শিরোনাম
সিভাসুর বিভিন্ন সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষা ১৫ জুন থেকে অনলাইনে কবিতা: আমার আমি । ইমতিয়াজ মাহমুদ নাঈম পরিকল্পিতভাবে ভাইকে ফাঁসানোর আগেই র‌্যাবের হাতে ধরা করোনাকালে ঈদুল ফিতরে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আমাদের করনীয় মোমেনবাগ ক্লাবের উদ্যোগে দুস্থ পথচারীদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ মুরাদপুরে রক্তাক্ত গন্ডামারা: এক । শুরু থেকেই স্থানীয়রা এস আলম গ্রুপকে অবিশ্বাস করতে থাকে সিএমপির সন্ত্রাসী তালিকায় আবুল হাসেম বক্কর ও হাসান মুরাদ; যুবদলের নিন্দা ও প্রতিবাদ ফেনীতে ইসলামী হোমিওরিসার্চ সেন্টারের ৪১ দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন করোনা: দেশে ২৪ ঘণ্টায় মৃত ৩৩; নতুন সনাক্ত এক হাজার ২৩০ জনের উপায়-এ সবচেয়ে কম খরচে এটিএম ক্যাশ আউট
বুধবার, ১২ মে ২০২১, ০৪:২৩ অপরাহ্ন

পদ্মাসেতু রেল সংযোগ প্রকল্প: স্লিপার ফ্যাক্টরির উৎপাদন শুরু, দিনে তৈরি হবে পাঁচশরও বেশি স্লিপার

পরম বাংলাদেশ ডেস্ক / ১২২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২০

ঢাকা (৩ ডিসেম্বর): নির্মাণাধীন বাংলাদেশের অন্যতম মেগা প্রকল্প পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের স্লিপার ম্যানুফ্যাকচারিং কারখানা এলাকা পরিদর্শন করেছেন সরকার ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেডের (সিআরইসি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

গতকাল বুধবার (২ ডিসেম্বর) ভাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন (সিআরইসি ট্র্যাক-লেইং বেস’এ একই এলাকায় অবস্থিত) এলাকায় অবস্থিত এই প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে যান তারা।

এ সময় রেল মন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম রেজা, বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালক শামসুজ্জামান; পিবিআরএলপি প্রকল্প পরিচালক ফখরুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী ও সিআরইসির প্রকল্প পরিচালক ওয়াং কুন উপস্থিত ছিলেন।

পিবিআরএলপির জন্য স্লিপার ফ্যাক্টরিটি নির্মাণ করেছে পিবিআরএলপির ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সিআরইসি। কারখানাটি এক দশমিক ৮১৫ একর এলাকাজুড়ে অবস্থিত, ফ্যাক্টরিতে ১০৪ মোল্ড সেট, ১৬টি স্টেশন, ছয়টি স্টিম কিউরিং পিটস এবং দুটি স্কাই ক্রেন ব্যবহার করা হয়েছে।

স্লিপার ফ্যাক্টরিটি পুরোপুরি স্টিল স্ট্র্যাকচারে ঘেরা ও অটোমেটিক অ্যাসেম্বলি লাইন অপারেশনের মাধ্যমে এর কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এই কারখানার সব ইক্যুইপমেন্ট সিআরইসি সরবরাহ করেছে এবং এগুলো বাংলাদেশ রেলওয়ে নির্মাণ উপযোগী করে ব্যবহার করা হয়েছে; যেখানে এশিয়া ও ইউরোপের স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করা হয়েছে। এই কারখানা থেকে প্রতিদিন গড়ে পাঁচশ’রও বেশি স্লিপার তৈরি করা যাবে। এই স্লিপার ফ্যাক্টরটির (এই কারখানাটির পিবিআরএলপির জন্য তিন লাখ ৭০ হাজার স্লিপার তৈরি করবে) বিভিন্ন ধরণের স্লিপার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এক হাজার ৬৭৬ মিমি ব্যালেস্টেড ব্রড গেজ (বিজি) স্লিপার, ব্যালাস্ট-লেস ব্রড গেজ স্লিপার এবং ডুয়াল গজ স্লিপার, যা বর্তমানে বাংলাদেশে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এই স্লিপার ফ্যাক্টরিটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অত্যাধুনিক ইক্যুইমেন্ট, স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন ও অটোমেশন সমৃদ্ধ।

বৈশ্বিক মহামারি চলাকালীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিআরইসির অগ্রগতিতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন।

সিআরইসির প্রকল্প পরিচালক ওয়াং কুন জানান, বাংলাদেশ রেলওয়ের অনুমতি সাপেক্ষে বর্তমান প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক প্রকিউরমেন্ট অনিশ্চয়তা দূরীকরণ, গুণগতমানের স্লিপার প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত, দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্লিপার তৈরি ও সরবরাহ, নির্মাণ ব্যয় কমানো এবং চীন থেকে অত্যাধুনিক ও উন্নতমানের প্রযুক্তি পণ্য আমদানির জন্য সিআরইসি স্লিপার ফ্যাক্টরিটি তৈরি করেছে। স্লিপার ফ্যাক্টরিটি স্লিপার-লেইং বেজের অংশ।

ওয়াং কুন বলেন, ‘স্লিপার-লেইং বেসটিতে বর্তমানে দুইশ’ স্থানীয় কর্মী কাজ করছেন, যারা সিআরইসির সিনিয়র চীনা বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে পেশাদার প্রশিক্ষণ লাভ করেছেন। চলতি বছরের ২২ আগস্ট স্লিপার ফ্যাক্টরিটি ছোট পরিসরে উৎপাদন শুরু করে। এখন পর্যন্ত ফ্যাক্টরিটি খুব ভালোভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং এখান থেকে উৎপাদিত স্লিপারগুলো বেশ উন্নতমানের।’

চলমান বৈশ্বিক মহামারিতেও বাধাহীনভাবে এই মেগা প্রকল্পের কাজ চালিয়ে নেয়া কীভাবে সম্ভব হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে ওয়াং কুন বলেন, ‘বৈশ্বিক মহামারির শুরু থেকে বাংলাদেশ ও চীনা কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে সিআরইসি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘কোভিড-১৯ প্রতিরোধে সিআরইসি প্রতিনিয়ত প্রশিক্ষণ, সার্বক্ষণিক নজরদারি, প্রতিদিন জীবাণুনাশকরণ, কঠোর কোয়ারেন্টিন সিস্টেম (যেখানে চীন থেকে আমদানিকৃত পর্যাপ্ত মেডিকেল উপকরণ ব্যবহার করা হয় এবং এই প্রকল্পে অভিজ্ঞ চীনা চিকিৎসকরা কাজ করেন) বজায় রাখে।’

ওয়াং কুন বলেন, ‘প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা অর্জনের মাধ্যমে সিআরইসি পুরোদমে পিবিআরএলপির তৈরির কাজ সম্পন্ন করতে পারবে।’

উল্লেখ্য, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প বাংলাদেশের মধ্য পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত। এই রেলপথ নির্মাণের কাজ শেষ হলে এটি বাংলাদেশের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলকে সংযুক্ত করবে এবং এটিই তখন এই দু’টি অঞ্চলের মধ্যে যাত্রী ও পণ্যবাহী বাহনের পরিবহনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রেলপথটি ঢাকা স্টেশন থেকে শুরু হয়ে মাওয়া, পদ্মা বহুমূখী সেতু (নির্মাণাধীন) এবং ভাঙ্গা হয়ে যশোরে গিয়ে শেষ হবে। নতুন লাইনের মোট দৈর্ঘ্য হবে আনুমানিক ১৬৮ দশমিক ৮ কিলোমিটার। এছাড়াও, চীনের এক্সিম ব্যাংকের অর্থায়নে পিবিআরএলপি দেশের সর্ববৃহৎ জিটুজি ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রকল্প।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ