শিরোনাম
এস আলম গ্রুপের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পুলিশের গুলিতে শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ গ্যালাক্সি এম০২ হ্যান্ডসেটে ১০০ দিনের রিপ্লেসমেন্ট ওয়্যারেন্টি দিচ্ছে স্যামসাং বাঁশখালীতে গুলি করে শ্রমিক হত্যা; সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট চট্টগ্রামের তীব্র নিন্দা আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্থগিতকরণ প্রভাব ফেলছে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ ও অন্য মেগা প্রকল্পে বাঁশখালীতে এস আলম গ্রুপের কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে শ্রমিক নিহতে খেলাফত মজলিসের নিন্দা বীমা খাতে প্রথম ‘তিন ঘন্টায় কোভিড ক্লেইম ডিসিশন’ সার্ভিস চালু মেটলাইফের মুজিবনগর সরকারের ৪০০ টাকার চাকুরে জিয়ার বিএনপি ইতিহাসকে অস্বীকার করতে চায় ধারাবাহিক ছোট গল্প: পতিতার আলাপচারিতা । পর্ব পাঁচ এস আলম গ্রুপের কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে পুলিশের গুলিতে শ্রমিক হত্যার নিন্দা ও বিচার দাবি সাতকানিয়ায় সোয়া কোটি টাকার ৩৮ হাজার ইয়াবাসহ ট্রাক চালক ও হেলপার গ্রেফতার
রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ০৯:১১ পূর্বাহ্ন

ধারাবাহিক রম্য গল্প: হরমুজ আলী

চৌধুরী মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম / ১৭৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২০

হরমুজ আলীকে হাটহাজারী উপজেলার আলীপুর গ্রামের লোকেরা আড়ালে তরমুজ আলী বলে ডাকে! তবে লোকেরা তাকে একটি সুস্বাদু ফলের নামে ডাকলেও তার চরিত্র মাকাল ফলের মত।

স্বঘোষিত সমাজ সেবক হরমুজ আলী গ্রামের প্রায় সব কুট কৌশল, কাজ কর্মে জড়িত ও আলোচিত। তাকে এলাকার লোকেরা সামনা-সামনি কিছু না বললেও পেছনে ঠিকই বজ্জাত বলতে দ্বিধা করে না।

এই তো সে দিন, পৌরসভার ফটিকায় তার কবজায় থাকা সরকারি জায়গায় গড়ে তোলা দোকান উচ্ছেদে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভূমি কর্মকর্তা আসলে, তিনি দুই জনকে অমানবিক ও অধার্মিক বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘যে দোকানের ভাড়ার টাকা মসজিদে দান করা হয়। সে দোকান উচ্ছেদ, হায় হায়; গজব পড়বে, গজব!

তার এমন কৌশলী কথায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিব্রত না হয়ে বরং হরমুজ আলীকে হিসেব করে দেখালেন, সরকারী জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে উঠা তার বিশটি দোকানের মাসিক ভাড়া পঞ্চাশ হাজার টাকা। সে টাকাকে জায়েজ করতে মাসে পাঁচ হাজার টাকা মসজিদে নামকাওয়াস্তে দান করে ধর্মের নাম বেচলেও বাকি টাকা ঠিকই হরমুজ আলীর পেটে যায়।

এছাড়া দোকান প্রতি তিন লাখ করে নেওয়া টাকাও সে ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট করে রেখেছে। আর গ্রামের লোকদের সে বলে বলে বেড়ায়, দোকানের টাকা মসজিদ ফান্ডে দান করে।

তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এমন পাকা হিসেবে হরমুজ আলী বেলুনের মত চুপসে গেলেও দমে থাকেনা তার কুটকৌশল।

এই তো সেদিন ছদর আলীর ছেলে রবিউল নাকি তাকে দেখেও সালাম দেয় নি। কাজি পাড়ার মোড়ের দোকানে বসে চায়ে চুমুক দিয়ে রাগে গজ গজ করতে করতে বলে, ‘বুঝেছো রফিক মিয়া? এখন আমাদের মান ইজ্জত বলতে কিছু নেই। ছদর আলীর ছেলেটা খুব বেয়াদব হয়ে গেছে। আমাকে দেখে সালাম দেওয়া তো দুরের কথা, কেমন যেন চোখ রাঙিয়ে দেখে চলে গেল। তোমার সাথে ছদর আলীর দেখা হলে তা বলবে, ছেলেকে আদব শিক্ষা দিতে৷’

রফিক মিয়া হরমুজ আলীর টাকায় চা সিঙারা খেয়ে বলল, ‘আলবত বলব। আপনার মত লোকের সাথে বেয়াদবি!’

ছদর আলীর পাশের প্রতিবেশী করিম মিয়ায় আর্থিক অবস্থা বেশ ভালো। কয়েক বছর ধরে সে ছদর আলীর জমিটা দখলে নেওয়ার পায়তারা করছে। এবার সে জমিটা দখলেও নিয়েছে। আবার ছদর আলীকেও এক ঘরে করা হল। কারণ ছদর আলীর ছেলে বেয়াদব, সে মুরব্বিদের সম্মান করে না৷ এছাড়া তার মেয়েকে নাকি আঁধারে বাঁশ ঝাড়ে কার সাথেও দেখেছে রফিক মিয়া।

দবির মিয়া ছদর আলীকে বলল, ‘তার জমি দখলের আগের দিন করিম মিয়াকে বড় একটা রুই মাছ ও খাচা ভর্তি বাজার নিয়ে হরমুজ আলীর ঘরে যেতে দেখেছে।

(চলবে)

লেখক: কলামিস্ট ও গণমাধ্যম কর্মী।

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ