শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ০৮:৫০ অপরাহ্ন

ধারাবাহিক ছোট গল্প: পতিতার আলাপচারিতা । পর্ব তিন

এনামুল হক নাবিদ
  • প্রকাশ : বুধবার, ২৪ মার্চ, ২০২১
  • ২৬৪ Time View
এনামুল হক নাবিদ

বস, বসছি। কাছে এস। শৈয়বাল এবার উল্টো পশ্ন করল, ‘নাম কি তোমার’? উত্তরে সে বলল, নাম জানার আগ্রহটা হঠাৎ জন্ম নিল কেন? নাম দিয়ে আর করবেনও বা কি?

না এমনে। যার সাথে একাকীভূত হওয়ার জন্য, যার দেহ পল্লীতে একটু পরেই প্রবেশ করতে এত পথ পাড়িয়ে দিয়ে এলাম, অথচ পরিচয়টা জানা হবে না তা কি করে হয়? ওহ, এ কথা। হ্যাঁ। এ কথা। আপনি বেশ আলাপি। কি করে? আপনার আলাপচারিতার মাঝে তা ফুটে উঠেছে। তাই বটে। হ্যাঁ তাই। এ আলাপনের প্রতি প্রবল আকর্ষণের কোন গুড় রহস্য আছে কি? একে বারেই নেই বলব না। তাহলে সেই গুড় রহস্য শুনতে পারি কি?

আপনার পদ চারণে এক যৌবনার দেহপসারিনীর প্রেমের আকুতি বেশ তীব্রতর হচ্ছে। আসলে দেহপসারিনীর দেহ বিলাসের অভাব হয় না। কিন্তু দেহ বিনোদনেরই সব কিছু নয়। দেহের সাথে মানুষের একটি মনও থাকে। মানুষ যতই নিজেকে পাথর মনে করুক না কেন, মানুষ অন্তত বিলাসের মনটা কখনো পাথর হয় না। মানুষ এ ও নিশ্চিত আত্মা শুকিয়ে যায়, কিন্তু মৃত হয় না। হয় না তার সৎকার। মন ও আত্মাকে সেই ভালবাসায় জীবিত রাখে। যে ভালবাসার সাথে দেহে পল্লীর কোন সম্পর্ক নেই। আরো একটু গভীরভাবে দেখ, আমার রূপের প্লাবণ জলরাশির উত্তাল ঢেউগুলো তোমাকে হারিয়ে দেবে অচিন এক পথে। আমার শরীরের উষ্ণ সুগন্ধ নাউ। দেখ, তোমাকে উন্মাদ করে তুলবে। তবে রূপ দ্বীপের আকর্ষণ না করে তোমাকে প্রলোভন দেখাচ্ছি ভালবাসার এক মরু পথিকের।

এই, একটু কি এদিক থাকাবে না?

ও সরি। মরু পথিকের সেই কথায় পল্লীর মাঝে হারিয়ে গিয়েছিলাম ক্ষণিকের জন্য। আমাকে তুমি করে ডাকতে পারেন। ঠিক আছে ডাকব। তবে পরিচয়টা বর্ণনা করলে অমঙ্গল হত কি? অমঙ্গল হত না! তবে এ নিষিদ্ধ পল্লীর এক কলঙ্কনীর পরিচয়টা জেনে কি হবে? আর একটু পরেই তো দুজন অপরিচিত হয়ে যাব। অপরিচিত হয়ে যাব ঠিক, তবে অচেনা তো আর হতে পারি না। তা অবশ্যই। তো নামটা তো একটু বলতে পার।

তা অবশ্যই বলতে পারি। নাম আমার রিসিতা (ছদ্মনাম)। তবে ছোটবেলা থেকে সবাই আমাকে রিসু বলে ডাকে। আমি কি রিসিতা ডাকব নাকি রিসু ডাকব? সে আপনার যা মন চাই।

রিসু একটি কথা বলব? হ্যাঁ বলেন। আজ কিন্তু অমবশ্যা। বাইরে কিন্তু গুট গুটে অন্ধকার। ঝোনাকিরাও হয়ত আমাদের সাথে রাগ করে আছে। এর মাঝেও ঝোপরীর এ রুমটা বেশ আলোময়, কেমন জানি পূর্ণিমার চেয়ে ঝলমলে মনে হচ্ছে আমার। অচেনা পথিকের এত প্রশংসা কারণটা বলবেন কি? হ্যাঁ, তোমার রূপের ঝিলিক, ভাঁজ পরা কপালের স্লিক, কপালের বিন্দু বিন্দু ঘাম চিক চিক করছে।

কালো লম্বা চুলের বিনী। তোমারের শরীরের উষ্ণ সুগন্ধ আলোহীন বাংলোটা কেমন জানি আমার কাছে পূর্ণিমার চেয়ে ঝলমলে মনে হচ্ছে। তোমার স্নিগ্ধতা আমাকে আজ উম্মাদ করে তুলছে। এত প্রশংসা না করে পারতেন। এখানে প্রশংসা কোথা থেকে করলাম? থাক, আর না বলি। এখনো কিন্তু আমার সামনে বসে থাকা আচেনা পথিকটির নাম জানা হয়নি। ওহ, সরি। নাম আমার শৈয়বাল। বেশ সুন্দর নাম। তোমার প্রছন্দ হয়েছে? হ্যাঁ। নামটি মনে হয় আজ প্রথম শুনলাম।

তাদের আলাপচারিতার মাঝে এক সময় দ্বিধা ও জড়তা কেটে গেল। শৈয়বালের কথা বলার ভঙ্গি ছিল বেশ চমৎকার। মেয়েটি ক্রমশ তার দিকে ঝুঁকে পড়ল। এর মাঝে মেয়েটি বলে উঠল, রাঁত কিন্তু অনেক গভীর হচ্ছে। হোক না তোমাকে যদি বুঝতে না পারি, হৃদয়ের সুগন্ধ দিয়ে তোমাকে সৌরভিত করতে না পারি, তাহলে রাতটা আজ আলাপচারিতায় শেষ হয়ে যাক না! আপনার কথা যেন আমাকে আজ অশান্ত সাগরের মাঝে উত্তাল ঢেউয়ের ন্যায় উদ্বেলিত করে যাচ্ছে। কারণটা বলবে কি রিসু? হ্যাঁ, অবশ্যয় বলব। কারণ এ দেহ পল্লীতে যারা আসে, তারা আমার দেহ খোঁজে। কিন্তু আজ প্রথম তাঁর ব্যতিক্রম পথিকের সন্ধান পেলাম। মনে হয় একটু বাড়িয়ে বললে? না, মোটেও না। আসলে রিসু জান কি? যার আত্মা উপলব্দি করতে পারলাম না, যার হেমন্তের শিশির অনুভব করতে ব্যর্থ তার দেহ আমার যৌগিক চাহিদা মিঠাতে পারে আত্মার খোরাক পূরণে সক্ষম হবে কি? এভাবে বলছেন কেন? না, এখনো তোমার হৃদয় বৃত্তের পরিচয় জানতে পারলাম না অথচ তোমার সাথে একটু পরেই….।

পরিচয় জানা কি খুবই জরুরী? যাকে আপন করে নেব, যার রূপ সাগরটা আমার হৃদয়ের মোহনায় তীব্র স্রোত সৃষ্টি করে যাচ্ছে, তার পরিচয় না জানলে কি হয়? এ জন্য বুঝি? হ্যাঁ। পরিচয় জেনে আঁতকে উঠবেন না তো? আঁতকে উঠব কেন? না, এ দেহ পল্লীতে সবাই আমার দেহ চাই, চাই না কেউ আমার পরিচয়টা। পরিচয়টা বলতে গেলে ফিরে যেতে হবে বেশ অতীতে। জল প্রভাতের মুক্তার খোঁজে আমাকে যদি বেশ জলপথ পাড়ি দিতে হয়, তবুও আমি প্রস্তুত রয়েছি। বল কেন নোংরা এ পল্লীতি তোমার আসার কারণ? মানুষ রূপী হায়েনাদের মাঝে নিজের দেহকে বিকিয়ে দেওয়ার কারণ? কি তোমার পরিচয়, কোথায় তোমার গোড়া পত্তন? শুনুন তাহলে, বলছি।

(চলবে…)

Share This Post

আরও পড়ুন