ঢাকাশুক্রবার, ৯ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ধারাবাহিক গল্প: হঠাৎ দেখা । শেষ পর্ব

শাশ্বতী ভট্টাচার্য
মে ৮, ২০২১ ৬:১৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

জানলার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে আকাশ দেখছে মিস বোস। ডাক্তার ‘বেদান্ত ভাদুড়ী’ ছাড়া কারোর সাথে এখন আর মিস বোসের কথা হয় না।

ডাক্তার বেদান্ত ভাদুড়ী একজন সাইকিয়াটিস্ট। শুধু তাই নয়, এর পাশাপাশি উনি একজন খ্যাতিমান সাইকোলজিস্ট। যদিও মনস্তাত্ত্বিক চিকিৎসায় সাইকোলজিস্ট ও সাইকিয়াটিস্টের ধরন সম্পূর্ণ আলাদা।

ট্রেনের সে দিনের ঘটনা মিস বোসকে হ্যালুসিনেশন রোগে অন্তর্ভুক্ত করে চিকিৎসার জন্য মেন্টাল ডিসঅর্ডারে পাঠানো হয়। সেই থেকে এখনো পর্যন্ত মিস বোস এখানে আছে। কিন্তু মিস বোস আজো একটাই কথা বলে, সে দিন তার সাথে আগন্তুক ছিল।

ডাক্তার ভাদুড়ী ছয় মাস ধরে মিস বোসকে দেখছেন। এর আগের ডাক্তার কোনভাবেই মিস বোসের রোগের চিকিৎসা করতে পারেনি। ডাক্তার বেদান্ত অন্য রকম পার্সোনালিটি গুরু গম্ভীর একজন ব্যাক্তি। কিন্তু উনার একটা বিশেষ গুণ হচ্ছে, মানুষকে বুজতে পারেন। উনার চিকিৎসার ধরণ কিছুটা ভিন্ন। প্রথমে রোগীর মাইন্ড রিড করা এবং ধীরে ধীরে রোগীর সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তুলে চিকিৎসা করেন। তার এ চিকিৎসার ধরনের জন্য সবার কাছে ডাক্তার ভাদুড়ী খুব প্রিয় একজন ব্যক্তি।

সন্ধ্যা সাতটা ৩০ মিনিট, হাসপাতালে পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। চাপ দাড়ি, চোখে চশমা, কাঁচা পাকা মিলিয়ে মাথা ভর্তি চুল, প্রচন্ড আত্মবিশ্বাস, ফরমাল ড্রেস, লম্বা গড়নে আদর্শ ফিটনেস, গায়ে জড়ানো সাদা এপ্রোণ আর সুগন্ধি মাখিয়ে মাঝারি বয়সের একজন তরুণ খুব ভদ্রতার সাথে হেঁটে নিজের চেম্বারে গিয়ে চেয়ারে বসল। টেবিলের উপর রাখা কিছু টেস্টের রিপোর্টে ভাল করে চোখ বুলিয়ে নিল। তারপর লিফটে করে ছয় তলার ৩২৩ নাম্বার রুমে নক করলেন।

তারপর ভারী কন্ঠে গোছানো বাচনভঙ্গি দিয়ে ভেতরে যাওয়ার অনুমতি চাইলেন।

দরজার ওপাশ থেকে কেউ একজন বলল, ভেতরে আসুন ডাক্তার ভাদুড়ী।

কেমন আছেন মিস বোস?

সব সময় যেমন থাকি, আজো তেমন আছি ডাক্তার ভাদুড়ী।

মেডিসিন নিয়েছেন আজ রাতের?

ভালা লাগে না আর আমার এসব খেতে। আপনার কাছে ঘুম না ভাঙ্গার মেডিসিন হবে ডাক্তার।

ডাক্তার ভাদুড়ী, মিস বোসকে এখন রীড করে বুঝতে পারছেন এ বদ্ধ ঘর এখন তার দম বন্ধ করে নিয়ে আসে। উনি মিস বোসকে মেডিসিনে পাতা থেকে টেবলেট নিয়ে খেতে দিলেন। মিস বোস চুপচাপ খেয়ে নিলেন। চলে আসার পূর্বে ডাক্তার ভাদুড়ী মিস বোসকে প্রশ্ন করলেন, আপনি দরজার এপাশ থেকে কি করে বুঝলেন আমি এসেছি?

মিস বোস হাসি দিয়ে বলল, আপনার গায়ে সুমিষ্ট চন্দনের সুগন্ধি বাতাসে সব সময় খুঁজে পাওয়া যায় না ডাক্তার বেদান্ত ভাদুড়ী।

তারপর আর কোন প্রশ্ন বা উত্তর তৈরি হয় নি। হাতে পড়া ঘড়ি এক নজর দেখে ডাক্তার ভাদুড়ী পুরনো আলমারি থেকে মিস বোসের একটা পুরোনো ব্যাগ বের করলেন। কিছু একটা খুঁজতে চাইছেন। সত্যি কি মিস নিরুপমা বোসের হ্যালুশিনেসন সমস্যা আছে?

ব্যাগের ভিতর একটা ডাইরি রাখা। ডাইরি খুলতেই বেশ কয়েকটা পাতা দেখলেন ডাক্তার ভাদুড়ী। ডাইরি মাঝের পাতায় গন্ডগোল হাতের লেখায়। সেখানে লেখা আছে, ‘সময়ের সীমাবদ্ধ নিয়মে মানুষ বদলায়, না হলে পাল্টায় কিন্তু আত্মা বদলায় না, পাল্টায় না, বিনষ্ট করে, না হলে ছেড়ে যায়’…………।

অনিমেষ চ্যাটার্জি (আগন্তুক)

ডাক্তার ভাদুড়ী স্থির হয়ে বসে আছে নিজ চেয়ারে। সে দিন মিস নিরুপমা মিথ্যা বলেনি, তার সাথে সত্যি সে দিন আগন্তুক ছিল। সে দিনের মিস বোসকে আজ পালটে দিয়েছে শুধু হুট করে হঠাৎ হটকারিতায় সেই হঠাৎ দেখা…..।

শেষ

Facebook Comments Box