রবিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২২, ০২:৩৭ পূর্বাহ্ন

নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সরকারের বিশেষ উদ্যোগগুলো সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে

  • প্রকাশ : রবিবার, ৭ মার্চ, ২০২১
  • ৩৫৩ Time View

‘যদিও এবারের প্রতিপাদ্য ইকুয়ালিটিকে সামনে রেখে, কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে কোভিট-১৯ নারী পুরুষের অসমতাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। আমার ব্যক্তিগত ইচ্ছা- আমি যেমন আমার ঘর থেকে উদ্যোক্তা হওয়ার প্রেরণা এবং সাহস পেয়েছি, প্রতিটা পরিবার এভাবেই নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করবে।’ -আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে এটাই রুমার চাওয়া।

শাহীনা আক্তার রুমা একজন নারী ব্যবসায় উদ্যোক্তা। দীর্ঘ দিন বেসরকারি শিপিং কোম্পানিতে চাকুরী করেছেন। স্বাধীনভাবে কিছু করবার তাগিদ থেকেই মূলত উদ্যোক্তা হওয়ার চিন্তা। বর্তমানে কাজ করছেন দেশীয় চামড়াজাত পণ্য নিয়ে। উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশে প্রথম বারই পুরস্কৃত হয়েছেন চট্টগ্রাম উইমেন চেম্বার অব কমার্স থেকে।

নারী উদ্যোক্তা হিসেবে তার ভাবনা হচ্ছে- আপাত দৃষ্টিতে আমাদের নারীরা পিছিয়ে নেই বিশ্বাস করলেও বাস্তবতা ভিন্ন। সত্যিকার অর্থে নারীকে এগিয়ে আসার জন্য সামাজিক প্রতিকূলতাগুলো পার হতে মানসিকভাবে শিক্ষিত জনগোষ্ঠী পাশে থাকলে তবেই নারীর পথ চলা সুগম হবে। নয়তো উদ্যোক্তা বলেন আর চাকরি সব ক্ষেত্রেই নারী ক্ষমতায়ন/স্বাবলম্বী হয়ে ওঠা সামগ্রিকভাবে জটিল।

উদ্যোক্তা হিসাবে শাহীনা আক্তার রুমার একটাই লক্ষ্য একটাই পরিকল্পনা। আর সেটা হল ‘ছোট আঙ্গিকে শুরু করলেও যেতে হবে অনেক দূর, বড় পরিসরে কাজ না করলে সমাজ বা দেশের জন্য কার্যকর কোন ভুমিকা রাখা প্রায় অসম্ভব।’ ‘তাই সঠিক পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের মাধ্যমে ব্যবসায়ের কাঠামো এবং পরিসর দুটোই বড় এবং স্থায়ী করতে চাই।’

চট্টগ্রামের সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এখন অনেক নারী ‘উদ্যোক্তা’ হিসেবে ভালো কাজ করছেন বলে তিনি মনে করেন।

একজন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে কি কি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেছেন? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘একজন নারীকে প্রতিনিয়তই চ্যালেঞ্জের মুখে থাকতে হয়। সংসার, স্বামীর পাশাপাশি নিজের স্বপ্নের পথে হাঁটাতো একটা বাড়তি চাপ। তবে বাড়তি চ্যালেঞ্জ একজন নারী একজন যোগ্য সঙ্গীর অনুপ্রেরণাতেই সফলভাবে সামলাতে পারেন। এটা গেল ব্যক্তিগত পর্যায়ে। ব্যবসায়ীক দিক দেখতে গেলে নারী পুরুষের সমস্যা প্রায় একই রকম। ঠিক পণ্য উৎপাদন, উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং ধরে রাখা, ক্রেতাদের কাছে পৌঁছাতে পারা, চাহিদা এবং যুগের সাথে যুগপৎ তাল মিলিয়ে রাখতে পারা। প্রতিযোগিতায় টীকে থাকতে পারা। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সরকার যে বিশেষ উদ্যোগগুলো হাতে নিয়েছে, সেগুলো সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছালে আমরাও এদেশের অগ্রযাত্রায় পুরুষের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতে পারবো।

পণ্যের প্রচার ও প্রসারে রুমার সুপারিশ হল- প্রথমত পণ্যের চাহিদা ভিত্তিক উৎপাদন এবং ক্রেতাদের প্রয়োজনগুলোকে সুক্ষ্ণ বিচার বিশ্লেষণ করতে পারাটা খুবই জরুরী। এরপরেই আসে পণ্যের উপস্থিতি এবং প্রতিযোতায় টিকে থাকবার যোগ্যতা। মানুষ ইউনিক এবং ভালো পণ্য সব সময় কিনে, অনেক সময় বেশী দাম দিয়েও কিনে। ই-কমার্সের যুগে আপনি কতটা যোগ্যতা দেখাতে পারছেন ডিজিটাল মার্কেটপ্লেসে সেটাও বেশ জরুরী।

শাহীনা আক্তার রুমা ১৯৭৫ সালে ৮ মার্চ চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বড়ও হয়েছেন চট্টগ্রামে। ইডেন মহিলা কলেজ থেকে গ্রাজুয়েশন এবং ইউআইটিএস থেকে করেছেন এমবিএ। ব্যক্তিগতভাবে তিনি একজন গৃহিণী। বাবা আলকাজউদ্দিন আহমেদ ছিলেন সরকারি চাকুরীজীবি ও মা রাজিয়ান্নাহার বেগম একজন গৃহিণী ছিলেন। তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে রুমা পঞ্চম। স্বামী একজন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকুরীজীবি, তাদের দুজন কন্যা সন্তান রয়েছে।

প্রিয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে অনেকের মধে হুমায়ুন ফরিদী অন্যতম। যে কোন মজার রান্না রুমার প্রিয়। প্রিয় মুখ এখনও ‘মা’র। অবসরে ঘর গুছানো তার পছন্দের কাজের একটি। রুমা শিশু সংগঠন ‘খেলাঘরের সাথে কাজ করছেন। এছাড়া তিনি প্রমা আবৃত্তি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। আয়েশা আবেদ খান রুমার প্রিয় নারী উদ্যোক্তা।

নিজের সম্পর্কে তার মূল্যায়ন ‘আমি আত্নবিশ্বাসী, কোন কাজ শুরু করলে তা নির্দষ্ট সময়ে আত্মনিষ্ঠ হয়ে করার চেষ্টা করি।’

Share This Post

আরও পড়ুন