বৃহস্পতিবার, ০৬ মে ২০২১, ১০:০৭ অপরাহ্ন

প্রিয়দের মধ্যে প্রিয় চলচ্চিত্র নির্মাতা ঋত্মিক ঘটকের মৃত্যু দিবস আজ

নুরুন্নবী নুর / ৯৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শনিবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

‘করতে করতে ম্যাচুরিটি অর্জন করা চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের চেয়ে প্রথম সিনেমায় ম্যাচুরিটিতে ভরপুর ঋত্বিক ঘটককে মনে হয়।’ কথাটা সত্যজিৎ প্রেমী দর্শকদের কাছে একটু অবান্তর মনে হলেও আমার কাছে আসমান-জমিন সত্যের মত লাগে। চলচ্চিত্রের মানুষগুলোকে অনেক আগে থেকে জানার চেষ্টা করছি, এখনও সে জানার প্রাথমিক পর্যায়ে অবস্থান করছি। উদ্ধৃতিতে থাকা আমাকে এমন একটা কথা লিখতে হবে, কখনও ভাবিনি।

চলচ্চিত্র চর্চার শুরুর দিকে আমার কাছে সত্যজিতের ‘পথের পাঁচালী’র চেয়ে ‘নাগরিক’ কেন অতোটা এগিয়ে আছে বা স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে হয়, তার কোন ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ করার সুযোগ হয়নি বা সে বয়সটা এখনও অনুভব করি না। শুধু একজন সাধারণ দর্শকের জায়গা থেকে এমনটা ভাবা বোধহয়, দোষের কিছু নয়! ঋত্বিক ঘটক যখন দেখেছি, তখন থেকে নিজেকে এমন ভাবপ্রবণ ভাবতে শুরু করেছি। আর সত্যজিৎ বাবু চলচ্চিত্রের বাঁধাধরা নিয়মগুলো আত্মস্থ করিয়েছেন বেশি।

কালজয়ী নির্মাতা দুইজনই আমার কাছে সমান জনপ্রিয়। কিন্তু বারবার ঋত্মিকের দিকে লেখার উপকরণটা দৌঁড়াতে চায়। এমন চাওয়াটা আমি বেশ উপভোগ করি। সে জন্য নিজের দুর্দিনেও চলচ্চিত্র চর্চায় নিজেকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করি। হয় কলমের মধ্য দিয়ে, নয় ক্যামেরার মধ্য দিয়ে, তবে অনুশীলন বা চর্চা আমি করি, চেষ্টাটা চালিয়ে যাই।

সত্যজিৎ ও ঋত্বিক বাবু সম্পর্কে চলচ্চিত্র চর্চার শুরুর দিকের এমন ধারণা অর্থাৎ ম্যাচুরিটির বিষয়টা কার কখন তৈরি হয়েছিল, সেটা জানার উৎকণ্ঠা আমার আজীবন থেকে যাবে। আমি কোনো জানা লোক নই, আমি মাত্র জানতে উদগ্রীব হয়েছি। যা আমার মনে হয়, তা আমার সিদ্ধান্ত নই। সকলের সিদ্ধান্ত আর আমার মনে হওয়া এক হলে হয়ত তখন ভাবের বিষয়টির সমাধানের একটি উৎকৃষ্ট পথ পাবে। মেনে নিতে হবে আমাকে ও সকলকে।

বেশ কিছুদিন ধরে এমন ভাবনাটা মনের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছিল। করোনাকালীন কোথাও বলারও সুযোগ হয়নি। সুযোগ হলেও এমন ভাবনা আসেনি। আজকে ঋত্বিক বাবুর মহাপ্রয়াণ দিবসে এমন ভাবনাটা সকলের কাছে বলাই যাই। যদি কোন শ্রদ্ধেয় চলচ্চিত্রতাত্ত্বিকের এমন বিষয় নিয়ে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ বা আলোচনা-সমালোচনা থেকে থাকে; এমন ভাবনা থেকে, তারা যদি আমাকে বের করে আনেন বা একটু সুষ্ঠু ধারণার সাথে পরিচয় ঘটান, কৃতজ্ঞ থাকব। অবশ্য ভাবনার বিষয়টি নিয়ে আমিও ব্যক্তিগতভাবে সমাধান বের করার জন্য শেষ অব্দি যেতে আগ্রহী। অন্যের ভাবনার সাথে নিজের শেষটা মিলিয়ে কে কোন্ অবস্থানে আছেন, হয়ত কিছুটা হলেও জানতে পারব।

লেখার সমাপ্তিতে স্মরণ করছি মহান দুই চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় ও ঋত্বিক ঘটককে, যাদের অশেষ অবদানে বাংলা চলচ্চিত্রের একটি প্রাচীন ইতিহাস গড়ে উঠেছে। আমরা নবীন শিক্ষার্থীদের বেশি বেশি সত্যজিৎ-ঋত্বিক চর্চা করতে হবে, তবেই বাংলা চলচ্চিত্র একটি উর্বর জায়গায় পৌঁছাবে।

আজ প্রিয়দের মধ্যে প্রিয় চলচ্চিত্র নির্মাতা ঋত্মিক ঘটকের মৃত্যু দিবস। তিনি বাংলাদেশের ঢাকার জিন্দাবাজারে ১৯২৫ সালের ৪ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। আর মৃত্যুবরণ করেন ১৯৭৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি কলকাতায়, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত। মহাপ্রয়াণ দিবসে নির্মাতার প্রতি রইলো বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

২০২০ সালে বিভাগীয় কাজ (নাট্যকলা, চবি) ঋত্বিক ঘটককে নিয়ে ‘অসমাপ্ত ঋত্বিক’ নামে একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেছিলাম। যার সাব-টাইটেলের কাজ অসম্পূর্ণ থাকাতে তেমন কোনো চলচ্চিত্র উৎসবে পাঠাইনি। তবে বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে পাঠানোর ও দেখানোর পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে (ইউটিউব-The Diary of Nur) দেয়ার আশা আছে।

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ