসেন। চরিত্রগুলোর মধ্যে সাধারণত কথকের চরিত্রটিই প্রধান চরিত্র হিসেবে বিবেচিত হয়; কেননা কথক অধিকাংশ ক্ষেত্রে তার নিজের জীবনের ঘটে যাওয়া ঘটনাই বর্ননা করে থাকেন। গল্পের চরিত্র নির্ধারণ চূড়ান্ত হলে কথক অভিনেতাদের মধ্য থেকে বিভিন্ন জনকে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করার জন্য পছন্দ করেন। একটি প্লেবেক থিয়েটার দলে মঞ্চে অভিনেতা হিসেবে যে কজন থাকেন, তারা সকলেই কোন না কোন চরিত্রে অভিনয়ের জন্য যেমন নির্দিষ্ট হতে পারেন; আবার দুই একজন হয়তো কোন নির্দিষ্ট চরিত্রের জন নির্ধারীত না হয়ে উন্মুক্ত চরিত্র বা ফ্রি রোল অথ্যাৎ গল্পের প্রয়োজনে নির্ধারীত চরিত্রগুলোর বাইরে অন্য যে কোন এক বা একাধিক চরিত্রে অভিনয় করতে পারেন।

প্লট: গল্পের প্লট যে কোন ধরনের থিয়েটারেই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। প্লেবেক থিয়েটারে কথক যে গল্প বলেন তার প্লট বা মূলভিত্তি সম্পর্কে দলের সঞ্চালক, অভিনেতা, মিউজিশিয়ান সকলেই নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করেন। গল্পের প্লটের উপর নির্ভর করে সঞ্চালক ওই গল্পটিকে কোন ফর্মের মাধ্যমে উপস্থাপন করবেন, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। কথকের বর্ণিত গল্পের মূলভিত্তিটি কখনো গভীর আবেগের উপর ভিত্তি করে কিংবা অতি সাধারণ কোন প্রত্যাশার সাথেও সম্পৃক্ত এমনও হতে পারে। প্লেবেক থিয়েটার দলটি কথকের গল্প বলার সময় অত্যন্ত মনযোগ দিয়ে তা শুনেন। সঞ্চালক প্রয়োজনে কথকের কাছ থেকে কিছু বিষয় প্রশ্নের মাধ্যমে জেনে নেন এবং সার্বিকভাবে গল্পের প্লট সম্পর্কে প্রায় নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করেন।

গুরুত্বপূর্ণ বা প্রভাব বিস্তারকারী উপাদানসমূহ: প্লেবেক থিয়েটারে কথকের গল্পের ভেতর বিভিন্ন চরিত্র ছাড়াও অন্য নানা ধরনের উপাদানসমূহের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। যে সব উপাদানসমূহ ওই গল্প এবং চরিত্রসমূহের উপর যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করতে পারে। উপাদানসমূহ দৃশ্যমান বা অদৃশ্য উভয়ই হতে পারে। বিভিন্ন জিনিসপত্র, বই, মোবাইল ফোন, হাতের আংটি, ঘরের জানালা, হাতঘড়ি, বিমানের পাখা, টয়লেটের দরজা, চা বা কফি খাওয়ার মগ ইত্যাদি দৃশ্যমান বস্তুর বাইরে অদৃশ্য কোন উপাদানের উপস্থিতিও থাকতে পারে। দলের সঞ্চালক এবং অভিনেতারা গভীর মনযোগের সাথে উপাদানসমূহ চিহ্নিত করেন; কোন উপাদানটি বা উপাদানসমূহ গল্পে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে, তা বিবেচনা করেন এবং মঞ্চে তা উপস্থাপন করে থাকেন। উল্লেখ্য, এ ধরনের থিয়েটারে অভিনেতারা সৃজনশীলভাবে এবং অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ওই উপাদানসমূহের চরিত্রেও অভিনয় করে থাকেন। চরিত্রগুলো এখানে কথা বলতে পারে, শব্দ করতে পারে, তার অনুভূতি প্রকাশ করতে পারে।

আবেগ : কথকের গল্পের সাথে সম্পৃক্ত আবেগ বিষয়টি প্লেবেক থিয়েটারের যে কোন গল্পেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। প্লেবেক থিয়েটার দল কথকের প্রকাশিত বা অপ্রকাশিত গভীর আবেগের সাথে নিজেদের আত্মিক সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেন। ছোট ছোট গল্পে যেখানে কথক কেবলমাত্র তার অনুভূতি প্রকাশ করে থাকেন, সেখানেও আবেগের বিষয়টি সম্পৃক্ত। অনুভূতি সাধারণত শারীরীক ও মানসিক উভয় ক্ষেত্রেই হতে পারে। কিন্তু আবেগ বিষয়টি মূলত মানসিক এবং এটি স্বতঃস্ফুর্তভাবেই সৃষ্টি হয়ে থাকে; তাই আবেগকে অনুভূতির উৎস বলা যেতে পারে। চেতনার যে অংশটি অনুভূতি বা সংবেদনশীলতার সাথে সম্পর্কযুক্ত সেই আবেগ বিষয়টির খুব কাছাকাছি অভিনেতারা পৌঁছে যান এবং অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ওই আবেগের প্রকাশ ঘটে থাকে। কথক তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থাপিত নাট্য ক্রিয়ার মাধ্যমে গল্পের রস উপভোগ করেন এবং তার ফলে আবেগ বিষয়টি প্রভাবিত হয়ে থাকে।

মূল ভাবনা বা বিষয় : প্রত্যেকটি গল্পেরই একটি মূল বিষয় বা থিম থাকে। বিষয়টি কথক কখনো কখনো সরাসরী নির্দিষ্ট করে দেন; আবার কখনো বা তিনি ঠিক সুনির্দিষ্ট করতে পারেন না। যদি কথক তার মূল বিষয়টিকে নির্দিষ্ট করতে না পারেন সে ক্ষেত্রে কথকের বলা গল্প থেকে সঞ্চালক, অভিনেতা এবং যন্ত্র শিল্পীগন একটি থিম ভেবে নেন। সঞ্চালক প্রয়োজনবোধে কথকের সাথে তার ভেবে নেওয়া থিমটি শেয়ার করতে পারেন এবং তার সম্মতি গ্রহণ করতে পারেন। এমনো হতে পারে যে, সঞ্চালক যে থিমটি ভেবেছেন কথক সেটিকে কিছুটা সংশোধন করে দিলেন কিংবা নতুন করে অন্য কোন থিম বললেন। তাই প্লেবেক থিয়েটারে থিম নির্দিষ্ট করা খুবই প্রয়োজন; যার উপর নির্ভর করে প্লেবেক থিয়েটার দলটি কথকের গল্পের উপস্থাপনকে অনেক কার্যকরী করতে পারেন। কথকের আবেগ, অনুভূতির সাথে নিজেদের শৈল্পিক উপস্থাপনকে সংযুক্ত করতে পারেন।

পরিশেষে বলা যায়, একটি গল্পের উপস্থাপনাকে কথকের কাছে অধিক গ্রহণযোগ্য করতে প্লেবেক থিয়েটার দলের প্রত্যেকটি সদস্যকে উপরোক্ত বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে। মনে রাখতে হবে, একটি গল্পের প্রত্যেকটি অংশের সমন্বয় এক দিকে যেমন তার সৃজনশীল উপস্থাপনাকে সমৃদ্ধ করে; তেমনি কথকের বর্ণিত গল্পের মূল বিষয়বস্তুর প্রতিফলনের মাধ্যমে তার গভীর আবেগ ও অনুভূতিকে স্পর্শ করা সম্ভব হয়। আর এভাবেই প্লেবেক থিয়েটার একদিকে শিল্প এবং অন্য দিকে সেবার পথে এগিয়ে যায় সমান্তরালভাবে।

লেখক: প্লেবেক থিয়েটার অনুশীলক;
বাংলাদেশ

add

আপনার মতামত লিখুন :

One response to “প্লেবেক থিয়েটার কথন”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ