শিরোনাম
এস আলম গ্রুপের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পুলিশের গুলিতে শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ গ্যালাক্সি এম০২ হ্যান্ডসেটে ১০০ দিনের রিপ্লেসমেন্ট ওয়্যারেন্টি দিচ্ছে স্যামসাং বাঁশখালীতে গুলি করে শ্রমিক হত্যা; সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট চট্টগ্রামের তীব্র নিন্দা আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্থগিতকরণ প্রভাব ফেলছে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ ও অন্য মেগা প্রকল্পে বাঁশখালীতে এস আলম গ্রুপের কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে শ্রমিক নিহতে খেলাফত মজলিসের নিন্দা বীমা খাতে প্রথম ‘তিন ঘন্টায় কোভিড ক্লেইম ডিসিশন’ সার্ভিস চালু মেটলাইফের মুজিবনগর সরকারের ৪০০ টাকার চাকুরে জিয়ার বিএনপি ইতিহাসকে অস্বীকার করতে চায় ধারাবাহিক ছোট গল্প: পতিতার আলাপচারিতা । পর্ব পাঁচ এস আলম গ্রুপের কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে পুলিশের গুলিতে শ্রমিক হত্যার নিন্দা ও বিচার দাবি সাতকানিয়ায় সোয়া কোটি টাকার ৩৮ হাজার ইয়াবাসহ ট্রাক চালক ও হেলপার গ্রেফতার
রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ০৮:১৩ পূর্বাহ্ন

নন্দিতা ভট্টাচার্য্যের গল্প: অসমাপ্ত সম্পর্ক

রিপোর্টারের নাম / ১৫৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২০

‘চোখের দৃষ্টিতে যাকে রাখতে চাও, তাকে মনের দৃষ্টিতে পড়তে চেও না। কারণ, দৃষ্টি কখনো সৃষ্টিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে না। দৃষ্টিতে যে কোনো কিছু সুন্দর বলা যায়, কিন্তু তা স্বচ্ছ হয় না। সভ্য স্বচ্ছতার আত্মপ্রকাশ ঘটে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে। আমরা অনেকে আছি, যা দেখি অথবা আমাদের রেটিনাতে যা ধরা পড়ে তাতেই আনন্দিত অথবা দুঃখিত হয়ে স্নায়ু রিজুর মাধ্যমে মস্তিষ্কের স্নায়ুপথ দিয়ে মুখঃ অবয়ব দিয়ে শৃঙ্খলা রক্ষা করে প্রকাশ করে থাকি। আমাদের অনুভূতিগুলো কিন্তু সত্যি মটা কি সেটা? যা দেখছি তা কি আদতে তারল্য সত্য! মতামতে জানাবো না। মনের দৃষ্টি মেলে আগত অনাগত ভবিষ্যতের ইঙ্গিত স্পৃহা জাগানোর চেষ্টা করতে চাইলে নেহাৎ মন্দ হবে না…..

লেখাটা অসমাপ্ত এতোটুকু এসে ভরাট পৃষ্ঠাতে গোট গোট করে লেখাটা খুব যুক্তি ও কিছুটা ব্যক্তিগত আক্ষেপ থেকে লেখা তা বুঝতে বিন্দুমাত্র অসুবিধে হলো না। কিন্তু যিনি লিখলেন তাকে দেখছি না কেন?

‘খখখ্কখকক’

গলা খাকড়ি শুনে হতচকিত হয়ে পিছনে ঘুরে তাকালাম। এক বার বেশ শৌনিক চেহারা তীক্ষ্ণ দৃষ্টি মেলে তাকিয়ে বললেন,’কে?’
আমি বললাম, ‘আমি”। ( হতচকিত হয়ে)।
ভদ্রলোক আবার বললেন, ‘তা তো দেখছি। তুমি, কিন্তু কে হে তুমি মা? বিনা অনুমতিতে আমার গৃহে?
বললাম স্যার! আপনি কি? মুখের কথা কেড়ে নিয়ে বললেন তিনি আমি যুধিষ্ঠির মিত্র। আমি তো হতবাক। একবার ভালো করে তাকিয়ে দেখে নিলাম তাকে। পাড় দেওয়া ধুতি আর মসলিন সাদা পাঞ্জাবী সোনালী কাজ করা। বেঁটেও না লম্বা ও না। এমন পিটানো শরীর চোখের কোণে বয়সের ছাপ স্পষ্ট দেখলে বলা যায়, তিনি ষাটোর্ধ বা তার বেশি বয়স। বৃদ্ধ কিন্তু শরীর বলে বছর পঞ্চাশ এমনটা।

আবার ডাক দিলেন, কি দেখছো মা? কিছু বিশেষ কারণ? বললাম না, কিছু না দাদু! সরি আপনাকে দাদু বললাম বলে। তিনি বললেন, ‘না ঠিক আছে। আমি তোমার নতুন সম্বোধনে আনন্দিত।’

উনার বাড়িটা ডুপ্লেক্স। চোখ বুলিয়ে যতটা দৃষ্টি পড়ে দেখি টেরাকোটার মূর্তিসহ একাধিক শোপিস। আর তিনি প্রচুর শৌখিন। বললাম, ‘দাদু, একটা আবদার ছিল?’ তিনি আবার বললেন, ‘তোমার পরিচয়টা….’
‘আমি প্রমি। ভালো নাম প্রমীলা মিত্র।’
আপনাদের এখানে আমি শুটিং করতে এসেছি ঐ যে আমাদের টিম আঙুল বাড়িয়ে দেখিয়ে দিলাম কিছুদূরে দাঁড়ানো স্বপন, তাড়ক, সুবর্ণ আর ঋদ্ধিমাকে। আমি জার্নালিস্ট। আজ রবিবার। তাই এলাম আপনার এলাকায় বনভোজন করতে। এই জলপাইগুড়িতে আপনার নাম ও যশ শুনে আপনাকে দেখতে ও জানতে ইচ্ছে ছিল। তাই আপনার সাথে বিনা অনুমতি এপয়েটমেন্ট না করে চলে আসি। অবশ্য আপনার দারোয়ান ঢুকতে দিতে চায় নি। আমি অনেক বলে হাফ আওয়ার সময় নিয়ে ঢুকলাম। এতটা বলে দম নিলাম। হাঁপিয়ে গেছি, গলা শুকিয়ে যাওয়ার যোগাড় হলো। ওনার ভ্রুকুটি দেখে জোড়া দুই ভ্রুর ওপর দিয়ে যেন আয়রন করতে মন চাইছে। দৃষ্টিতে এতো সংসয় তার নাকি অন্য কিছু! হঠাৎ করে আমার চিন্তাতে ভুঁইফোঁড় করে বললেন, ‘অহ! আচ্ছা তা মা কি উপকার করতে পারি তোমার?’ ততক্ষণে সামলে নিতে পেরেছি অনেকটা। এখন আর অহেতুক বিড়ম্বনা হচ্ছে না। স্বাভাবিকভাবেই বললাম, ‘আপনার সাথে আলাপ করে চলে যাবো।’ চোখ পড়লো দেওয়ালে টাঙিয়ে রাখা একটা ফ্যামেলি প্রট্রেট পিক বাঁধানো। অকুস্নাৎ থমকে গেলাম আমি। বাঁধানো ছবিটা আমার পরিচিত। ততক্ষণে তিনি চায়ের বন্দোবস্ত করে নিলেন আর কাস্মীরী শালটা আরামকেদারা থেকে তুলে নিয়ে নিজের কাঁধে ঝুলিয়ে বললেন, ‘আমি যুধিষ্ঠির মিত্র। চাকরি করেছি ফরেস্ট অফিসার হিসেবে। রিটায়ার করে টুকটাক লেখালেখি করি। চাকরির বদৌলতে এখানে থেকে যাওয়া। আমি বিপত্নীক। আমার স্ত্রী মারা গিয়েছে আজ থেকে বছর দশেক আগে। তখন থেকে আমি একা মানুষ। একটা মেয়ে ছিল। বেশ বড় হয়েছে। আর সেও আমার থেকে দূরে কোথাও পছন্দ করে বিয়ে করেছিল। তাই মেনে নিতে পারি নি আজো।

বলতে বলতে ভেঙে পড়লেন। আমি চুপ করে চায়ে চুমুক দিয়ে যাচ্ছি। ইকটু ইকটু করে বললাম, ‘দাদু, একটা ব্যাক্তিগত প্রশ্ন করতে পারি?’ হঠাৎ করে পাইপে টান দিয়ে বেশ ঘন করে ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে বললেন, ‘হ্যাঁ মা। বলো তুমি!’ বললাম, ‘মানুষ তো ভুল করে। আপনি কি মেনে নিতে পারলেন না আপনার মেয়েকে? তিনি একমুহূর্ত চুপ থেকে বললেন, ‘আমি যুধিষ্ঠির মিত্র। এক কথায় চলি কিন্তু একমাত্র মেয়ে বলে টান খানিকটা আছে। তাই গিয়েছিলাম তাদেরকে আনতে কলকাতা। কিন্তু গিয়ে শুনি, তারা চলে গেছে অন্য কোথাও। তুমি কি আরও কিছু জিজ্ঞেস করবে?’ হঠাৎ করে প্রশ্নটা শুনে বুঝতে পারছিলাম উনি কথা বলতে ইচ্ছুক নন। বললাম ‘একটা শেষ প্রশ্ন করি।’ চেয়ার থেকে উঠে তিনি দাঁড়ালেন। মুখ ঘুরিয়ে ব্যালকনিতে এসে বাইরে দৃষ্টি। বললেন গম্ভীর স্বরে, বলো!’ বললাম, ‘ছবিতে কি আপনি ও আপনার পরিবার?’ তিনি অস্ফুট স্বরে বললেন, ‘হ্যাঁ। আমি স্ব স্ত্রীত্রীক আমার মেয়ে মোনা। ভালো নাম মোনালি মিত্র।’

হঠাৎ করেই স্বপন ঢুকলো। হুড়মুড় করে বলল, ‘কিরে, তুই এখানে? আমি হন্যে হয়ে খুজছিলাম তোকে।’

যুধিষ্ঠির বাবু দৃষ্টি ফেরালেন। আমি বললাম, ‘দাদু, আসি।’ উনিও মাথা নাড়লেন আর কিছু বললেন না। উঠে এসে বসলাম গাড়ি তে।

চোখের কোণে চিকচিক করে উঠল জল। পড়ে থাক, না বলা ডাক। ‘তোমায় ভালোবাসি দাদু।’

তোমায় বলা হয় নি দাদু, তোমার মোনা হলো আমার মা ‘মোনালি মিত্র’। আমি তোমার নাতনি প্রমি। তোমার লেখাগুলো পড়তে ভালো লাগে। প্রথম মা আমাকে দেয় তোমার লেখা ‘জঙ্গল অবিনশ্বর’ বইটি পড়তে।

কিন্তু তখনও জানতাম না, তুমি আমার দাদু। বইয়ের এক পাতায় একটা তোমার হাতে আঁকা ছবিতে দেখি, তোমায় আমার মায়ের সাথে বসা তৈলচিত্র। কৌতুহল হলো, তাই তোমায় জানতে এলাম।
তুমি কেমন আছো?
দাদু!
ব্যাস, এটুকু। দিন শেষ রাত এলো।
গাড়ি চলছে…..

সমাপ্ত

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ