শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ০৭:৪৩ অপরাহ্ন

পবিত্র রমজান মাসে কয়েকটি বিশেষ আমল

ডাক্তার মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ
  • প্রকাশ : সোমবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২১
  • ১২৭ Time View

ডাক্তার মুহাম্মদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ: রোজা ইসলামের মৌলিক ইবাদতের মধ্যে অন্যতম। আর এ রোজা মুসলমানদের ওপর ফরজ করা হয়েছে। মহান আল্লাহপাক এ মাসের প্রতিটি দিবস-রজনীতে দান করেছেন অশেষ খায়ের-বরকত-মাগফিরাত এবং অফুরন্ত কল্যাণ।

ইসলাম ধর্মের পাঁচ স্তম্ভের অন্যতম হল রোজা। দীর্ঘ ১১ মাসের পাপ থেকে মুক্ত হওয়ার অপূর্ব সুযোগ এনে দেয় এ মাস। রমজানের আমল করলে একটি কাজের জন্য ৭০ বা তার চেয়েও বেশি নেকি পাওয়া যায়।

রমজান মাসে কয়েকটি বিশেষ আমলের কথা বলা হল- রোজা রাখা রমজান মাসের প্রধান ও সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ আমল হচ্ছে শরীয়তের বিধান অনুযায়ী ইখলাছপূর্ণ রোজা রাখা। বুখারী ও মুসলিম সূত্রে বর্ণিত, যে ব্যক্তি রমজানের রোজা ঈমান, সওয়াব, ইখলাছের উদ্দেশ্যে রাখবে, তার পূববর্তী সব গুণাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন রাসুল (সা.)। তারাবিহ ও তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় সম্পর্কে মহানবী (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমান ও ইহতিসাব তথা ঈমান, ইখলাছের সঙ্গে রমজান মাসে কিয়ামুল লাইল তথা তারাবীহ ও তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করবে, আল্লাহ তার পেছনের সব গুনাহ মাফ করে দেবেন।’ (বুখারী ও মুসলিম)

অধিক সময় কোরআন তিলাওয়াত করা হাদিস শরীফে বর্ণিত, হজরত জিবরাইল (আ.) রমজানের শেষ পর্যন্ত প্রত্যেক রাতে রাসুলের (সা.) সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন এবং রাসুল (সা.) তাকে কোরআন মজিদ তিলাওয়াত করে শোনাতেন। (বুখারী) সদকা-খয়রাত ও রোজাদারকে ইফতার করানো হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘রমজানের সদকা সবচেয়ে উত্তম সদকা।’ (তিরমিজি)

তিনি (সা.) আরো বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোন রোজাদারকে ইফতার করাবে সেও রোজাদারের সমপরিমাণ সওয়াব পাবে। রোজাদারের সওয়াব মোটেও কমানো হবে না।’ হালাল রিজিকের ব্যবস্থা করা ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত হালাল রুজি। আহার ও রুজি হারাম হলে আল্লাহর দরবারে তার কোনো ইবাদতই গ্রহণযোগ্য হয় না। রমজান মাসে এর গুরুত্ব বেড়ে যায় আরো বহুগুণ।

রাসুল (সা.) রমজান মাসে হালাল রুজির প্রতি যত্নবান ব্যক্তির জন্য ভবিষ্যদ্বাণী উচ্চারণ করে বলেন, ‘যার রমজান মাস নিরাপদে কাটল, তার পুরো বছরই নিরাপদে কাটল।’ (তিরমিজি) দোয়া ও ইস্তেগফার করা মহানবী (সা.) ইরশাদ করেন, রমজান মাসে বান্দার দোয়া কবুল করা হয়। (হাদিসের অংশ) অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, যে ব্যক্তি রমজান পেয়েও স্বীয় গুণাহ ক্ষমা করাতে পারল না তার ওপর আল্লাহর অভিশাপ। ইতেকাফ করা বুখারী শরীফে বর্ণিত, হুজুর (সা.) প্রত্যেক রমজানের শেষ দশদিন ইতেকাফ করতেন। যে বছর তিনি ইন্তেকাল করেন, সে বছরও বিশদিন ইতেকাফ করেন। শবে কদর তালাশ করা হজরত আয়েশা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘রমজানের শেষ দশদিনের বেজোড় রাতে শবে কদর তালাশ কর।’

অপর হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি ঈমান ও ইখলাছের সঙ্গে শবে কদরের নফল আদায় করল, তার পূর্ববর্তী সব গুণাহ ক্ষমা করা হয়।’ (বুখারী ও মুসলিম) রমজানে উমরা আদায় রাসুল (সা.) বলেন, ‘রমজানে উমরা আদায় হজের সমান সওয়াব।’ (বুখারী) পাপ কাজ ছেড়ে দেয়া পাপের ফলে রমজান মাসের বরকত এবং সওয়াব নদ্ব হয়। রমজানের পবিত্রতা ক্ষুন্ন করার কারণে কখনো কখনো গুণাহের ভাগী হতে হয়। তাই রোজাদারের জন্য রমজান মাসে গুণাহ ত্যাগ করা আবশ্যক।

প্রিয় নবী (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি রোজা রেখে মিথ্যা কথা ও খারাপ কাজ ছাড়ল না, আল্লাহর জন্য তার ক্ষুধার্ত ও পিপাসার্ত থাকার কোনো প্রয়োজন নেই। (বুখারী ও মুসলিম)

রমজান মাসে প্রত্যেক আমলের পরিবর্তে কমপক্ষে সত্তর গুণ বেশি সওয়াব প্রদান করা হয়। সুতরাং রমজান মাসে গুণাহ থেকে বেঁচে থাকার এবং অধিক পরিমাণ নেক আমল করার দৃঢ় প্রত্যয় করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে রমজানের আমলসমূহ আদায় করার তাওফিক দান করুক আমীন।

লেখক: এমএ কামিল হাদিস, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

Share This Post

আরও পড়ুন