ঢাকাশুক্রবার, ২৭শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নারী পাচারে সহায়তা না করায় ভ্রুণ হত্যার অভিযোগে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর মামলা

পরম বাংলাদেশ ডেস্ক
মে ২৪, ২০২২ ১০:১৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

চট্টগ্রাম: চাকুরীর প্রলোভনে নিজের স্ত্রীসহ অসহায় নারীদের ফাঁদে ফেলে বিদেশে পাচারের চেষ্টা ও তাতে রাজী না হওয়ায় ভ্রুণ হত্যার মাধ্যমে মাতৃত্বের স্বাদ থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগে এক ট্রাভেল এজেন্ট স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তার স্ত্রী। গ্রামের সহজ-সরল ওই নারীর পক্ষে চট্টগ্রাম সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কৌশিক আহম্মেদ খোন্দকারের আদালতে মঙ্গলবার (২৪ মে) মামলাটি দায়ের করেন এডভোকেট গোলাম মাওলা মুরাদ।

এ নিয়ে গোলাম মাওলা মুরাদ বলেন, ‘ভ্রুণ হত্যার মত গুরুতর অপরাধ আমাদের সমাজে হরহামেশাই ঘটার কথা শোনা যায়। এ নিয়ে মাঝে মাঝে অভিযানও চলে ক্লিনিকগুলোতে। তাতে বন্ধ হয়নি ভ্রুণ হত্যার মত গুরুতর অপরাপ। অপরাধীরা অপরাধ করেও বার বার পার পেয়ে যায়। তবে চাকুরীর নামে নিজ স্ত্রীসহ নারীদের বিদেশে পাচারের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে নিজের স্ত্রীকে ওষুধ খাইয়ে ভ্রুণ হত্যার মত ব্যতিক্রমী ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি একজন ভুক্তভোগী নারীর মাধ্যমে আদালতের নজরে আনা হয়েছে, যেন এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আর কেউ ঘটাতে সাহস না পায়।’

সন্তান সম্ভবা হয়েও স্বামীর চাহিদা মত বিদেশে যেতে রাজী না হওয়া আর অন্য নারীদের জোগাড় করে দিতে অপারগতা প্রকাশ করার অপরাধে স্বামীর কৌশলের কারণেই মাতৃত্বের স্বাদ থেকে বঞ্চিত হন লোহাগাড়ার পশ্চিম কলাউজানের এক নারী। জ্বর ও সর্দির ওষুধের নাম করে ওই নারীকে ভ্রুণ হত্যার ওষুধ খাইয়ে গর্ভের সন্তান নষ্ট করেন ওই নারীর স্বামী।

ওই নারীর অপরাধ- ট্রাভেল এজেন্ট স্বামীর চাহিদা মোতাবেক বিদেশ যেতে অস্বীকৃতি জানানোর পাশাপাশি গ্রাম্য সহজ, সরল নারীদের চাকুরির নামে বিদেশে পাচারে সহযোগিতা না করা। সর্বশেষ সন্তান সম্ভবা হওয়ার পর ওই নারীকে গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য স্বামী চাপ দিলে সন্তান নষ্ট করতে অস্বীকার করেন ওই নারী। তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রীকে তালাকের হুমকি দেন স্বামী। করেন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনও।

মামলার বিবরণে জানা যায়, চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়ার ওই নারীকে নিজেই পছন্দ করে ২০২১ সালের ১৭ জুন রেজিষ্টার্ড কাবিননামা মূলে ছয় লক্ষ টাকা দেনমোহর ধার্য্য করে ইসলামী শরীয়তের বিধান মতে সামাজিকভাবে বিয়ে করেন সিটির লালদিঘির পাড়ের এক ট্রাভেল এজেন্টের মালিক এসএম নাছির উদ্দিন। বিয়ের কিছু দিন পরেই জানা যায়, নিজের এক স্ত্রী ঘরে রেখেই ওই নারীকে বিয়ে করেছেন তার স্বামী। তাছাড়া স্ত্রীদের ছাড়াও স্বামী অন্য নারীদের বিচিত্র সঙ্গ পছন্দ করেন। পরনারীদের প্রেমেও আসক্ত। স্ত্রীকে বলেন, ‘বিয়ে করেছেন নারীদেরকে বিদেশে পাচারের সহযোগিতা পাওয়ার আশায়।’ এতে রাজী না হওয়ায় প্রথমে স্ত্রীকে অন্য বাসায় থেকে তার সাথে সংসার করতে বাধ্য করেন স্বামী। পরবর্তী ওই নারী সন্তান সম্ভবা হলে গর্ভের সন্তানটি নষ্ট করে ফেলতে বলেন। নষ্ট না করলে বিবাহ বিচ্ছেদের হুমকি দেন। স্ত্রী বলেন, ‘মানুষ কত কষ্ট করে একটা সন্তান পাওয়ার জন্য। আর গর্ভে সন্তান আসার পর সেটা নষ্ট করতে গেলে জীবন ঝুকিও থাকে।’ এক দিন জ্বরের ওষুধের কথা বলে ওই নারীকে ভ্রুণ হত্যার ওষুধ খাইয়ে দেন তার স্বামী। প্রথমে বুঝতে না পারলেও কিছু দিন পরই ওই নারী বুঝতে পারেন, তার গর্ভের সন্তানটি কৌশলে নষ্ট করে দিয়েছেন তারই স্বামী। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ফের বিবাহ বিচ্ছেদের হুমকি দেন স্বামী। অবশেষে আইনের আশ্রয় নেন নির্যাতিতা অসহায় ওই নারী।

Facebook Comments Box