শিরোনাম
এস আলম গ্রুপের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পুলিশের গুলিতে শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ গ্যালাক্সি এম০২ হ্যান্ডসেটে ১০০ দিনের রিপ্লেসমেন্ট ওয়্যারেন্টি দিচ্ছে স্যামসাং বাঁশখালীতে গুলি করে শ্রমিক হত্যা; সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট চট্টগ্রামের তীব্র নিন্দা আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্থগিতকরণ প্রভাব ফেলছে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ ও অন্য মেগা প্রকল্পে বাঁশখালীতে এস আলম গ্রুপের কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে শ্রমিক নিহতে খেলাফত মজলিসের নিন্দা বীমা খাতে প্রথম ‘তিন ঘন্টায় কোভিড ক্লেইম ডিসিশন’ সার্ভিস চালু মেটলাইফের মুজিবনগর সরকারের ৪০০ টাকার চাকুরে জিয়ার বিএনপি ইতিহাসকে অস্বীকার করতে চায় ধারাবাহিক ছোট গল্প: পতিতার আলাপচারিতা । পর্ব পাঁচ এস আলম গ্রুপের কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে পুলিশের গুলিতে শ্রমিক হত্যার নিন্দা ও বিচার দাবি সাতকানিয়ায় সোয়া কোটি টাকার ৩৮ হাজার ইয়াবাসহ ট্রাক চালক ও হেলপার গ্রেফতার
রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ০৯:৩৫ পূর্বাহ্ন

পুরুষের ভেতর বোঝা নারীর সংখ্যা খুবই কম

নুরুন্নবী নুর / ১৪৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

‘নোবেল অস্কার তুমি’ একটি প্রেমের কাব্য। কবি এখানে কাব্যটিতে একজন নারীকে কিভাবে ভালোবাসার কথা সুন্দর করে বলা যায়, তার মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন। কাব্য নির্মাণে তিনি নিজস্ব স্টাইল ব্যবহার করার পাশাপাশি, করেছেন ভিন্নধর্মী রোমান্টিকতায় পরিপূর্ণ এক অপরূপ সৃষ্টি, যা আমাদের মধ্যে প্রেম জাগিয়ে তোলে। নারীর ভালোবাসাকে তিনি সবার উপরে রেখেছেন। কাব্যে বলেছেন,
‘নোবেল, অস্কার, তুমি
কোনটা নেব আমি?
নোবেল অস্কার চাই না
তোমার স্মৃতি মাথায় রেখে
জনম জনম কেটে যাক’

নারী ছাড়া পুরুষের জীবন পাল ছাড়া নৌকার মতোন। নারীর স্পর্শ, একজন পুরুষকে করে তোলে পুরুষত্বময়। নারীর স্পর্শহীন পুরুষ যেন নিস্তব্ধ প্রাণহীন বেওয়ারিশ লাশ। নারীকে পুরুষের সর্বোচ্চ সঙ্গী হিসেবে কবি তুলনা করেছেন। নারী পুরুষের জীবনে কতোটা জায়গা জুড়ে অবস্থান করেন প্রেমের কাব্যটি না পড়লে, হয়তো জানা হতো না। কাব্যে একটা জায়গায় কবি বলেছেন-
‘রক্তে নেই হিমোগ্লোবিন
জীবন থেমে আছে দিঘীর জলের মতো
যেমন মহাশূন্য হাবুডুবু খায় পৃথিবী
তুমি হারা আমার মতো।’

নারীর সঙ্গ পাওয়া একটা সাধনার বিষয়। জোর করে নারীর ভালোবাসা পাওয়া যায় না। জোর করে মনও পাওয়া যায়। মন পেতে হলে সাধনা প্রয়োজন। জোর করে যা অর্জিত হয়, সেটা অর্জন নয়। মানুষকে ধরে বেঁধে আটকিয়ে রাখা যায় না। আটকাতে হলে মনটাকে বশে আনতে হবে। কাব্যে কবি বলেছেন-
‘প্রতিনিয়ত একটু নাগালের বাইরের মানুষটাকে
ধরার জন্য আমরা কতো সাধনা করি।
আর কাছের মানুষটাকে করি অবহেলা।
এর কোন অর্থ হয়?
মানুষ কি ধরা বাঁধা নিয়মে বাঁধা রয়?’

তিনি নারীকে কল্পনার সর্বোচ্চ আসনে বসিয়েছেন। নারীকে নানাভাবে তিনি কল্পিত চরিত্র হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তিনি কাব্যে বলেছেন-
‘অন্ধকার বিছানাকে
মনে হয় তোমার নগ্ন তনু।’

মাঝেমাঝে নারীকে ছলনাময়ী হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন, পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন সুবিধাবাদী প্রতিনিধি হিসেবে। পুরুষের ভেতর বোঝা নারীর সংখ্যা খুবই কম। কবি কাব্যে বলেছেন-
‘বুকের মাঝে আগুন জ্বলে
ভিতরটা কেউ দেখে না
তুমি আস আলো নিতে
কেমন তোমার তাশামা।’

কাব্যে কবি নারীকে প্রেম, ভালোবাসার অন্যতম মাধ্যম বলে মনে করেছেন। কাব্যে ভালোবাসার প্রশ্নে তার দীপ্ত উচ্চারণ প্রয়সীকেই চাই, ‘নোবেল’ অথবা ‘অস্কার’ নয়। নারীর প্রতি সম্মানও দেখিয়েছেন। দেখিয়েছেন নারী হতে পারে পুরুষের অনুপ্রেরণার উৎস। একজন পুরুষের কল্পনাতে সবটুকু জায়গা জুড়ে নারীকে দেখতে পান বলে কাব্যে নারীর প্রতি ভালোবাসার কমতি রাখেন নি। উজাড় করে প্রকাশ করেছেন।

‘নোবেল অস্কার তুমি’ কাব্যের কবি হলেন চট্টগ্রামের হাটহাজারীর দক্ষিণ মাদার্শা গ্রামের সন্তান ড. শফিউল আযম চৌধুরী ডালিম। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা সাহিত্যে অধ্যয়ন করেন। বর্তমানে তিনি এ বিভাগের সভাপতি। ১৯৯২ সালে প্রকাশিত হয়, তার প্রথম উপন্যাস ‘কোন পাপ করি নি’। দ্বিতীয় উপন্যাস ‘সুখের পথে এক পা’ ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত হয়। রম্য রচনায়ও তিনি সিদ্ধ হস্ত, তার প্রমাণ ‘অরাজনীতি’ (১৯৯৪) গ্রন্থটি। কলকাতা থেকে তার প্রকাশিত গবেষণামূলক গ্রন্থ হলো ‘ দুই বাংলার উপন্যাস প্রেক্ষিত দুর্ভিক্ষ’। এছাড়াও অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে ‘চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অধ্যয়ন’, ‘ভাষা- সাহিত্য- সংস্কৃতি’ ও ‘চট্টগ্রামের লোকসাহিত্যে বিধৃত লোকজীবন’ অন্যতম।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, শতাব্দী প্রকাশনী কর্তৃক প্রকাশিত ‘নোবেল অস্কার তুমি’ কাব্যের প্রথম প্রকাশ ঘটে ১৯৯৪ সালে, দ্বিতীয় প্রকাশ ১৯৯৬ সালে ও তৃতীয় ২০১৪ সালে। মুদ্রণে ছিলেন চট্টগ্রামের দি কালার কম্পিউটার। কাব্যটির গায়ের মূল্য ৫০ টাকা। কবি শফিউল আযম ডালিম বইটি উৎসর্গ করেছেন, কাজী তৌহিদুল ইসলাম কচিকে, যার অনেক কিছু তার ভালো লাগে না’। উল্লেখ্য, কাব্যটি ইংরেজিতেও প্রকাশ পেয়েছে। ইংরেজিত অনুবাদ করেছেন আমিনুর রহমান চৌধুরী। কবিতাটি ৩২টি অনুচ্ছেদে বিভক্ত।

লেখক: প্রাক্তন ছাত্র, নাট্যকলা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ