শিরোনাম
মীরসরাই বঙ্গবন্ধু শিল্প নগরে বেপজার প্লট পেল প্রাণ-আরএফএলসহ দেশি বিদেশি দশ প্রতিষ্ঠান ভারতীয় ভেরিয়েন্ট দেশে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডে উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে কাউন্সিলর শহিদুল আলম টেকনাফে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৮০০ পিস আন্দামান গোল্ড বিয়ার জব্দ প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা তহবিলে এক কোটি টাকা অনুদান দিল চট্টগ্রাম চেম্বার প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনের ছুটি বাড়ল ৩০ জুন পর্যন্ত নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম’র আইটি বিশেষজ্ঞ গ্রেফতার চট্টগ্রামে সাদার্ন ইউনিভার্সিটিতে দুই মাসব্যাপী আন্তঃবিভাগ বির্তক প্রতিযোগিতা শুরু নাভানাসহ সীতাকুণ্ডের সব কারখানায় ঈদুল আজহার আগে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দাবি পরিবেশ বিষয়ক গল্প : মন পড়ে রয় । নাজিম হোসেন শেখ
রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ০৬:০৭ অপরাহ্ন

প্রকৃতির অনিন্দ সুন্দর চট্টগ্রামের বাঁশখালী ইকোপার্ক

আবছার উদ্দিন অলি / ১২২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ২২ মার্চ, ২০২১

আবছার উদ্দিন অলি: প্রকৃতির অনিন্দ সুন্দর চট্টগ্রামের বাঁশখালী ইকোপার্ক। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য লীলাভূমি চট্টগ্রামের বিনোদনের নতুন সংযোজন বাঁশখালী ইকোপার্ক। ইতিমধ্যে বাঁশখালী ইকোপার্ক পর্যটকদের কাছে বিনোদনের অন্যতম স্থান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। সবুজ প্রকৃতির মাঝে বাঁশখালী ইকোপার্ক ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকদের জন্য এক অনন্য স্থান।

বাঁশখালী ইকোপার্ক বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার বাশঁখালী উপজেলায় অবস্থিত একটি প্রাকৃতিক ইকোপার্ক। প্রকৃতির নৈসর্গিক সৌন্দর্য মন্ডিত উঁচু-নিচু পাহাড়, লেকের স্বচ্ছ পানি, বনাঞ্চল ও বঙ্গোপসাগরের বিস্তৃত তটরেখা নিয়ে গঠিত হয়েছে ইকোপার্কটি। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান এখানে বনভোজনে আসে। এছাড়াও এ পার্কে ছুটির দিনে পর্যটকদের ভিড় থাকে বেশি।

বাঁশখালী ইকোপার্ক চট্টগ্রাম শহর হতে ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলায় শীলকূপ ইউনিয়ন এ বামেরছড়া ও ডানেরছড়া এলাকার সমন্বয়ে ২০০৩ সালে এক হাজার হেক্টর বনভূমি নিয়ে বাঁশখালী ইকোপার্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। ইকোপার্কটি ২১০৫৮ হতে ২২০০০ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯১০৫৮ হতে ৯২০১০ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত। এটি জলদি অভয়ারণ্য রেঞ্জের জলদি ব্লকে অবস্থিত।

‌ইকোপার্কে ঘুরতে আসা আগ্রাবাদ মৌলভীপাড়ার গৃহিনী নুরতাজ জাহান পারুল বলেন, ‌‌পার্কটি প্রকৃতিগতভাবে বেশ সুন্দর। তবে এখানে পর্যটকদের আকর্ষণ করতে অবকাঠামোগত আরো উন্নয়ন প্রয়োজন। এছাড়া আসা-যাওয়ার রাস্তা বেশ সরু। রাস্তাটি প্রশস্ত করনের ব্যবস্থা বেশ জরুরী।’

বাংলাদেশ সরকার বন্যপ্রাণী ও বনজসম্পদ রক্ষার্থে ১৯৮৬ সালে প্রায় সাত হাজার ৭৬৪ হেক্টর বনভূমি নিয়ে ‘চুনতি অভয়ারণ্য’ ঘোষণা করে। পরবর্তী বামেরছড়া ও ডানেরছড়া প্রকল্প দুইটিও চুনতি অভয়ারণ্যের অর্ন্তভুক্ত করা হয়। এ অভয়ারণ্যে ছোট বড় অনেক পাহাড়, খাল ছড়া রয়েছে। ১৯৯৩ সালে এলজিইডি প্রকৌশল বিভাগ কৃষি জমিতে সেচ প্রকল্পের জন্য পাহাড়ের ঢালুতে বাঁধ নির্মাণ করে ডানের ও বামেরছড়ায় ৮০ হেক্টর নিম্নাঞ্চলের ধানি জমি চাষ উপযোগী করে। বাংলাদেশ সরকার ওই বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল উন্নয়ন, শিক্ষা, গবেষণা, ইকো ট্যুরিজম ও চিত্তবিনোদনের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে বাঁশখালী ইকোপার্ক গড়ে তোলে। দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিনোদন প্রেমিদের কথা চিন্তা করে ২০০৩ সালে এ ইকোপার্কটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। ইকোপার্কে প্রবেশ ফি জনপ্রতি ২০ টাকা। পাঁচ বছরের কম শিশুদের প্রবেশ ফ্রি।

মডেল প্রিন্স গোমেজ বলেন, ‌‌‌‌‌‌‌‌ইকোপার্কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। এছাড়া পুরো জায়গাটি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। লেকের ময়লা গুলো পরিস্কার করা গেলে দেখতে আরো সুন্দর লাগবে।’

১৯৯৭ সালের উদ্ভিদ জরিপ মতে, এখানে আরো পাওয়া যাবে ৩১০ প্রজাতির উদ্ভিদ। এর মধ্যে ১৮ প্রজাতির দীর্ঘ বৃক্ষ, ১২ প্রজাতির মাঝারি বৃক্ষ, ১৬ প্রজাতির বেতসহ অসংখ্য অর্কিড, ইপিফাইট ও ঘাস জাতীয় গাছ। এ এলাকা গর্জন, গুটগুটিয়া, বৈলাম, সিভিট, চম্পাফুল এবং বিবিধ লতাগুল্ম সমৃদ্ধ চিরসবুজ বনাঞ্চলে ভরপুর ছিল। পার্ক এলাকার ৬৭৪ হেক্টর বনভূমিতে বিভিন্ন ধরনের (বাফার, ভেষজ, দীর্ঘমেয়াদী) মনোমুগ্ধকর বাগান তৈরি করা হয়েছে।

সংস্কৃতি কর্মী কবির মোহাম্মদ বলেন, ‌ইকোপার্ক দেখতে বেশ সুন্দর, তবে এখানে পাবলিক টয়লেটের ব্যবস্থা করা জরুরী। এছাড়াও পর্যটকদের জন্য যাতায়াত ব্যবস্থার জন্য গাড়ী ও হোটেল মোটেল থাকলে আরো বেশ সুবিধা হত। ঝুলন্ত ব্রীজটির আকর্ষণীয় করে তুলতে পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।’

ইকোপার্কে বিচরণরত কয়েক হাজার বন্য প্রাণী ও বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ সম্পর্কে পর্যটকরা যাতে খুব সহজেই জানতে পারেন, সে জন্য ২০১১ সালের ২১ আগস্টে ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় তথ্য ও শিক্ষাকেন্দ্র।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা এবং প্রকৃতি সংরক্ষন বিভাগ এ ইকোপার্কটির রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকে। এতে বামেরছড়া এবং ডানেরছড়া নামের দুইটি সুবিশাল লেক আছে। এ দুইটি লেকের উপর দিয়ে পারাপারের জন্য আছে দুইটি নান্দনিক ঝুলন্ত ব্রীজ। থাকার জন্য আছে এটি ভিভিআইপি মানের ‘ঐরাবত’ রেস্ট হাউজ এবং ১টি কটেজ। তাছাড়া আছে বেশ কয়েকটি রিফ্রেশমেন্ট কর্ণার। আছে ছোট একটি চিড়িয়াখানা। দর্শনার্থীর হাঁটার জন্য পাহাড়ী ঢালের উপর দিয়ে দীর্ঘ পাকা রাস্তা এবং বসার জন্য কিছু দুর পর পর চেয়ার এবং ছাউনিসহ চেয়ার পাতা আছে। এ পার্কে লেকের ধার ঘেঁষে আছে অসংখ্য ছোট বড় পাহাড় যা ঘণ জঙ্গলে ঢাকা। জঙ্গলে হাতি, বানর, হনুমান, হরিণ, বনমোরগ, সজারু ইত্যাদি বিচরণ করতে দেখা যায়। লেকের পানিতে শীতকালে অসংখ্য অতিথি পাখি এসে ভীড় করলে নয়নাভিরাম নৈসর্গিক সৌন্দর্য ভ্রমণকারীদের মোহিত করে।

চট্টগ্রাম থেকে সড়কপথে ৪৭ কিলোমিটার দক্ষিণে বাঁশখালী উপজেলার শীলকূপ ইউনিয়নের পূর্বাংশে পাহাড়ী এলাকায় অবস্থিত; অতঃপর সড়কপথে চার কিলোমিটার পূর্বে। ছুটির দিনে আপনিও বাঁশখালী ইকোপার্কে ঘুরে আসতে পারেন। আশা করি, আপনাদের ভাল লাগবে
বৈকি।

লেখক: গীতিকার

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ