বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২, ০৬:২৪ পূর্বাহ্ন

পণ্যের মান, ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত করতে বিএসটিআইকে আপসহীন হতে হবে

পরম বাংলাদেশ ডেস্ক
  • প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৪ মে, ২০২২
  • ৩২ Time View

ঢাকা: শিল্প মন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেছেন, ‘পণ্যের মান, ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনকে (বিএসটিআই) আপসহীন হতে হবে।’

এ বিষয়ে তিনি বিএসটিআইয়ের সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

মন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘মেট্রোলজি দিবসের গৃহীত কর্মসূচি ক্রেতা-ভোক্তা, উৎপাদক, আমদানিকরক, গবেষক ও বিএসটিআইয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরো সক্রিয় হতে উৎসাহ যোগাবে।’

শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিএসটিআইয়ের উদ্যোগে ‘বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস’ উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। রোববার (২২ মে) ঢাকার তেজগাঁওস্থ বিএসটিআই প্রাঙ্গণে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। গত ২০ মে ছিল বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস।

পণ্যের মান, ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত করার জন্য বিএসটিআইকে বিশ্ব মানের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার জন্য অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হচ্ছে জানিয়ে নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, ‘বিএসটিআই সক্ষমতার দিক থেকে অনেকদূর এগিয়ে গেছে। বিএসটিআই পণ্যের মান প্রণয়ন, পরীক্ষণ, মান সনদ প্রদান, সঠিক ওজন ও পরিমাপের নিশ্চয়তা বিধান, ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমস সনদ প্রদানের পাশাপাশি দেশিয় পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য ইতিমধ্যে হালাল সার্টিফিকেট দেয়া শুরু করেছে।’ এ কার্যক্রম রপ্তানি বাণিজ্যে বিশাল ভূমিকা রাখবে। পণ্য পরীক্ষণ, ওজন ও পরিমাপের ক্ষেত্রে বিশ্ব মানের সেবা নিশ্চিত করতে বিএসটিআইতে আরো অত্যাধুনিক ৮৯টি ল্যাবরেটরি স্থাপনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে তিনি জানান।

বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক মো. নজরুল আনোয়ারের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানা ও এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন পরিচালক (মেট্রোলজি) প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদুল বারী।

বিএসটিআইয়ে সাথে বঙ্গবন্ধুর সম্পর্কের কথা স্মরণ করে শিল্প মন্ত্রী বলেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমানের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯৭৪ সালে বিএসটিআই আন্তর্জাতিক মান সংস্থা আইএসও এর সদস্যভুক্ত হয় ও ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ কোডেক্স এলিমেনটারিয়াস কমিশনের (সিএসি) ন্যাশনাল কোডেক্স কনট্যাক্ট পয়েন্টের (এনসিসিপি) সদস্যপদ লাভ করে। তারই ধারাবাহিকতায় শেখ হাসিনা শুরু থেকেই একটি শক্তিশালী ও আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করার উপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। বিএসটিআইয়ের টেস্ট রিপোর্ট যাতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য হয়, সে লক্ষ্যে সরকার ও বিএসটিআই কাজ করে যাচ্ছে। পণ্য উৎপাদনে পরিমাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভোক্তারা যেন প্রতারিত না হয়, সে জন্য লেনদেনের ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত মান ও সঠিক পরিমাপের পণ্য নিশ্চিত করতে হবে।’

কামাল আহমেদ মজুমদার বলেন, ‘পণ্যের মান প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের পাশাপাশি নিম্নমানের পণ্য উৎপাদন-সরবরাহ ও ওজনে কারচুপি রোধকল্পে বিএসটিআই নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ও সার্ভিল্যান্স কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে লাইসেন্সবিহীন, নকল পণ্য উৎপাদনকারি ও পরিমাপে কারচুপিকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ফলে অসাধু ব্যবসায়ীরা সতর্ক হচ্ছে ও জনগণ সঠিক ওজন ও পরিমাপে পণ্য পাচ্ছেন। এ ছাড়া বিএসটিআইয়ের ল্যাবরেটরিতে রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস শিল্প, ওষুধ শিল্পসহ বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত ওজন ও পরিমাপক যন্ত্র ক্যালিব্রেশন সেবা দেয়া হচ্ছে।’

জাকিয়া সুলতানা বলেন, ‘তথ্য প্রযুক্তি ও ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করে বিএসটিআইয়ের কার্যক্রমকে অটোমেশনের আওতায় আনার জন্য ইতিমধ্যে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন ও লাইসেন্সের অনৈতিক ব্যবহার রোধকল্পে ওয়েববেইজড কিউআর কোড সম্বলিত সফটওয়্যার প্রবর্তন করতে যাচ্ছে। ফলে ভোক্তাসাধারণ মোবাইল ফোনে এ্যাপসের মাধ্যমে পণ্যের অনুকূলে প্রদত্ত বিএসটিআই লাইসেন্স, সার্টিফিকেট ও আমদানি ছাড়পত্রের সঠিকতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারবেন।’

এ ছাড়া এ সফটওয়্যার ব্যবহার করে গ্রাহকরা ওজন ও পরিমাপ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম যথা- মোড়কজাত পণ্যের নিবন্ধন, ক্যালিব্রেশন সনদ ও ভেরিফিকেশন সনদের তথ্য সহজে যাচাই করতে পারবেন ও কোরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে ওজন ও পরিমাপে কারচুপি না করা ও ভোক্তা সাধারণের স্বার্থ রক্ষায় সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

প্রতিটি স্থল বন্দরে বিএসটিআইয়ের অফিস স্থাপনের প্রস্তাব করে মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, ‘ভারতের সাথে বাংলাদেশের যেসব স্থল বন্দর রয়েছে, তার প্রতিটি স্থল বন্দরে বিএসটিআইয়ের ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হলে আমদানি-রপ্তানি অনেক গতিশীল হবে।’

তাছাড়া বাংলাদেশের পণ্য ভারতে রপ্তানির জন্য বিএসটিআইয়ের সার্টিফিকেট ভারতীয় কর্তৃপক্ষ যেন গ্রহণ করে, সে জন্য উভয় দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদনের প্রস্তাব করেন। ফলে বাংলাদেশের খাদ্য পণ্য রপ্তানি অনেক বৃদ্ধি পাবে। এ ছাড়া তিনি দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় স্থানীয় চেম্বার প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধিকে সম্পৃক্ত করারও প্রস্তাব করেন। গুটিকয়েক অসাধু ব্যবসায়ীর কর্মকান্ডের দায়ভার ব্যবসায়ী সংগঠন নিবে না। তিনি বিএসটিআইকে এ বিষয়ে কঠোর হওয়ার জন্য আহ্বান জানান।

মানসম্পন্ন পণ্য এবং সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিতকরণে মাঠ পর্যায়ে বিএসটিআইয়ের সেবা সম্প্রসারণের জন্য দশটি আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনসহ প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, নতুন নতুন ল্যাবরেটরি স্থাপন ও বিদ্যামান ল্যবরেটরিগুলোর সম্প্রসারণ, মানচিহ্ন নকল প্রতিরোধে অনলাইন কিউআর কোড সম্বলিত লাইসেন্স/সার্টিফিকেট প্রদান, স্বর্ণের বিশুদ্ধতা যাচাইপূর্বক সনদ প্রদানসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক তথ্য তুলে ধরেন বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক।

তিনি বলেন, ‘শিল্প কারখানা বৃদ্ধি ও বর্তমান চাহিদা বিবেচনায় পদার্থ, রসায়ন ও মেট্রোলজি ল্যাব আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের জন্য প্রকল্প নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিএসটিআইয়ের সেবাকে পূর্ণাঙ্গ অটোমেশনের আওতায় আনার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।’

রপ্তানি সম্প্রসারণের জন্য পণ্যের হালাল সনদ দেওয়া শুরু হয়েছে বলেও তিনি জানান।

Share This Post

আরও পড়ুন