রবিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২২, ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন

নাজিমুদ্দীন শ্যামলের ‘হারিয়ে যাওয়া হাতগুলো’: কবিতায় বাস্তবতার হাতছানি

নুরুন্নবী নুর
  • প্রকাশ : সোমবার, ৯ নভেম্বর, ২০২০
  • ৩৩৯ Time View

দীর্ঘ দিন ধরে কবিতার বই পড়া হয় নি। একঘেয়ে লাগছে। সে দিন ক্যাম্পাসে গিয়ে তিনটি পুরাতন বই সংগ্রহ করলাম। তন্মধ্যে একটি হল নাজিমুদ্দীন শ্যামলের ‘হারিয়ে যাওয়া হাতগুলো’।
কবির আরেকটি বই ‘চলচ্চিত্র বীক্ষণ’ আংশিক আমার পড়া আছে। আংশিক বলছি এ জন্য যে, বইটি ভার্সিটি জীবনে রেফারেন্স বই হিসেবে চলচ্চিত্র পাঠে একাডেমিক কোর্সভুক্ত বিষয়ের সাথে কিছুটা সম্পৃক্ত ছিল।

পড়ে খুব ভালো লেগেছে, কবির ‘হারিয়ে যাওয়া হাতগুলো’ কাব্যগ্রন্থটি পড়ে। তার কবিতায় বাস্তবতার হাতছানি রয়েছে। জীবনের সাথে কবিতার প্রতিটি চরণ ওৎপ্রোতভাবে জড়িত। প্রত্যেক কবিতা আমাকে দারুণভাবে টেনেছে। মনে হয়েছে, কবিতার ঘটনাগুলো একমাত্র আমারই কথা বলে। কবিতার বই নিয়ে কম লিখি। কবিতার যে মর্মার্থ, সেটা আমার মতোন নগন্য পাঠক, শব্দের স্রোতে বর্ণনা করা বেশ কষ্টসাধ্য। তারপরও খানিকটটা পড়া বইটি হদঙ্গম করতে ভাবাবেগ লিখে রাখার চেষ্টা করি। এটি আমার একটি সহজাত অভ্যাস। লিখে রাখলে মনে হয়, বইটি পড়েছি।

‘হারিয়ে যাওয়া হাতগুলো’ কাব্যগ্রন্থে মোট ৫৭টি কবিতা রয়েছে। প্রতিটি কবিতা মন ছোঁয়ার মতোন। বাস্তবতা যেন চরণে চরণে। কবিতাগুলো হল- চট্টলবীর, আপনি যাওয়ার আগে, শব্দ মোহর বিলিয়ে দিলাম, দুঃখ শালিক, কুড়িয়ে পাওয়া ঘুম, স্বপ্নখণ্ড, যুদ্ধকথা, নতুন বছর এলে, বৈশাখের প্রার্থনা, গ্রহণের কাল, মন খারাপের মেঘ, বসন্ত কথন, অনন্ত শোকবার, মেঘলিপি, এপিটাফ, ছেড়ে যাওয়া হাতগুলো, এক মুক্তিযোদ্ধার জন্য, দুয়ারে দাঁড়িয়ে রোদেলা দুপুর, বৈশাখী বন্দনা, অপেক্ষা, প্রার্থনা ১, প্রার্থনা ২, রিনি রহমান কবিতা ছিলো, দেখতে থাকি, বাদল ও বন্যার গল্প, পকেট ভর্তি দুঃখরাজি, ভুলে যাওয়া নীল চোখ, দাঁড়ানোর সময় নেই, সর্বংসহা মাটির মতোন, রাতের পার্টিতে আলোহীন থাকে মানুষ, জীবন তো জীবন হলো না, শুন্যতা, কালো রাতের বৃক্ষ, চারপাশে রোগাক্রান্ত সময়, পাঁচ আঙুলের জীবন, শূন্য সময়, মৃত পতঙ্গ, মৃত্যুর মতোন, অপরাজেয়, চিঠি হয়ে যাই, তোমার দিকে, শেষ বিকেলের দহন, মৃন্ময় কিষাণ, পাথর ১, পাথর ২, পাথর ৩, পাথর ৪, পাথর ৫, চট্টগ্রাম, অপারগতা, চিঠি লিখি, দৃশ্যপট, কথা, তোমাদের শহরে বৃষ্টি নেমেছে ও মনে রেখো।

নাজিমুদ্দীন চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার পশ্চিম ধলই ইউনিয়নে ১০ সেপ্টেম্বর ১৯৬৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। সমুদ্র তীরবর্তী পতেঙ্গায় তার বেড়ে ওঠা। পড়াশোনা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় রসায়ন বিভাগে। ১৯৯০ এর স্বৈরাচারী আন্দোলনের অন্যতম ছাত্রনেতা। চট্টগ্রাম চলচ্চিত্র কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘ দেড় দশক তিনি চলচ্চিত্র আন্দোলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি নাট্য আন্দোলের সাথেও যুক্ত ছিলেন।

তিনি প্রায় ডজন খানেক কাব্যগ্রন্থ লিখেছেন। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- ঘুমের বাজার, অলৌকিক এই পরিব্রাজন, দুঃখ পুরাণ, মেঘের স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকি, পুরাতন সিন্দুকের পুস্তান, সে কথা পাখিরা জানে না, নিসর্গের প্রতিবেশী, চোখের কলস, কবিয়াল, বিপ্লবে আমার বিশ্বাস ও কবিতা কাঁদে।

এ ছাড়াও চলচ্চিত্র বিষয়ক ‘চলচ্চিত্র বীক্ষণ’সহ ‘সিনেমার লেখা’ রয়েছে। ‘নাট্যজনের মুখোমুখী’ নামের একটি থিয়েটার সম্পর্কিত বইও আছে। গবেষণা গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- বাঙালি ও বাংলাদেশ, বাংলাদেশের উপজাতিদের শিক্ষার সংকট ও উত্তরণের সম্ভাবনা এবং পরিপ্রেক্ষিত পার্বত্য চট্টগ্রাম।

শুরুতে মনিরুল মনিরের ভূমিকায় কাব্যগ্রন্থের মূল সুর উঠে এসেছে। খড়িমাটি কর্তৃক প্রকাশিত এবং ‘ড. জেসমিন আকতার কহিনুর, নাজনীন আকতার রেখা, নাশরিন আকতার রিতা
আমার বোনেরা ভালবাসার খনি
আমার বোনেরা দু’চোখের মণি
আমার বোনেরা আকাশের পরী’
উৎসর্গকৃত ‘হারিয়ে যাওয়া হাতগুলো’ কাব্যগ্রন্থের প্রচ্ছদে ড. জেসমিন আকতার, গ্রন্থস্বত্বে আরশী রুবাই নদী ও আনজু রুবাই নীল, মুদ্রণে দি নিপুণ প্রিন্টার্স এবং শেষে কবির আলোক চিত্রগ্রাহক মাসুদুল হক।

‘হারিয়ে যাওয়া হাতগুলো’ কাব্যগ্রন্থের প্রচ্ছদ মূল্য ২০০ টাকা। তবে পুরাতন বই থেকে তিনটি বই এক সাথে নেওয়ায় মূল্য খানিকটা নিয়ন্ত্রণে ছিলো।

লেখক:

নুরুন্নবী নুর

হাটহাজারী, চট্টগ্রাম
৫ নভেম্বর, ২০২০।

Share This Post

আরও পড়ুন