ঢাকাবুধবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

প্রবৃদ্ধির আসক্তিতে মত্ত সরকার কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যর্থ হয়েছে

পরম বাংলাদেশ ডেস্ক
মে ১০, ২০২১ ১২:২২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

চট্টগ্রাম: কর্মসংস্থানমুখী উন্নয়ন বাজেটের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ যুব চট্টগ্রাম জেলা।

সোমবার (১০ মে) বিকালে সিনেমা প্যালেস চত্বরে এ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি রিপায়ন বড়ুয়ার সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল শিকদার, টুটন দাশ, জাবেদ চৌধুরী, রুপন কান্তি ধর, রাশিদুল সামির, জুয়েল বড়ুয়া, মিটুন বিশ্বাস, অভিজিৎ বড়ুয়া প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘প্রবৃদ্ধির আসক্তিতে মত্ত সরকার কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যর্থ হয়েছে। যে কোন প্রক্রিয়ায় প্রবৃদ্ধির সুচক সংখ্যা পূরণে সরকারের যে প্রচেষ্টা, তা নিছক ব্যর্থতাকে আড়ালের কৌশল মাত্র। গত বছর করোনার অভিঘাতে চাকরিচ্যুত হয়েছিল শতকরা ৩৬ জন মানুষ। অনেকের চাকরি থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত বেতন-ভাতা পান নি। করোনা সংকটে দীর্ঘ দিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়েই বিপদগ্রস্ত আছে এখনো। কোভিড-১৯ এর কারণে নতুন করে দারিদ্র্য বাড়ছে। বিআইডিএস বলছে, ‘নতুন এক কোটি ৬৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের কাতারে যুক্ত হয়েছে। অর্থনৈতিক কার্যকলাপ বন্ধ বা মন্দার কারণে জনগণের চাকরির ক্ষতি হচ্ছে, নিয়মিত বেতন না পাওয়া, কম বেতন পাওয়া বিশেষ করে বেসরকারী চাকুরিজীবীদের বেলায় এমনটি ঘটছে। অনেক নিম্ন আয়ের মানুষ গ্রামে ফিরে গেছেন সময়ের সাথে তাল মেলাতে না পেরে। চাকরির বাজার হ্রাস পাবার কারণে অনেক তরুণকে হতাশার মধ্যে ফেলেছে। যুবকরা আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এ জন্য আমাদের প্রয়োজন পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ প্রদান করা। আমাদের একটি গণমুখি এবং কর্মমুখি বাজেট প্রণয়ন করা জরুরি। যুব ইউনিযন সেই দাবিকেই সামনে নিয়ে এসেছে।’

বক্তরা আরো বলেন, ‘আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা শ্রমবাজারের জন্য দক্ষ এবং প্রশিক্ষিত দক্ষ কর্মীদের চাহিদা মেটাতে সক্ষম নয়। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির পড়াশোনা বিশেষ দক্ষতার অভাবে পড়াশুনা সম্পন্ন তরুণ-তরুণীদের চাকরির বাজারের চাহিদা মেটাতে পারছে না। কলেজের স্নাতকদের মধ্যে মাত্র ১৯ শতাংশই পূর্ণকালীন বা খণ্ডকালীন কর্মরত, প্রায় অর্ধেক বেকার রয়েছে। অধিকন্তু, যুব নারী গ্র্যাজুয়েটদের বেকার হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি এবং স্নাতকোত্তর হওয়ার দুই বছর পরে দেখা গেছে নারী স্নাতকদের ৩৩ শতাংশ পুরুষ স্নাতকের বিপরীতে বেকার রয়েছেন বলে বিভন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুবকদের বেকারত্বকে অর্থনীতির একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি আমাদের বিভিন্ন নীতিমালাগুলোতে। জাতীয় যুবনীতি ২০১৭ এ যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে যথেষ্ট মনোযোগ দেয়া হয়নি। নীতিমালায় তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হলেও কোন কার্যকর পরিকল্পনা নেই।’

বক্তারা বলেন, ‘আমরা বেকারত্বের অভিশাপ দেখতে চাই না, আমরা যুবকদের হতাশ দেখতে চাই না, আমরা যুবকদের উদ্যোগী হিসেবে দেখতে চাই। তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি। এ জন্য নতুন চাকুরি সৃষ্টি করা বা কর্মসংস্থানের উদোগ গ্রহণের জন্য বাজেটে একটি বিশেষ বরাদ্দ রাখা এখন সময়ের দাবি। বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিয়ে বিভিন্নভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য একটি কার্যকর উপায় বের করতে হবে।’

প্রেস বার্তা

Facebook Comments Box