মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:১৭ পূর্বাহ্ন

ধারাবাহিক রম্য গল্প: হরমুজ আলীর মত হাজারো বিষাক্ত সাপ এখন খোলস পাল্টে খাস দেশপ্রেমিক

চৌধুরী মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম
  • প্রকাশ : বুধবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ২০৬ Time View

পর্ব-তিন: করোনায় বিজয় দিবস হরমুজ আলীর জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।

এ ভাইরাসের সংক্রমণে বিজয় দিবসের তেমন কোনো আনুষ্ঠানিকতা না থাকার সুযোগটা পুরোপুরি লুফে নিয়েছে হরমুজ আলী।

সে এবার শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার মত পবিত্র কাজ সেরে ফেলেছেন। অন্য বার সে শহীদ মিনারে ফুল দিতে গিয়ে দৌঁড়ানী কিংবা সাধারণ মানুষের কটু কথা হজম করতে হলেও এবার তা হতে হয়নি।

বিজয় দিবসে শহীদ মিনারে দলবল নিয়ে ফুল দিয়েছে হরমুজ আলী। আবার নিজ উদ্যোগে ছোট-খাটো আলোচনা সভায় বক্তব্যও দিয়েছে সে। তার দেওয়া ফুল ও বক্তব্যের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ভেসে বেড়াচ্ছে।

এ নিয়ে হাটহাজারী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষোভের শেষ নেই। এ এলাকার বয়স্ক লোকদের কাছে হরমুজ আলী কেবল একজন খারাপ লোক নয়ই নয়, একজন পল্টিবাজও বটে।

কয়েক বছর আগেও সে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করে নানা কথা বলত। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের লোকদের নাজেহালসহ হয়রানি করত। পরে সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে গিরগিটির মত খোলস পাল্টাতে শুরু করে তার।

মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের অনেকের সাথে নানা কৌশলে খাতিরও জমিয়ে ফেলে। তবে যারা হাটহাজারী কাটির হাটের বধ্যভূমির ইতিহাস জানেন, তাঁরা হরমুজ আলীকে দেখলেই বাতাসে এক দলা থুথু ছিটিয়ে ঘৃণা প্রকাশ করেন।

সে দিন মোড়ের চায়ের দোকানে মুক্তিযোদ্ধা ছদর আলী আক্ষেপ করে বললেন, ‘বুঝলে গফুর মিয়া, আমরা যারা দেশের পতাকা ছিনিয়ে আনার যুদ্ধে নেমেছিলাম, তাদের চোখে হরমুজ আলীর খোলস পরিবর্তন দেখার চেয়ে ফাঁসির রশি গলায় দেওয়া অনেক প্রশান্তির। কি করব? হরমুজ আলীর মত হাজারো বিষাক্ত সাপ এখন খোলস বদলে খাস দেশপ্রেমিক।’

হরমুজ আলীর বাবা কলিম উদ্দিন একজন চিহ্নিত রাজাকার। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর লোকদের ধরে নিয়ে হত্যা ও নির্যাতনসহ কুকর্ম করেছেন। তরুণ হরমুজ আলী বাবার সাথে নিজেও হত্যা, ধর্ষণ, লুটতরাজসহ নানা কাজে জড়িত ছিল। স্বাধীনতার অনেক বছর পরেও সে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের লোকদের নানা অত্যাচার করে ঘরছাড়া করলেও বিগত কয়েক বছর ধরে নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের লোক বলে প্রচার করে। এতে কিছু লোককে সে দলেও ভিড়িয়ে নিয়েছে। তার দেশপ্রেম এখন গদগদ করছে, পারলে আরেকটি মুক্তিযুদ্ধের ডাকও দেয়।

তবে আর যাই হোক, কালিমুদ্দিনের মত জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়া লোকেরা কখনো হরমুজ আলীদের পছন্দ করেন না। তাদের শকুন হাসি দেখলে নিজের অজান্তে এক দলা থুথু ছুঁড়ে মারেন।

হরমুজ আলীর বিরোধীতার কারণে মুক্তিযোদ্ধা কলিমউদ্দিনকে কম মাশুল দিতে হয় নি। তবে কলিমউদ্দিনের সাফ কথা, ‘প্রয়োজনে জীবন দিতে হলে তাও দেব, তবে হরমুজ আলীর মত লোকদেরকে কখনো সমর্থন করব না।’

যারা ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করে নয় মাসে দেশ স্বাধীন করেছেন, তাদের আবার জীবনের ভয় কিসের?

(চলবে)

গল্পকার: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

[আপনার লিখা অপ্রকাশিত গল্প এই rinquoctg@gmail.com ই-মেইলে পাঠান। নাম, পরিচিতি, ঠিকানা, ছবি ও মোবাইল নাম্বারসহ। লিখা অবশ্যই ইউনিকোডে হতে হবে]

Share This Post

আরও পড়ুন