রবিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২২, ০২:০৩ পূর্বাহ্ন

পাহাড়তলী বধ্যভূমির জমি গিলতে ইউএসটিসির নতুন ষড়যন্ত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : রবিবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৪৩৬ Time View

চট্টগ্রাম: বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের পাকহানাদার বাহিনী কর্তৃক গণহত্যার স্বাক্ষর পাহাড়তলী বধ্যভূমি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধীদের ষড়যন্ত্রের নীল নকশা হতে রক্ষা করে মুজিব বর্ষ শেষ হওয়ার পূর্বেই অধিগ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

মক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর স্মারকলিপি দিয়ে ‘পাহাড়তলী বধ্যভূমি রক্ষা পরিষদ’ নামের একটি সংগঠন এ দাবি জানিয়েছে।

রোববার (৩১ জানুয়ারি) বিকালে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. মমিনুর রহমানের মাধ্যমে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, ‘১৯৯৯ সালে প্রজন্ম’ ৭১ এর সাথে অনুষ্ঠিত মত বিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছিলেন এবং সব জেলা প্রশাসককে আদেশ দিয়েছিলেন রায়ের বাজার ও পাহাড়তলী বধ্যভূমিসহ সব বধ্যভূমি সংরক্ষণের। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় রায়ের বাজার বধ্যভূমি সংরক্ষণ হলেও নানা ষড়যন্ত্রে পাহাড়তলী বধ্যভূমি সংরক্ষিত হয়নি।’

স্মারকলিপিতে জানানো হয়েছে, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে পাহাড়তলী বধ্যভূমি সংরক্ষণের প্রক্রিয়া শুরু হলে জমি অধিগ্রহণের ৯৮ লাখ টাকা চট্টগ্রাম জেলা প্রশসকের কাছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় পাঠায়। জমির মালিককে অধিগ্রহণের জন্য তিন বার নোটিশ প্রেরণ করা হলে জাতীয় অধ্যাপক প্রফেসর প্রয়াত নূরুল ইসলাম মামলা করেন। কারণ তিনি স্বল্প মূল্যে ওই জমি ক্রয় করে ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চট্টগ্রামের (ইউএসটিসি) আওতায় ‘জিয়া ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন’ বিল্ডিং তৈরি করেছেন। ২০০১ সালে স্বাধীনতা বিরোধী জোট সরকার ক্ষমতায় এলে এই প্রকল্প বাতিল করে এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পূর্ণ অর্থ চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসান থেকে ফিরিয়ে নেয়। জোট সরকারের নির্দেশে ও ইউএসটিসির যোগসাজসে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিবেদন দেয় যে, স্থানটি বদ্ধ্যভূমি নয় (পূর্বে এটি একটি ছড়া ছিল), তাই সেখানে ইউএসটিসি একটি স্থাপনা করে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণ বা আওয়ামী লীগ সরকার যে প্রকল্প নিয়েছিল তা বাতিল হবার পর ইউএসটিসি কর্তৃপক্ষ ফের ‘জিয়া ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন বিল্ডিং’ তৈরি শুরু করে। জাতীয় অধ্যাপক প্রফেসর নূরুল ইসলাম স্বাধীনতার চেতনা বিরোধী এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে সিলেট শাহাজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. জাফর ইকবাল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. গাজী সালেহ উদ্দিন, প্রফেসর ড. মুনতাসির মামুন প্রমূখ হাইকোর্টে একটি রীট করেন। সেই আলোকেই হাইকোর্ট যুদ্ধকালীন দুই নাম্বার সেক্টরের প্রধান মেজর জেনারেল সফিউল্লাসহ একটি কমিটি গঠন করে। সেই কমিটির রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে সুপ্রিমকোর্ট ২০১৪ সালের ১১ মার্চ রায় দেয় যে, বিএস দাগ নম্বর ১৫২ এবং ১৫৩ নম্বর ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ সম্পূর্ণটি বধ্যভূমি এবং সংরক্ষণের নির্দেশ দেয়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ‘কিন্তু দীর্ঘ সাত বছর হয়ে গেলেও এই বধ্যভূমি সংরক্ষণ বা অধিগ্রহণ হয়নি। দুই নাম্বার বাদী প্রফেসর গাজী সালেহ উদ্দিন জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক থেকে জমি অধিগ্রহণের জন্য চাহিদাপত্র মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সেখানে আবার নতুন ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। সূত্র মতে, ২০১৮ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে ১৯ শতকের মধ্যে সরকার দেশে বধ্যভূমি সংরক্ষিত করবে। সেই আলোকে ইউএসটিসি কর্তৃপক্ষ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ে এক শ্রেণির কর্মচারীদের মাধ্যমে আংশিক বাস্তবায়নে সক্রিয় রয়েছে। যা আদালত অবমাননার মত গর্হিত অপরাধ হিসাবে বিবেচিত।’

স্মারকলিপিতে আরো বলা হয়, ‘চট্টগ্রামের এই বৃহত্তর বধ্যভূমি ২০১৪ সালে সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী সংরক্ষিত হক। না হলে এটি আদালত অবমাননা হবে। অপর দিকে, চট্টগ্রামে কোন যাদুঘর নেই, ওই স্থানে এ কারণে যাদুঘর এবং লাইট অ্যান্ড সাউন্ডের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পরবর্তী প্রজন্মকে জানাবার উদ্যোগ গ্রহণ করা হউক এবং যা অধিগ্রহণের সম্পূর্ণ কাজ মুজিব বর্ষের মধ্যেই সমাপ্ত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।’

স্মারকলিপি প্রদানকালে চট্টগ্রাম জেেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন গাজী সালেহ উদ্দিন, প্রদীপ দেওয়ানজী, মোস্তফা কামাল যাত্রা, রাশেদ হাসান, দীপক কুমার দত্ত, শরীফ চৌহান প্রমুখ।

Share This Post

আরও পড়ুন