শিরোনাম
মারা গেলেন বাংলা একাডেমির সভাপতি শামসুজ্জামান খান কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরা বন্ধকালীন দশ উপজেলায় এক হাজার মেট্রিক টন চাল বরাদ্ধ মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ‌‌‌‌‌এক্সপ্রেসিভ সাইকোথেরাপি: বিদ্যায়তনিক পাঠ ও গণ প্রয়োগ কবিতা: আছি সেই সুদিনের অপেক্ষাতে । শ্রাবন্তী বড়ুয়া করোনার চিকিৎসায় পাহাড়তলীতে সিএমপি-বিদ্যানন্দ ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন মাছ আহরণ নিষিদ্ধকালে জেলেদের জন্য ৩১ হাজার মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ রমজানে রোগবালাই ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয় হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে উড়িরচরে সীমানা পিলার স্থাপনের প্রতিবাদ সন্দ্বীপবাসীর মাউন্টেন ভ্যালির আইভেক্টোসল ও আইভোমেকের প্রথম ধাপের ট্রায়াল শুরু এল রহমতের মাস মাহে রমজান
বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ০১:০৫ পূর্বাহ্ন

ধারাবাহিক গল্প: হঠাৎ দেখা

শাশ্বতী ভট্টাচার্য্য / ১২২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২০

পর্ব-১

রাত দশটা বেজে ত্রিশ মিনিট। ঘুম শহরের একের পর এক স্টেশন পেরিয়ে নির্দিষ্ট গতিতে ট্রেন চলছে। জানালা দিয়ে ফুরফুর করে শীতল হাওয়া কামরার ভিতরে প্রবেশ করছে। বাহিরে টিপ টিপ করে জ্বলতে থাকা ল্যাম্প পোস্টের আলো রাতের আঁধারের খানিকটা সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলেছে। রাত যত গভীর হচ্ছে, তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে কুয়াশা। চশমার গ্লাসটা কুয়াশায় ঘেমে যাচ্ছে বার বার।

-উফ্….বিরক্তিকর। এর চেয়ে চশমা খুলে আলো আঁধারে খেলা দেখা ঢের ভালো।

বাইরে চোখ পড়তেই আকাশের দিকে হঠাৎ চোখ পড়তেই স্থির হয়ে এলো দুচোখ। আজ আকাশে একটাও তারা নেই বটে, তবে ঝলসানো রূপালি একাখানা বড় চাঁদ আছে। যার আলোতে নীল কালোর মাঝেও আকাশ খানিকটা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।

হঠাৎ, কামরার দরজায় নক করলো ওয়েটিং বয়….
বিরক্তি সুরে জবাব দিলাম, কি চাই..?
-জ্বী আমি ওয়েটিং বয়, কিছু লাগবে কিনা তাই জানতে এসেছিলাম…..

ভেতরে আসার অনুমতি দিয়ে টেবিলে উপর পড়ে থাকা চশমা চোখে পরে বড় একটা দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে জানালার বাহিরে মুখ ফিরিয়ে বললাম- এক কাপ কফি হলে ভালো হতো। পাওয়া যাবে কি..?

এই নিয়ে যত বার রুমে এসে মুখ দেখার চেষ্টা করা হয়েছে, তত বারের মতো এবারো বৃথা হয়ে ফিরে গেছে ছেলেটি।

খানিকক্ষণ পর কফি হাতে ছেলেটি রুমে ঢুকল।টেবিলের উপর কফি রাখতে গিয়ে নজর পড়ল খুলে রাখা সিলভার চিকন চেইনের একটি হাত ঘড়ি উপর। ঘড়ির কাটা সময়ানুযায়ী তখন রাত এগারোটা বেজে পনেরো মিনিট।

জানালার পাশে পিঠ লাগিয়ে হাঁটুর উপর হাঁটু তুলে বাম হাত উঁচু করে বই মুখের সামনে নিয়ে পড়ছে। এভাবে মুখের গড়ন দেখা সম্ভব না। তবে মাথা উঁচু করে খানিকটা ভ্রু মাঝে কপালে কালো রঙের টিপ দেখা পেল ছেলেটি। কালো শাড়ির কুচি ঢেলে পড়েছে বা দিকে। পা থেকে মাথা পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে রুপোর গড়া এক জোড়া চিকন নূপুর খুব যত্ন নিয়ে লেগে আছে পায়ের সাথে। বাম হাতের অনামিকা আর তর্জনীতে নীল ও লাল রঙের একটি করে পাথরের আংটি।

বইয়ের ওপাশ থেকে কর্কশ গলায় ভেসে এলো, কফি রাখা হয়েছে..?
আচমকা কেপে উঠল ওয়েটিংবয়, কাপা গলায় জবাব দিলো হা।
আবারো কর্কশ গলায় মেয়েটি জানতে চাইলো, কিছু বলার আছে..?

ওয়েটিং বয় প্রথমে মাথা নাড়িয়ে না করলেও পরক্ষণে মনে পড়লো বইয়ের ভাঁজ থেকে অপরিচিত মানুষটার চোখে তা ধরা পড়ে নি। তাই সে সরি বলে কামরা থেকে প্রস্থান করলো।

টেবিলের উপর পড়ে থাকা মোবাইল ফোন ভাইব্রেশনে কেপে টুং টাং আওয়াজ করে উঠলো।কফির কাপে চুমুক দিতে দিতে ফোনটা হাতে নিয়ে বেশ কয়েক বার ভালো করে ইনবক্স চেক করা হলো। কিছু একটা খোঁজ পাবার নিদারুণ চেষ্টায় মেয়েটি নিজেকে ব্যস্ত করে তুলেছে বহুবার তবুও খোঁজ মেলেনি তার ইনবক্সের দুয়ারে মেসেজটির..।

(চলবে)

লেখা: শাশ্বতী ভট্টাচার্য্য

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ