মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ০৮:২৮ পূর্বাহ্ন

ধারাবাহিক ছোট গল্প: পতিতার আলাপচারিতা । পর্ব চার

এনামুল হক নাবিদ / ১০২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৩০ মার্চ, ২০২১
এনামুল হক নাবিদ

ষোল পেরিয়ে সবেমাত্র আমি সতেরোর অভিযাত্রী। নব যৌবনে ভরপুর আমার দেহ। বাবা মায়ের একমাত্র কন্যা সন্তান আমি। বড় হওয়ার পর জানতে পেরেছি, বাবা মায়ের বিবাহ উৎসবের তের বছর পর পৃথিবীতে আমার আগমন। তাই একমাত্র কন্যা সন্তানের প্রতি তাদের ভালবাসার কোন ঘাটতি ছিল না। বড় হয়ে জানতে পারি, পৃথিবীতে আমার আসার পূর্বে মায়ের গর্ভে মৃত্যু হয় আমার এক উত্তরসূরীর।

আমার বড় হওয়ার পথে প্রান্তরে মায়ের ভালবাসা অহর্নিশ থাকলেও বাবাকে একদম নাগালে পেতাম না। কারণ বাবা ছিল একজন নৌ কমান্ডার। তাই বাবাকে প্রায় সময় সাগর জলের সাথে বাস করতে হত। এর মাঝে আমার প্রাইমারি শেষ পর্যায়ে। বয়সের চেয়ে আমার দেহ ছিল বেশ উন্নত। চোখে মুখে স্নিগ্ধ কমনীয়তার কোমল পরশ। চোখ ধাঁধানো নয়ন দুইটি।

আরব্য রজনীর পরীর মত আমাকে মানুষের সামনে উপস্থাপন করত। তাই সবার কালো নয়ন এড়িয়ে যাওয়া অসম্ভব ছিল বটে আমার জন্য। বাবার স্নেহের ঘাটতি থাকলেও ভালবাসার কমতি ছিল না মায়ের। এর মাঝে নবম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হল। ডিসেম্বরের ছুটিতে মাঝ রাতে একদিন বাবার আগমন। আমাদের ঘরটি দ্বিতল ছাদের। এ ঘরটিতে আমি আর মায়ের বাস।

বাবা আসাতেই ঘরটি ধ্বনি প্রতিধ্বনিতে কোলাহল হয়ে উঠল। বেশ ভালই চলছিল বাবার সাথে সময়টুকু। বাবার ছুটি প্রায় শেষ পর্যায়ে। রাতের খাবারের পর একদিন বাবা বলল, আমি চলে যাব।’

বাবাকে ভয় পেতাম, খুব বেশি খুব। এবার কিন্তু বাবার সাথে খুব বেশি দুষ্টুমি করেছি, মিশেছিও বেশ। তাই বাবার আদর স্নেহটা খুব উপভোগ করেছি।

(চলবে…)

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ