বৃহস্পতিবার, ০৬ মে ২০২১, ০৯:৪৩ অপরাহ্ন

প্রধানমন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে ‘কক্সবাজার ইউনিভার্সিটি’ দখল আওয়ামী লীগের সালাহ উদ্দীন আহমদের

পরম বাংলাদেশ ডেস্ক / ১৪৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২০

চট্টগ্রাম: প্রধানমন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা সালাহ উদ্দীন আহমদের বিরুদ্ধে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি দখলের অভিযোগ উঠেছে। চক্রান্তকারী ও পদলোভী এ সালাহ উদ্দীনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়টি আজ ধ্বংসের প্রান্তে। প্রতিষ্ঠাতাদের হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম, মেধা ও সর্বস্ব অর্থ ব্যয় করে দাঁড় করানো বিশ্ববিদ্যালয়টির আজ করুণ অবস্থা। অতীতে ছিলেন চেয়ারম্যান কিন্তু এখন প্রতিষ্ঠাতা দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছেন তিনি। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শত শত শিক্ষার্থী নানা শঙ্কা ও বিপাকে পড়েছেন।

সোমবার (২১ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা তুলে ধরেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ট্রাস্টি বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আব্দুস সবুর, আব্দুল মাবুদ, জসিমূল আনোয়ার খাঁন ও অধ্যাপক নুরুল বশর ভূঁইয়া প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা অভিযোগ করে বলেন, ‘সালাহ উদ্দীন আহমদ প্রতিষ্ঠাতা দাবি করে ভিসি নিয়োগসহ জবরদখল ও লুটপাট করে ক্ষমতার অপব্যবহার করে চলেছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য মাহবুবা সুলতানা বলেন, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী কোনো বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদনের ক্ষেত্রে ট্রাস্ট গঠন বাধ্যতামূলক। এ জন্য ২০১৩ সালের ২৭ জুন ‘কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ট্রাস্ট’ রেজিস্ট্রেশন করা হয়। এ ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের সংখ্যা ছিল ১০ জন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে চলতি বছরের ২০ মে পর্যন্ত এ ট্রাস্টের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন সালাহ উদ্দীন আহমদ।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে অবদান রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় সংখ্যাগরিষ্ঠ ট্রাস্টি সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে গত ২০ মে তাঁকে চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে কক্সবাজার এক আসনের সাংসদ জাফর আলমকে চেয়ারম্যান মনোনীত করা হয়। বিষয়টি সহজভাবে মেনে নিতে পারেননি সালাহ উদ্দীন আহমদ। ফলশ্রুতিতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সেক্রেটারি ও উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠাতা মো. মুজিবুর রহমানের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। এমনকি করোনাকালীন কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজেসে অন্যায়ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে একচ্ছত্র রাজত্ব কায়েম করেন। এমনকি নিজেকে দাবি করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা। পরবর্তী কিছু শিক্ষক ও কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দিয়ে ভিসি নিয়োগসহ অনিয়মে বাণিজ্য শুরু করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে ট্রাস্টি সদস্যরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা পূনঃনির্ধারণের জন্য সাবেক চেয়ারম্যান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি আবেদন করেন। অথচ প্রপোজাল বুক, ডীড অব ট্রাস্ট, অঙ্গিকারনামাসহ গত সাত বছরের সব ডকুমেন্ট অনুযায়ী সিবিআইইউর উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা মো. মুজিবুর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নীতিমালা অমান্য করে একক সিদ্ধান্তে ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে প্রফেসর ড. গোলাম কিবরিয়া ভূঁইয়া, একাডেমিক এডভাইজার হিসেবে একজন কলেজ শিক্ষক একেএম গিয়াসুদ্দীন, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর হিসেবে ড. খান সরফরাজ আলী, রেজিস্ট্রার হিসেবে খন্দকার এহসান হাবীব, পরিচালক (অর্থ) হিসেবে জসিম উদ্দীন নামের একজনসহ শিক্ষা ও প্রশাসনিক পদে অনেক অযোগ্য ও অদক্ষ লোকক নিয়োগ দিয়েছেন। এমনকি শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী উখিয়ার জনসভায় সিআইপি সালাহ উদ্দীন আহমদের নাম উল্লেখ করায় সাত বছর পর নিজেকে প্রতিষ্ঠাতা দাবি করেছেন। এটা নিতান্তই প্রধানমন্ত্রীর সাথে প্রতারণার শামিল বলেও উল্লেখ করেছেন।

ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নিয়োগ বাণিজ্যের পাশাপাশি ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের ভয়-ভীতি দেখাচ্ছেন সালাহউদ্দীন।

সদস্যরা আরো জানান, এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসিতে অভিযোগ দিলে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় ইউজিসির পক্ষ থেকে। সেই কমিটির তদন্ত চলমান।

অভিযুক্ত সালাহউদ্দীন ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় তাঁর অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে ভয় পাচ্ছেন উল্লেখ করে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেন লায়ন মুজিবুর রহমান।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ