বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২, ০৬:২৮ পূর্বাহ্ন

পোশাক কারখানা কর্তৃক বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগে প্রকাশিত সংবাদ: বিজিএমইএ’র প্রশ্ন ও স্পষ্টীকরণ

পরম বাংলাদেশ ডেস্ক
  • প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৩৬১ Time View

ঢাকা: সম্প্রতি দেশের শীর্ষ স্থানীয় কিছু পত্রিকা ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে তৈরি পোশাক রপ্তানীকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থপাচার সংক্রান্ত সংবাদ প্রচারিত হয়েছে। যেখানে অভিযোগের সত্যতা, সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতা ও তা কতটা হালনাগাদ সে বিষয়ে প্রশ্ন ও স্পষ্টীকরণের যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে। এ বিষয়ে বিজিএমইএ এর পর্যালোচনা ও সর্বশেষ অগ্রগতি তুলে ধরা হল।

প্রথম- প্রকাশিত প্রতিবেদনে ৬৩টি রপ্তানীমূখী তৈরি পোশাক কারখানার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্তৃক দুর্নীতির তদন্ত কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সুনির্দিষ্টভাবে শুধুমাত্র আল-মুসলিম গ্রুপের নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, প্রতিষ্ঠানটি ১৭৫ কোটি টাকা পাচার করেছে। সংবাদ প্রতিবেদনে বিষয়টি তদন্তাধীন উল্লেখ করা হলেও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ রকম স্পর্শকাতর বিষয়ে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করে প্রতিবেদন প্রকাশের বিষয়টি সাংবাদিকতার শিষ্টাচার লঙ্ঘন বলে আমরা মনে করি। সৃষ্ট বিভ্রান্তির ফলে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুন্ন হওয়া এবং ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়গুলো সংবাদ মাধ্যমের গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

দ্বিতীয়- গত ২৪ ডিসেম্বর দুদকের মহা পরিচালকের স্বাক্ষরিত একটি পত্রে আল-মুসলিম গ্রুপের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অনুসন্ধানে প্রমাণিত না হওয়ায় কমিশন তা পরিসমাপ্ত করেছে বলে অবহিত করেছেন। অতএব, ডিসেম্বর মাসে যেই অভিযোগটির পরিসমাপ্তি ঘটেছে, সেই অভিযোগে এমন সংবাদ পরিবেশন গণমাধ্যমগুলোর অজ্ঞতা বলে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

তৃতীয়- শীর্ষস্থানীয় একটি ইংরেজি দৈনিকে প্রকাশিত ওয়াশিংটন ভিত্তিক গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি (জিএফআই) এর গত ৩ মার্চ প্রকাশিত ‘

ট্রেড-রিলেটেড ইলিসিট ফিন্যান্সিয়াল ফ্লোজ ফ্রম ১৩৫ ডেভিলপিং কান্ট্রিজ: ২০০৮-২০১৭’ প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দেয়া হয়েছে। অথচ ওই প্রতিবেদনে আল-মুসলিম গ্রুপ, পোশাকখাত কিংবা অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের নাম বা তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এ রকম একটি প্রতিবেদনকে সুনির্দিষ্ট একটি খাত বা প্রতিষ্ঠানের প্রসঙ্গে টেনে এনে জনমনে একটি নেতিবাচক ধারণা বদ্ধমূল করার প্রচেষ্টার উদ্দেশ্য কী হতে পারে তা একটি বড় প্রশ্ন হয়ে থেকে যায়।

চতুর্থ- প্রকাশিত সংবাদে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক ২৯টি বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য কর ফাঁকির বিষয়ে অনুসন্ধানের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে এটিও উল্লেখ করা হয়েছে যে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সংশ্লিষ্ট নথি ও ডকুমেন্ট যাচাই বাছাই করে বন্ড সুবিধা অপব্যবহারের কোন তথ্য পায়নি। তাহলে এই সংবাদ প্রতিবেদনে বন্ড সুবিধা অপব্যবহারের বিষয়টি কোন্ প্রাসঙ্গিকতায় টেনে আনা হল এবং বিভিন্ন সময়ে মিমাংসিত অপরাপর বিষয়ের অবতারণা কেন, এ বিষয়গুলো আমাদের বোধগম্য নয়।

পঞ্চম- সংবাদ পরিবেশনের আগে আনীত অভিযোগের সতত্য প্রমাণ সাংবাদিকতার মূল্যবোধের মৌলিক একটি অংশ। অথচ আনীত অভিযোগের বিষয়টিতে বাংলাদেশ ব্যাংক কিংবা ওই পোশাক প্রতিষ্ঠানটির লিয়েন ব্যাংকসমূহের কাছে আমদানী-রপ্তানী কার্যক্রম, আর্থিক লেনদেনের তথ্য, রপ্তানীমূল্য অপ্রত্যাবাসিত আছে কিনা, ইত্যাদি বিষয়ে সত্যতা যাচাই করার উদ্যোগ নেয়া যেত (এবং এখনও করা যায়), যা না করেই একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপবাদ ও অপপ্রচার করা হয়েছে। এর ফলে শুধু ওউ প্রতিষ্ঠানই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বরং এর ফলে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি একটি ব্যবসায় এবং শ্রমিক বান্ধব প্রতিষ্ঠান। উল্লেখ্য, আল-মুসলিম গ্রুপের অন্তর্গত প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৮ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তা নিয়োজিত আছে। প্রতিষ্ঠানটি রপ্তানিতে বিশেষ অবদান রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নিকট হতে গত ২০১৩-২০১৪ অর্থ বছরে স্বর্ণ, ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে স্বর্ণ এবং ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে সিলভার পদক পেয়েছে।

ষষ্ঠ- আল-মুসলিম গ্রুপ শুধুমাত্র সুনামের সাথে বিগত তিন দশক ধরে তার ব্যবসায় পরিচালনা করছে তাই নয়, বরং প্রতিষ্ঠানটি তার ব্যাতিক্রমী সামাজিক উদ্যোগ ও পদক্ষেপের কারণেও বিভিন্ন সময় প্রশংসিত হযেছে। উল্লেখ্য যে, রানা প্লাজা দূর্ঘটনায় চাপা পড়া আহত ও নিহতদের উদ্ধার কার্যক্রমে প্রতিষ্ঠানটির ২৬০ জন শ্রমিক ও কর্মচারী স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন, যা প্রশংসিত হয়। শুধু তাই নয়, করোনা মহামারির সময় শ্রমিকদের স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে তারা পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা আইসোলেশন সেন্টার এবং ১২০ শয্যা বিশিষ্ট একটি কোয়ারেনটাইন সেন্টার স্থাপন করেছে। এ সব উদ্যোগ নিশ্চয়ই প্রশংসা ও সম্মানের দাবি রাখে।

সপ্তম- শতাব্দীর অন্যতম ভয়াবহ মহামারির ফলে শিল্পে যে ক্ষতি ও ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে, তা কাটিয়ে টিকে থাকার সংগ্রামে যখন আমাদের প্রতিটি শিল্প প্রতিষ্ঠান অবিরত লড়াই করে যাচ্ছে, সেই সময়টিতে কিছু গণমাধ্যমে হালনাগাদ করা হয়নি এমন সংবাদ শিল্প, অর্থনীতি তথা জাতীর জন্য মঙ্গলজনক হতে পারে না।

এ বিষয়ে আমরা গণমাধ্যমের যথাযথ কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি ও সুবিবেচনা কামনা করছি, যেন কোনো প্রকার স্পর্শকাতর বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পূর্বে সত্যতা যাচাই ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সাথে আলোচনা করা হয়।

যে সব গণমাধ্যমে (প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক) উল্লেখিত বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে, তাদের এই স্পষ্টীকরণটি যথাযথ গুরুত্বের সাথে প্রকাশের জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

Share This Post

আরও পড়ুন