শিরোনাম
সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ১২:০২ অপরাহ্ন

প্রতিনিয়তই চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছি আমরা, মানুষকে আগে নিজের ভালো বুঝতে হবে

মোহাম্মদ আলী / ১৯৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শনিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২০

মো. আলী হাসান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, চট্টগ্রামের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (বিসিএস ৩৬ ব্যাচ, প্রশাসন)। হোটেল-রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, কনোনা প্রতিরোধে সরাসরি মাঠে কাজ করছেন তিনি। করোনায় নিজেও আক্রান্ত হয়েছেন। তবুও থেমে নেই এ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। সমসাময়িক বিভিন্ন প্রসঙ্গে শনিবার (৫ ডিসেম্বর) তিনি পরম বাংলাদেশ এর মুখোমুখী হয়েছেন।

পরম বাংলাদেশ: করোনা ভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কি কি পদক্ষেপ নিয়েছে?

আলী হাসান: জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম যেমন অত্যন্ত কঠোরতার সাথে প্রথম ওয়েভ মোকাবেলায় সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে, ঠিক তেমনি দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায়ও সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। শুধুমাত্র মহানগরে প্রতিনিয়ত ছয়টি টিম স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন ও মাস্ক পরিধান নিশ্চিতকল্পে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে। এছাড়াও উপজেলাতেও ইউএনও স্যার এবং এসি ল্যান্ড স্যারেরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি জনগণের মধ্যে ইতোমধ্যে ৪০ হাজারেরও বেশি মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে। জনসচেতনতার জন্য প্রত্যেকটি পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সকলকে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও প্রত্যেকটি ফিজিকাল মিটিং, জুম মিটিং, ওয়ার্কশপ বা সেমিনারে এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে জানানো হচ্ছে।

পরম বাংলাদেশ: এ পদক্ষেপগুলো যথেষ্ট কিনা?

আলী হাসান: আমি মনে করি, জেলা প্রশাসন যে কাজ করছে সেটা যথেষ্ট। সর্বোপরি জনগণের নিজ থেকে নিজের জন্য সচেতন হওয়াটা জরুরি।

পরম বাংলাদেশ: শীতে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধির আশংকা করা হলেও মানুষকে স্বাস্থ্য বিধি মানাতে পারছে না কেনো প্রশাসন?

আলী হাসান: জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম নানাভাবে, নানা উদ্যোগে মানুষকে করোনার দ্বিতীয় ওয়েভ মোকাবেলার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। মানুষকে আগে নিজের ভালো বুঝতে হবে। নিজেদের ভালোর জন্য জেলা প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে হবে। এটা কোন একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয় করোনা মোকাবেলায় জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতন করা। তারপরেও আমরা কাজ করছি বলেই মানুষ আগের চেয়ে এখন বেশি সচেতন।

পরম বাংলাদেশ: করোনার সাথে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্যের উচ্চগতিতে সাধারণ মানুষ দিশেহারা। দ্রব্য মূল্য মানুষের নাগালে রাখতে জেলা প্রশাসনের কোনো প্রচেষ্টা সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে না কেনো?

আলী হাসান: দ্রব্যমূল্যের উদ্ধগতি যে কোনো একটা কারণের উপর নির্ভর করে না। অনেক ফ্যাক্টর এখানে জডিত৷ দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতির বিষয়ে আমরা বরাবরের মতোই সচেষ্ট। চাল, ডাল, তেল, পেয়াজ, আদা, আলুর মূল্য বৃদ্ধির সাথে সাথেই জেলা প্রশাসন খাতুনগঞ্জ, রিয়াজুদ্দিন বাজার, পাহাড়তলী ও অন্যান্য বাজারে অভিযান চালিয়েছে। অভিযুক্তদেরকে জরিমানা করা হয়েছে৷ এরই ফলে মূল্যবৃদ্ধি অনেকটা কমেছে যা ক্রেতাদের ক্রয় সীমার মধ্যে রয়েছে।

পরম বাংলাদেশ: দ্রব্য মূল্যের লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধি তথা বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ব্যর্থ। এমন অভিযোগের জবাবে আপনি কি বলবেন?

আলী হাসান: এটা সঠিক নয়। এ ব্যাপারের আমি দ্বিমত পোষণ করছি। দেখুন, বর্তমানে বাজারে যে স্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করছে, সেটা জেলা প্রশাসনের অভিযানের ফলেই হয়েছে। কাজেই জেলা প্রশাসন ব্যর্থ এমনটি বলার সুযোগ নেই।

পরম বাংলাদেশ: চট্টগ্রামের বেসরকারী হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোতে এতো অনিয়মের কারণ কি? জেলা প্রশাসন কি করে?

আলী হাসান: স্বাস্থ্যখাতের বিষয়টি দেখার জন্য ভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক মহোদয়, সিভিল সার্জন মহোদয় জেলা প্রশাসনকে সাথে নিয়েই বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে জনগণকে সেবাদানের বিষয়ে নজর রাখছে। অনিয়ম পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আর্থিক জরিমানাও করা হয়েছে ইতোমধ্যে।

পরম বাংলাদেশ: বেসরকারী হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোকে সরকারী নীতিমালার আওতায় এনে মানুষের মৌলিক অধিকার স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতের দাবি উঠেছে। এ ক্ষেত্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে আপনার বক্তব্য কি?

আলী হাসান: জনস্বার্থে সরকার এই বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নিবে সেটি অবশ্যই যৌক্তিক সিদ্ধান্তই হবে।

পরম বাংলাদেশ: অভিযোগ উঠেছে করোনা মোকাবেলায় প্রশাসনের পদক্ষেপ মানুষকে হতাশ করেছে। আপনার মতামত কি?

আলী হাসান: করোনা মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের পদক্ষেপ যে মানুষকে হতাশ করেছে এমনটি আগে শুনি নাই। আজই প্রথম শুনলাম। করোনা প্রতিরোধে জেলা প্রশাসনের পদক্ষেপ ইতোমধ্যে সকল মহলে প্রশংসিত হয়েছে এমনটিই জানি।

পরম বাংলাদেশ: করোনা মোকাবেলায় মানুষকে মাস্ক পরিধানে সরকারী নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে পারছে না কেনো প্রশাসন?

আলী হাসান: মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করতে মহানগরে জেলা প্রশাসনের ছয়টি টিম ও উপজেলাতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এসি (ল্যান্ড) স্যারেরা প্রতিনিয়ত অভিযান চালাচ্ছেন৷ মানুষকে মাস্ক পরিধান করার জন্য সরকারি নির্দেশনা জানানো হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করলে জরিমানা করা হচ্ছে। মানুষের নিজ থেকে মাস্ক না পরার প্রবণতা রয়েছে, যার কারণে নানা অজুহাতে মানুষ মাস্ক পরিধান করছে না।

পরম বাংলাদেশ: করোনা প্রতিরোধ ও দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা তথা কাজ করতে গিয়ে কি কি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখী হয়েছেন?

আলী হাসান: প্রতিনিয়তই চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছি আমরা। নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ। আমি নিজেই করোনা আক্রান্ত হয়েছি। টানা ২০ দিন করোনার সাথে যুদ্ধ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছি।

পরম বাংলাদেশ: করোনা প্রতিরোধ ও দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রণে আপনার কোনো সুপারিশ আছে কিনা?

আলী হাসান: করোনা প্রতিরোধ ও দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। জনস্বার্থে সরকারের প্রতিটি উদ্যোগ ও কাজ প্রশংসনীয়।

পরম বাংলাদেশ: করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে নগরবাসীর উদ্দেশ্যে আপনার কিছু বলার আছে?

আলী হাসান: করোনা প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলুন। ঘরের বাইরে গেলে অবশ্যই মাস্ক পরিধান করুন৷ যথাসম্ভব জনসমাগম এড়িয়ে চলুন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। আমাদের নিজ নিজ সচেতনায় পারে কেবল এই মহামারি থেকে আমাদের রক্ষা করতে।

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ