শিরোনাম
এস আলম গ্রুপের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পুলিশের গুলিতে শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ গ্যালাক্সি এম০২ হ্যান্ডসেটে ১০০ দিনের রিপ্লেসমেন্ট ওয়্যারেন্টি দিচ্ছে স্যামসাং বাঁশখালীতে গুলি করে শ্রমিক হত্যা; সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট চট্টগ্রামের তীব্র নিন্দা আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্থগিতকরণ প্রভাব ফেলছে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ ও অন্য মেগা প্রকল্পে বাঁশখালীতে এস আলম গ্রুপের কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে শ্রমিক নিহতে খেলাফত মজলিসের নিন্দা বীমা খাতে প্রথম ‘তিন ঘন্টায় কোভিড ক্লেইম ডিসিশন’ সার্ভিস চালু মেটলাইফের মুজিবনগর সরকারের ৪০০ টাকার চাকুরে জিয়ার বিএনপি ইতিহাসকে অস্বীকার করতে চায় ধারাবাহিক ছোট গল্প: পতিতার আলাপচারিতা । পর্ব পাঁচ এস আলম গ্রুপের কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে পুলিশের গুলিতে শ্রমিক হত্যার নিন্দা ও বিচার দাবি সাতকানিয়ায় সোয়া কোটি টাকার ৩৮ হাজার ইয়াবাসহ ট্রাক চালক ও হেলপার গ্রেফতার
রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন

প্রোস্টেট গ্রন্থির প্রদাহ, কারণ এবং চিকিৎসায় হোমিও প্রতিবিধান

ডা. মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ / ৯৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১২ নভেম্বর, ২০২০

প্রোস্টেট একটি নলাকার ও বায়ুস্থলী গ্রন্থি। পুরুষদের ইন্টারনাল অর্গানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ প্রস্টেট। এটা না থাকলে মানুষের জীবন শুধু ঝুঁকিপূর্ণ হয় তাই নয়, পুরুষের সুখময় দাম্পত্য জীবনে প্রোষ্টেটের রয়েছে এক অনবদ্য ভূমিকা। এ প্রস্টেটের নানা সমস্যা ও নানা রোগ রয়েছে।

প্রোস্টেট কাকে বলে: প্রোস্টেট গ্রন্থিটি দেখতে অনেকটা বড় কাজু বাদামের মত, এটা থাকে মূত্রথলির ঠিক নীচে। এতে এসে প্রবেশ করে শুক্রবাহী নালী ও মূত্রনালী। এটার একটি নিজস্ব নিঃসরণ আছে। এছাড়াও এটার সঙ্গে এসে মিলিত হয় বীর্যস্থলির রস ও শুক্ররস। এটাতে আছে অনেক গ্ল্যান্ড, ভাকট এবং পেশী। এটার উপরের অংশকে কার্টেক্স বলে। প্রোস্টেট গ্রন্থিটি বেশ শক্ত বলে মনে হয়। তবে এটা আকারে অনেক সময় ছোট বড় হতে পারে। এটা মূত্রথলির গ্রীবা দেশের যে স্থান হতে মূত্রনালী আরম্ভ হয়েছে, সেই গ্রীবাদেশকে বেষ্টন করে আছে। প্রোস্টেট গ্ল্যান্ড হতে দুধের মত অথবা বর্ণহীন এক প্রকার তরল রস নিঃসরণ হয় সেই রস সংগমকালীন রেত প্রবাহকে সহায়ত করে। কোন কারণে এই প্রোস্টেট গ্ল্যান্ডের প্রদাহ হলে তাকে বলে প্রস্টাইটিস। এই পীড়ায় অনেক সময় রোগীর মূত্রবন্ধ হয়ে যেতে পারে।

কারণ: বহু কারণে প্রোস্টেট গ্রন্থির প্রদাহ হতে পারে। যেমন- কোন আঘাত লেগে, সাইকেল, স্কুটার, ঘোড়ায় চড়ার সময় কোন শক্ত জিনিসের উপর বসা, হস্থ মৈথুন ইত্যাদি কারণে এই রোগ হতে পারে। এ ছাড়া প্রোস্টেট গ্রন্থির নিকটস্থ কোন যন্ত্রের প্রদাহ হতে যেমন- ইউরেথ্রাইটিস, মূথথলিতে পাথরী, মূত্রনালীর সংকোচন, বাত, গেটে বাত, সিফিলিস (গনোরিয়া) এবং কোন উত্তেজক ওষুধ সেবন ইত্যাদি কারণেও এটা হতে পারে। অনেক সময় প্রস্রাব দোষ নিবারণের জন্য বিভিন্ন প্রকারের উত্তেজক ওষুধ দিনের পর দিন ব্যাপক মাত্রায় ব্যবহার করার ফলে এ রোগ বেশি দেখা দেয়।

লক্ষণ: রোগীর ক্রমাগত কষ্টকর প্রসাবের বেগ হয়, বার বার প্রসাব ত্যাগের চেষ্টা করে কিন্তু অতি সামান্য নিঃসরণ হয়। অনেক বার কুন্থনের পর ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব পড়ে। প্রত্যেক বারই এ প্রকার নিস্ফল চেষ্টার পর ক্রমশ যন্ত্রণার বৃদ্ধি। প্রস্রাব মূত্রথলির মধ্যে আবদ্ধ থাকে বলে প্রদাহের মাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং রোগী যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে চিৎকার করতে থাকে। প্রোস্টেট গ্ল্যান্ড স্ফীত হয়ে উঠার জন্য রেক্টামের উপর প্রচন্ড চাপ পড়ে। এর ফলে রোগীর মলত্যাগেও কষ্ট হয়।
প্রোস্টেট গ্রন্থি প্রদাহিত হলে রোগী মূত্রথলির গ্রীবাদেশে বেদনা অনুভব করে। আক্রান্ত স্থান গরম হয়, পেরিনিয়াম ও রেক্টামে এক প্রকার দপদপানি বেদনা থাকে। এই বেদনা ও যন্ত্রণা ধীরে ধীরে কোমর ও পায়ের দিকে প্রসারিত হয়। বিশেষ করে চল্লিশোর্ধ পুরুষের বছরে অন্ততঃ এক বার স্বাস্থ্যের অন্য পরীক্ষার পাশাপাশি প্রোস্টেট পরীক্ষা করানো উচিত।

এ সব উপসর্গ থাকলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নিশ্চিত করতে হয়।

সাধারণত যে সব পরীক্ষা করা হয় তা হলো: প্রস্রাবের রুটিন, মাইক্রোসকপিক ও কালচার সেনটিভিটি পরীক্ষা, আল্ট্রাসোনোগ্রাম, কেইউবি এক্সরে-ইউরোফ্লোমেট্রি, সিরাম পিএসএ সটোমেট্রাগ্রাম বা ইরোডাইনামিক স্টাডি ইত্যাদি।

চিকিৎসা পদ্ধতি: প্রোস্টেটের গ্রন্থির সমস্যার ক্ষেত্রে দুই ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করা যায়। একটি হলো ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে এবং অন্যটি হলো অপারেশন করে। অপারেশন আবার দুই প্রকার। একটি প্রস্রাবের রাস্তা দিয়ে যন্ত্রের সাহায্যে অন্যটি পেট কেটে। কোন্ রোগী কোন্ পদ্ধতির জন্য উপযুক্ত, তা চিকিৎসক নির্ধারণ করবেন।

হোমিওপ্রতিবিধান: রোগ নয়, রোগীকে চিকিৎসা করা হয়। এ জন্য এক জন অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসক রোগীর রোগের সব লক্ষণ নির্বাচন করতে পারলে, আল্লাহর রহমতে প্রোস্টেট গ্রন্থি রোগীর চিকিৎসা দেয়া হোমিও চিকিৎসায় সমম্ভ। ক্ষেত্রে বিশেষে প্রোস্টেট বৃদ্ধিজনিত উপসর্গসমূহ ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে উপশম লাভ করা যায়। সাদারণত দুই গ্রুপের ওষুধ প্রয়োগ করা যায়। এর এক গ্রুপ ওষুধ প্রোস্টেটের মাংশ পেশীসমূহ শিথিল করে প্রস্রাবের বাধা দূর করে।

লেখক:
স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা, হিউম্যান রাইটস রিভিউ সোসাইটি কেন্দ্রীয় কমিটি
কো-চেয়ারম্যান, হোমিওবিজ্ঞান গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র

চট্টগ্রা।

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ