বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ০৯:০২ অপরাহ্ন

পানি বন্টনের ভ্রান্ত নীতি গঙ্গা পানি চুক্তি বাংলাদেশের প্রত্যাশিত কাজে আসছে না

পরম বাংলাদেশ প্রতিবেদন
  • প্রকাশ : রবিবার, ২১ মার্চ, ২০২১
  • ১১৪ Time View

ঢাকা: বাংলাদেশ-ভারত দুই বন্ধু প্রতীম দেশের প্রধান মন্ত্রীর আসন্ন বৈঠকের প্রেক্ষাপটে ১৬ মার্চ দিল্লীতে অনুষ্ঠিত সচিব পর্যায়ের বৈঠকে যৌথ নদী ব্যবস্থাপনার বিষয়ে কোন দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগামী ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্ত্রী উদযাপনে যোগ দেওয়ার জন্য ঢাকা আসছেন। বাংলাদেশের ভ্রাতৃ প্রতীম মানুষ আশা করে, সফরের সময় তাদের বাঁচা-মরার প্রশ্ন যৌথ নদী-পানি ব্যবস্থাপনার বিষয়ে অগ্রগতি হবে।

পরিবেশ ও পানি-অধিকার পর্যবেক্ষণ গ্রুপ আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটি (আইএফসি) এক বিবৃতিতে আশা প্রকাশ করে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এ সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে প্রবাহিত নদীগুলোকে উৎস থেকে সাগর পর্যন্ত জীবিত রেখে অববাহিকা ভিত্তিক ব্যবস্থাপনার জন্য পারষ্পরিক বন্ধুত্বের আলোকে উভয় পক্ষ কার্যকর কিছু করবে।

বাংলাদেশের উৎপত্তি নদী থেকে। পৃথিবীর বৃহুত্তম বদ্বীপ এ দেশের ভেতরে প্রবাহিত ৫৭টি নদীর মধ্যে ৫৪টিই ভারত হয়ে এসেছে। টেকসই নদী-ব্যবস্থাপনার অভাবে উজানে যথেচ্ছ পানি প্রত্যাহারের ফলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ৩০টির অধিক নদী ইতোমধ্যে মরে গেছে। সীমান্তে পানি-বন্টনের ভ্রান্ত নীতি ভিত্তিক গঙ্গা পানি চুক্তি বাংলাদেশের প্রত্যাশিত কাজে আসছে না। তিস্তার পুরো শুষ্ককালীন প্রবাহ গজলডোবা ব্যারেজের মাধ্যমে প্রত্যাহারের ফলে এ নদীর বাংলাদেশ অংশ প্রতি বছর শুকিয়ে যাচ্ছে। অথচ ভরা মৌসুমে গঙ্গা ও তিস্তার বন্যায় ভাসছে এদেশের মানুষ।

আইএফসি মনে করে, বাংলাদেশে নদীগুলোর ভাটির অংশ পানি প্রত্যাহারের ফলে মরে গেলে এ প্রাকৃতিক প্রবাহগুলোর উজানের অংশও মরে যেতে বাধ্য। প্রাকৃতিক প্লাবণ ভূমি দিয়ে প্রবাহিত হলেই নদী জীবিত থাকে, কারণ শুকনো মৌসুমে প্লাবণ ভূমির ভূগর্ভস্থ পানি নদীকে জীবিত রাখে। অন্যত্র শুকনো মাটি শুধু নদীর পানি চুসে নেয়। এ কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পাঁচ হাজারের বেশী বাঁধ ভেঙ্গে নদীর প্রবাহ পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সম্প্রতি স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল ওয়াটার ইনস্টিটিউটের নেতৃত্বে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, উৎস থেকে সাগর পর্যন্ত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের সমন্বিত উন্নয়ন এবং দূষণ নিরসন করা সম্ভব।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন আইএফসি নিউ ইয়র্কের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান সালু, মহাসচিব সৈয়দ টিপু সুলতান, আইএফসি বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক জসিম উদ্দিন আহমাদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি ড. এসআই খান, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ইরফানুল বারী এবং আইএফসি সমন্বয়ক মোস্তফা কামাল মজুমদার।

Share This Post

আরও পড়ুন