মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:২৫ পূর্বাহ্ন

নীলনদ ও পিরামিডের পরে মিশরের অতুলনীয় আকর্ষণ ভুবন বিখ্যাত অপূর্ব সৌন্দর্যের মসজিদগুলো

পরম বাংলাদেশ ডেস্ক
  • প্রকাশ : বুধবার, ৭ জুলাই, ২০২১
  • ৮৯ Time View

নুরুন্নবী নুর: ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা চারুপাঠ’র গদ্যাংশের তৃতীয় অধ্যায়ে ভ্রমণকাহিনীমূলক সাহিত্য সম্বলিত ‘নীলনদ আর পিরামিডের দেশ’ শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠের অংশ হিসেবে দেয়া হয়েছে। রচনাটি সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘জলে ডাঙ্গায়’ গ্রন্থ থেকে সংক্ষিপ্ত ও পরিমার্জিত করে সংকলিত করা হয়েছে। নীলনদ আর পিরামিডের দেশ, রচনায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশ মিশরের বিশেষ করে কায়রো শহরের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে।

‌‌‌‌নীলনদ আর পিরামিডের দেশ’ রচনায় মূলত লেখক সৈয়দ মুজতবা আলী মরুভূমির ভিতর দিয়ে পথ চলার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। লেখক চাঁদের আলোয় আলোকিত মরুভূমির সৌন্দর্যে মুগ্ধ। আবার, চাঁদের আলোয় উঁচু-নিচু বালুর রেখা লেখকের কাছে কিছুটা ঝাঁপসা মনে হয়; যা অনেকটা ভুতুড়ে পরিবেশ সৃষ্টি করে।

বিশ্বের প্রাচীনতম সভ্যতাগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে মিশর সভ্যতা। প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে মিশরের নীলনদকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল মিশরীয় সভ্যতা। মিশরের আবহাওয়া শুষ্ক বলে ঐ সভ্যতার অনেক নির্দশন কালের কবলে হারিয়ে যায়নি।

এছাড়াও ‘নীলনদ আর পিরামিডের দেশ’, এ রচনায় এসেছে চারদিকে মরুভূমি- ঘেরা ঐতিহাসিক কায়রো শহর, কায়রোর অদূরে গিজেয় অবস্থিত পিরামিড ও মিশরের ভুবন বিখ্যাত মসজিদের প্রসঙ্গ। এসবের আকর্ষণে সারা বিশ্বের পর্যটকরা ছুটে যায় কায়রো অভিমুখে। কায়রো শহর আলোয় ভরে যায় রাতের বেলা। রেস্তোরাঁগুলো থেকে ভেসে আসা নানা রকম খাবার-দাবারের সুগন্ধ বাড়িয়ে দেয় পথচারীদের ক্ষুধা।

অদূরেই গিজে শহরে রয়েছে প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার আকর্ষণ ও পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের একটি মিশরের পিরামিড। পিরামিড নির্মিত হয়েছিল মিশরের প্রাচীন সম্রাট ফেরাউনদের মৃতদেহ মমি হিসেবে কবরস্থ করে রাখার জন্য। পাথরের চাঁই দিয়ে তৈরি বিশালাকার সমাধিস্তম্ভ এটি। নীলনদ আর পিরামিডের পরেই মিশরের অতুলনীয় আকর্ষণ হচ্ছে সেখানকার ভুবন বিখ্যাত অপূর্ব সৌন্দর্যের মসজিদগুলো। এসবের টানেই সমঝদার আর ঘরছাড়া মানুষ ছুটে যায় মিশরে।

এ রচনায়ও লেখক মিশর দেশের অনেক অজানা কথা তিনি সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। মিশর যে জন্য বিখ্যাত বা জানার আগ্রহ হয়ে দাঁড়ায়, যেমন- দেশটির নীলনদ, পিরামিড ও মসজিদ সম্পর্কে, তার যে তথ্যবহুল আলোচনা, যে কোন পাঠককে অবশ্যই মোহিত করবে। তার লেখার ধরনও অন্য লেখকদের চেয়ে আলাদা। তার প্রায় প্রতিটি রচনায়, বাক্যে উপমা ও প্রবাদের ব্যবহারের ক্ষেত্রে মুন্সিয়ানা রয়েছে।

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রষ্ঠ রম্য রচনা ও অনন্য গদ্যশৈলীর স্রষ্টা সৈয়দ মুজতবা আলী। তার জন্ম আসামের করিমগঞ্জে ১৯০৪ সালে। রবীন্দ্রনাথের স্নেহসান্নিধ্যে পাঁচ বছর লেখাপড়ার পর তিনি শান্তিনিকেতন থেকে স্নাতক হোন। এছাড়া তিনি আলীগড় কলেজ, বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয় ও কায়রোর আল-আজহার বিশ্ববিদ্যায়েও অধ্যয়ন করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হচ্ছে ‘শবনম’, ‘দেশে বিদেশে’, ‘পঞ্চতন্ত্র’, ‘চাচা কাহিনী’, ‘জলে ডাঙ্গায়’। তিনি ১৯৭৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

সৈয়দ মুজতবা আলী ভ্রমণকাহিনীমূলক বই ‘দেশে বিদেশে’ পড়েছিলাম। এ বইটিকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ভ্রমণ কাহিনী হিসেবে গণ্য করা হয়; অন্য কোন ভ্রমণ কাহিনী আজ পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যে এর মত এতোটা জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারেনি। গ্রন্থটিতে তিনি প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্থানের ভূমি, পরিবেশ; সেখানকার মানুষ ও তাদের সহজ-সরল জীবনাচরণ, বিচিত্র খাদ্য ইত্যাদি হাস্যরসাত্মকভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।

লেখক: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী

Share This Post

আরও পড়ুন