শিরোনাম
সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন

ধারাবাহিক ছোট গল্প: পতিতার আলাপচারিতা । পর্ব পাঁচ

এনামুল হক নাবিদ / ১১৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ৭ এপ্রিল, ২০২১
এনামুল হক নাবিদ

ভোর বেলা বাবা চলে যাবে। তাই টিভি সেটের সামনে বসে বাবা-মাসহ গল্পতে মত্ত আছি।

কথামালার এক পর্যায়ে বাবাকে বললাম, আব্বু আপনার সাথে এবার আমাকে নিয়ে গেলে কেমন হয়?

বাবা বলে, পাগলি মা বলিস কি? মাকে ছাড়া থাকতে পারবি তো? কেন পারব না? আমি কি কচি খুখী নাকি? আর স্কুলও যে প্রায় এক মাস বন্ধ। সপ্তাহ পনের দিন থেকে চলে আসব। তাহলে এখনি যে শুয়ে পড়তে হয়, না হয় সকাল সকাল আর উঠা হবে না। এভাবে গল্পের পর্ব শেষ হল।

ভোরের সূর্য উদয় হল। সকালের নাস্তা মাসহ এক সাথে করলাম। অবশেষে মাকে বিদায় জানিয়ে বেরিয়ে পড়লাম বাবার সাথে। গাড়ী থেকে যখন নামলাম তখন ঘড়ির খাটা দুইটার ঘরে। আমরা রিক্সা করে নৌ ক্যাম্পে পৌঁছালাম।

তার পরের দিন বাবার সাথে পুরো নৌ ক্যাম্প ঘুরে দেখলাম। রাতের খাবার বাবার সাথে ক্যাম্পের ড্রয়িং রুমে করলাম। বাবা কমান্ডার ছিল বলে বাবার ছিল পৃথক কোয়াটার। বাবার সাথে বেশ ভালই যাচ্ছে সময়। ঘুমানোর পূর্বে বাবা বলল, কাল আমি ডিউটিতে যাব। মন চাইলে তুমিও যেথে পার। হ্যাঁ, অবশ্যই যাব। অবশেষে সকাল নয়টার দেকে বাবার জাহাজ সাইলেন বাঁজিয়ে সাগরের কূল থেকে অথৈ সাগরের উদ্দেশ্য রওনা হয়ে গেল।

মাঝ সাগরের পথে উত্তাল ঢেউগুলি আমার বুকে কম্পন সৃষ্টি হল বটে, তবে বেশ উপভোগ করছি উত্তাল ঢেউগুলো। মন চাই ঝাপটে ধরতে এসব ঢেউ। জাহাজ চলতে চলতে এক সময় রাতের আঁধার আমাদের ঘ্রাস করে নিল। গভীর রজনীর মাঝ পথে জাহাজ নোঙর করল সাগর কূলে। নির্ঝুম নিস্তব্ধ রাঁতের মাঝে জাহাজের অফিসাররাও আমাকে পেয়ে খুব উৎফুল্র। তাদের সাথে রাতের বেশ খানিকটা সময় গল্প-গুজব করলাম।

এক পর্যায়ে সবাই স্ব স্ব কেবিনে চলে গেল। বাবাও চলে গেল আমাদের কেবিনে। কেন জানি দুই চোখের তন্দ্রা কোথাও যেন উধাও হয়ে গেল। তাই কি যেন ভেবে জাহাজের উপরে উঠে এলাম। একদম জাহাজের মাস্তুলে দাঁড়িয়ে উপভোগ করছি চমৎকার জোস্না। রাঁতের নিষ্পাপ ধুমকেতু মিটি মিটি খেলছে। সাগর ভেজা বাতাসের স্বাদ অন্য রকম অনুভূতির জন্ম দিয়েছে শূন্য এ হৃদয়ে। কূলের ঝাউ গাছগুলো বাতাশের নিঃশ্বাস নিস্তব্ধতার মাঝে তরঙ্গ তুলে যাচ্ছে। আর এ নিস্তব্ধতার তরঙ্গ আমাকে বেশ কাছে টানছে।

এক সময় নিজের অজান্তে কার ইশারায় নীচে নেমে এলাম। হাঁটু পরিমাণ জল, তাই কূলে উঠতে সমস্যা হয়নি। হেঁটে চলছি অচেনা পথে, অাঁনা কারো টানে। জোনাকিরা খেলছে ঝাক বেঁধে। হঠাৎ পিছনে অচেনা এক ছাঁয়া মূর্তি লক্ষ্য করলাম। একটু ভয় পেলাম।

ক্ষণিকের জন্য নিজেকে মানিয়ে আবারো এগুতে লাগলাম এ ভেবে, কে আর হবে নির্জন এ তীরে? আবারো লক্ষ্য করলাম, সেই ছায়ামূর্তি। না সেই ছাঁয়া মূতি এবার একা নয়, দুই দুইটি ছাঁয়ামূর্তি এগিয়ে আসছে। সাথে কর্ণে আমার আঘাত হানল, ‘দাড়াও….’।

শব্দ শুনে যেন নিশুতি নির্জনে আমি অবরুদ্ধ হয়ে রইলাম। সামনে পিছনে কোথাও পা বাড়াবার সাহস সঞ্চার করতে পারলাম না। নির্জন উচ্ছ্বাস যেন ভেঙ্গে চুরমার করে দিল আমার সমগ্র হৃদয়।

(চলবে…)

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ