শিরোনাম
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ে জরুরী রোগী ব্যবস্থাপনার দুই দিনের প্রশিক্ষণ শুরু চা শ্রমিক নেতা বাবুল বিশ্বাসের মৃত্যুতে চা শ্রমিক নেতাদের শোক প্রকাশ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর ভ্যাট চায় না চট্টগ্রাম সিটি ছাত্রদল বিডার কাছে ব্যবসায় সহজীকরণের উদ্যোগ চায় বিজিএমইএ মিরসরাই বঙ্গবন্ধু শিল্প নগরে বেপজার প্লট পেল বঙ্গ প্লাস্টিকসহ দেশি বিদেশি দশ প্রতিষ্ঠান ভারতীয় ভেরিয়েন্ট দেশে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডে উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে কাউন্সিলর শহিদুল আলম টেকনাফে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৮০০ পিস আন্দামান গোল্ড বিয়ার জব্দ প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা তহবিলে এক কোটি টাকা অনুদান দিল চট্টগ্রাম চেম্বার প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনের ছুটি বাড়ল ৩০ জুন পর্যন্ত
সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন

পবিত্র ঈদুল ফিতরের গুরুত্ব ও তাৎপর্য

মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ / ৩৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৩ মে, ২০২১
ডাক্তার মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ

মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ: আওদ শব্দ থেকে ঈদের উৎপত্তি। ঈদ অর্থ আনন্দ, খুশি, ফুর্তি, আমোদ, উৎসব ইত্যাদি। ফিতর অর্থ রোজা ভঙ্গ করা, স্বভাবজাত বা স্বাভাবিক। ঈদুল ফিতর অর্থ কঠোর সিয়াম সাধনার মুদ্দৎ উতরিয়ে স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাবার খুশি।

ঈদুল ফিতরের দিন গরিব-মিসকিন ও অভাবী লোকদের মধ্যে শরিয়তের নির্ধারিত যে অর্থ বা খাদ্যবস্তু বিতরণ করা হয়, তাকে বলে সদকাতুল ফিতর। সদকাতুল ফিতর আদায় করা প্রত্যেক সামর্থ্যবান নারী-পুরুষের ওপর ওয়াজিব।

সদাকাতুল ফিতরকে রোজার কাফফা বলা হয়। পক্ষান্তরে ঈদের দিনে অভাবী ব্যক্তিরাও যাতে অনাহারে থাকার কারণে ঈদের খুশি থেকে একেবারে বঞ্চিত না হয়, তার জন্যই এ ব্যবস্থা।

ঈদ মুসলিম জাতির একটি বার্ষিক সম্মেলন ও উৎসবের দিন। বিশ্বের প্রত্যেকটি জাতিরই আনন্দ-উৎসবের জন্য বছরে কিছু দিনক্ষণ নির্ধারিত থাকে। তেমনি মুসলমানদের আনন্দোৎসবের জন্য বছরে দুইটি দিন নির্ধারিত রয়েছে। একটি হল- ঈদুল ফিতর ও আরেকটি ঈদুল আজহার দিন। রমজানের সিয়াম সাধনার পরে যে ঈদ তার নাম ঈদুল ফিতর। আর জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে যে ঈদ উৎসব পালন করা হয়, তাকে বলে ঈদুল আজহা।

ঈদুল ফিতরের গুরুত্ব: এ ঈদের নামাজ আদায় করা ওয়াজিব। যারা ঈদের নামাজ আদায় করে না তারা অবশ্যই গুনাহগার হবে। ঈদ আসে বিশ্ব মুসলিমের দ্বারপ্রান্তে বার্ষিক আনন্দের মহাবার্তা নিয়ে, আসে সীমাহীন প্রেম-প্রীতি বিলাবার সুযোগ নিয়ে, বিগত দিনের সব ব্যথা বেদনা ভুলিয়ে দিতে, কল্যাণ ও শান্তির সওগাত নিয়ে। বছরে দুই দিন ঈদের নামাজের মাধ্যমে মহান আল্লাহ মুসলমানদের জন্য যে মহাসম্মেলনের ব্যবস্থা করেছেন, তার মধ্যে রয়েছে ইসলামী সমাজ কায়েমের প্রেরণা। সমাজকে কলুষ কালিমা মুক্ত করার জজবা, মানবতা ও মনুষ্যত্ব বিকাশের এক বিশেষ অনুশীলন।

ঈদুল ফিতরের ফজিলত: ঈদুল ফিতরের দিনের বহুত ফজিলত রয়েছে। যারা ঈদের দিন যথারীতি ঈদগাহে গিয়ে যথানিয়মে ঈদের নামাজ আদায় করে মহান আল্লাহ তাদের দুআ কবুল করেন এবং তাদের অফুরন্ত পুরস্কার দানে ধন্য করেন। হাদিসে এসেছে, যারা ঈদের নামাজ আদায় করার জন্য ঈদের ময়দানে একত্র হয়, আল্লাহ তায়ালা তাদের সম্পর্কে ফেরেশতাদের ডেকে জিজ্ঞেস করেন, যারা স্বেচ্ছায় দায়িত্ব পালন করে আজ এখানে সমবেত হয়েছে, তাদের কী প্রতিদান দেয়া উচিত? ফেরেশতারা বলেন, “পুণ্যময় কাজের পুরোপুরি পারিশ্রমিক দেয়াই উচিত।” তখন আল্লাহ তায়ালা তাঁর ইজ্জতের শপথ করে বলেন, “অবশ্যই তিনি তারে প্রার্থনা মঞ্জুর করবেন।” এরপর আল্লাহ তায়ালা ঈদের নামাজ সমাপনকারী তাঁর নেক বান্দাদের উদ্দেশে ঘোষণা করেন, ‘আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিয়েছি এবং তোমাদের কৃত অতীত পাপকে সওয়াবে পরিণত করে দিলাম’ এ পর্যায়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘নামাজ সমাপনকারীগণ ঈদের মাঠ থেকে এমন অবস্থায় স্বগৃহে প্রত্যাবর্তন করল, যেন নিষ্পাপ শিশু।’
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি পুণ্য লাভের আশায় দুই ঈদের রাত জেগে ইবাদত করে, সে দিন (কিয়ামতের দিন) তার অন্তর এতটুকু ভীত-সন্ত্রস্ত হবে না, যে দিন অন্যদের অন্তর ভীত-বিহ্বল অবস্থায় মৃতবৎ হয়ে পড়বে।
মহান আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে রোযাদারদের জন্য বিশেষ একটি পুরুস্কার হচ্ছে, ‘ঈদুল ফিতর’। আর ঈদের তাৎপর্য অপরিসীম। মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা. হাদিসে ইরশাদ করেন, ‘ঈদুল ফিতরের দিন যখন আসে তখন আল্লাহ তা’আলা রোযাদাদের পক্ষে গর্ব করে ফেরেশতাদেরকে বলেন, “হে আমার ফেরেশতাগণ, তোমরাই বল, রোযাদারেদের রোযার বিনিময়ে আজকের এ দিন কি প্রতিদান দেয়া যেতে পারে? সেই সব রোযাদার যারা তাদের দায়িত্ব পুরোপুরী আদায় করেছে।” তখন ফেরেশতারা আল্লাহকে বলেন, “দয়াময় আল্লাহ উপযুক্ত উত্তম প্রতিদান তাদের দান করুন। কারণ তারা দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনা করেছেন, প্রাপ্য পারিশ্রমিক তাদেরকে দান করুন ।
তখন আল্লাহ তা’আলা রোযাদারদেরকে বলতে থাকেন, ‘হে আমার বান্দা, তোমরা যারা যথাযথভাবে রোযা পালন করেছ, তারাবীহর নামাজ পড়েছ, তোমরা তাড়াতাড়ি ঈদগাহে মাঠে ঈদের নামাজ পড়ার জন্য যাও এবং তোমরা তোমাতের প্রতিদান গ্রহণ কর।’ ঈদের নমাজের শেষে আল্লাহ তা’আলা তার বান্দাদের উদ্দেশ্যে বলতে থাকেন, ‘হে আমার প্রিয় বান্দারা, আমি আজকের এ দিনে তোমাদের সব পাপ পূণ্যের দ্বারা পরিবর্তন করে দিলাম । অতএব তোমরা নিস্পাপ হয়ে বাড়িতে ফিরে যাও’। বাইহাকী ও মিশকাত শরীফ ।

মহানবী সা. ইরশাদ করেন, ‘ঈদের আনন্দ শুধু তাদের জন্য, যারা রমযানের রোযা তারাবিহর নামাজসহ আল্লাহ তা’আলার যাবতীয় বিধি-বিধান গুরুত্ব সহকারে আদায় করেছে । আর যারা রমযানের রোযা ও তারাবীহ আদায় করেনি তাদের জন্য ঈদের আনন্দ নেই, বরং তাদের জন্য ঈদ তথা আনন্দ অগ্নিশিখা সমতুল্য। বুখারী শরীফ

মহানবী সা. হাদিসে আরো ইরশাদ করেন যে, ‘যারা রমযানে রোযা রাখেনি তারা ঈদের নামাজে সুসংবাদ প্রাপ্ত তথা মুক্তি প্রাপ্ত মানুষের কাতারে শামিল হবে না। তাদের জন্য কোন আনন্দ নেই । আর যারা রোযা পালন করেছে, গরীবদেরকে নিজের মাল থেকে ফিতরা দিয়েছে, শুধুমাত্র ঈদ তাদের জন্যই। তবে যাদের রোযা রাখার বয়স হয়নি অথবা বিশেষ কোন কারণে রোযা রাখতে পারেনি তারাও ঈদের এ আনন্দে শরীক হতে পারবে। কিন্তু যারা বিনা কারণে এবং অলসতা করে রোযা রাখেনি, তাদের জন্য এ ঈদে আনন্দ নেই। এ ঈদ তাদের জন্য আনন্দ স্বরূপ নয়, বরং তিরস্কার স্বরূপ ।

মহানবী সা. আরো ইরশাদ করেন যে, ‘যে ব্যক্তি দুই ঈদের রাতে পূণ্যের প্রত্যাশায় ইবাদত-বন্দেগী করে কিয়ামতের দিন সেই ব্যক্তির জন্য রয়েছে মহা পুরুস্কার, অর্থাৎ কিয়ামতের দিন অন্য লোকদের অন্তর মরে যাবে, কিন্তু কেবল সেই ব্যক্তির অন্তর জীবিত থাকবে, সে দিনও মরবে না’। আততারগীব

রাসূল সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি পূণ্যময় পাঁচটি রাতে ইবাদত-বন্দেগী করে, সেই ব্যক্তির জন্য সু-সংবাদ রয়েছে, আর সেই সুসংবাদটি হচ্ছে ‘জান্নাত’ এবং পুণ্যময় পাঁচটি রাত হল- ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা, শবে বরাত, জ্বিলহজ্জের রাত, আরাফাতের রাত। (বাইহাকী)

লেখক: এমএ কামিল, হাদিস, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ