ঢাকাবৃহস্পতিবার, ৮ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে চসিক ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংস্থাগুলো জোটবদ্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই ১, ২০২১ ৫:৩০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

চট্টগ্রাম: পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে ‘পলিথিন মুক্ত চট্টগ্রাম’ শীর্ষক এক সভা বুধবার (৩০ জুন) সকালে নগরীর টাইগার পাসের চট্টগ্রাম সিটি করপোশনের (চসিক) সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় নগরীর ওয়ার্ডওয়ারী কোন পলিথিন কারখানা আছে কিনা, তা চিহ্নিত করে তা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন চসিকের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী। তিনি ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে নিজ নিজ ওয়ার্ডে কোন পলিথিন কারখানা থাকলে তার তালিকা পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে জমা দিতে বলেছেন।

এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেজাউল করিম বলেন, ‘পলিথিন আমাদের জন্য অভিশাপ। নগরবাসী ও ব্যবসায়ীদের পলিথিন ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করতে হবে। প্রয়োজনে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হবে।’

চসিকের পরিবেশ উন্নয়ন বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমনের সভাপতিত্বে ও চসিকের সচিব খালেদ মাহমুদের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শহীদুল আলম, চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাক্তার হাসান শাহরিয়ার কবির, পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগরীর পরিচালক মো. নুরুল্লাহ নুরী, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-কমিশনার এসএম মোস্তাইন হোসেন, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) আ স ম জামসেদ খোন্দকার, চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল মো. শাহ আলী, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্থায়ী কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর মো. মোবারক আলী প্রমুখ।

মো. নুরুল্লাহ নুরী বলেন, ‘আমরা সাধারণত পাঁচ ধরনের পলিথিন ব্যবহারের বিরুদ্ধে অভিযান চালাই। মোটা পলিথিন ব্যবহার করা গেলেও নাগরিকদের যত্রতত্র পলিথিন না ফেলার জন্য সচেতন করতে হবে এবং পলিথিন ডাম্পিং করা ঠিক হবে না।’

তিনি চসিককে আবাসিক গৃহ ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে সবুজ ও লাল রংয়ের বিন সরবরাহের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এতে করে আবর্জনার পাশাপাশি পলিথিনও আলাদা করা যাবে।’ নুরুল্লাহ নুরি পাহাড় কাটা বন্ধে অভিযান অব্যাহত রাখা হবে বলে জানিয়ে বলেন, ‘নগরীর কিছু প্রভাবশালী মহল রাতের অন্ধকারে লুকিয়ে পাহাড় কাটেন। ফলে পলিথিনের মত পাহাড়ের বালিও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে।’

আ স ম জামসেদ খোন্দকার ময়মনসিংহ জেলার সাফল্যের কথা উল্লেখ করে সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি পলিথিনের বিকল্প টিস্যু পেপারের থলে ব্যবহারে ব্যবস্থা নেয়া যায় বলে উল্লেখ করেন।

লেফটেন্যান্ট কর্ণেল মো. শাহ আলী নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে পলিথিন বন্ধের পক্ষে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে বলেন। প্রয়োজনে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রত্যেক সেবাসংস্থাকে নিয়ে এক দিন পলিথিন মুক্ত ও আবর্জনা পরিস্কারের কর্মসূচী গ্রহণ এবং পলিথিন বন্ধে জরিমানা ব্যবস্থা চালু করার প্রস্তাব করেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন চসিকের আইন কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী, প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, মেয়রের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুদীপ বসাক, উপ সচিব আশেক রসুল চৌধুরী টিপু, নির্বাহী প্রকৌশলী মির্জা ফজলুল কাদের, উপ প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মো. মোরশেদুল আলম চৌধুরী, স্থপতি আব্দুল্লাহ ওমর প্রমুখ।

Facebook Comments Box