শিরোনাম
সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ০১:১৫ অপরাহ্ন

ধারাবাহিক গল্প: তোমায় ভালোবেসে  । পর্ব ছয়

শাশ্বতী ভট্টাচার্য / ২৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৮ এপ্রিল, ২০২১

সূর্যের কিরণ জানালার পর্দার ফাক দিয়ে ঘরে প্রবেশ করছে একটু একটু করে। ভোরের আলো চোখে পড়তেই আহ্বান দিচ্ছে নতুন সময়ের সাথে একটি নতুন দিনের। ধীর গতিতে চোখ খুলে শেলী দেখতে পেল, ঘুমন্তু শিশুর মত পরম তৃপ্তি নিয়ে তার নাভির উপর মাথা রেখে ঘুমিয়ে আছে একখানা মুখ। শেলী তার ডান হাত দিয়ে আলতো করে নাভির উপর শুয়ে থাকার মানুষটার মাথায় বিলি কেটে ঘুম ভাঙ্গানোর চেষ্টা করছে। মানুষটা হালকা করে মাথা নাড়িয়ে জানান দিল, রোজকার মত আজো সে শেলীর সাথে নতুন একটি সকাল শুরু করতে যাচ্ছে।

তারপর খানিকটা মৃদু হাসি মুখে নিয়ে, বুক ফুলিয়ে শ্বাস টেনে, চোখ খুলে ঘুম চোখে তাকিয়ে আছে শেলীর দিকে। রোজকার মত আজো শেলী তার মুখে হাসি একে সুপ্রভাত জানিয়ে দিনের শুভেচ্ছা দিয়ে শুরু করল নতুন সময়ের। শেলীর বাম হাত দুই হাতের মুষ্টিতে খুব শক্ত করে আবদ্ধ হয়ে বুকের উপর চেপে আছে অদ্রিজের।

আজ ওদের বিয়ের পাচ বছর পূর্ণ হল। আজকের দিনটা শেলীর কাছে নব জন্মের মতই স্পেশাল। অদ্রিজের মনে না থাকলেও শেলী খুব যত্ন নিয়ে তার মস্তিষ্কে তারিখটি লিপিবদ্ধ করে রেখেছে।

বিয়ের পাঁচ বছর পরেও যেন এদের মধ্যে থাকা অনুভূতি একই আছে। শেলী শুনেছিল, সময়ের সাথে সাথে ভালোবাসা রঙ বদলাতে শিখে যায়, কিন্তু অদ্রিজের মধ্যে আদো কোন পরিবর্তন শেলীর চোখে পড়ে নি। বরং দিনের সাথে তাল মিলিয়ে অদ্রিজের পাগলামিগুলো বাড়ছে বলে শেলীর ধারণা।

ঘুম চোখে নিয়ে এভাবে একই অবস্থায় একে অপরের দিকে বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে রোজ সকালে দুজনে..। তারপর অদ্রিজ শেলির নাভীতে চুম একে দিয়ে বলে- সুপ্রভাত..!

হঠাৎ করেই দরজায় কড়া নাড়ানোর শব্দ কানে এসে লাগে দুজনের।

শেলী বিছানা থেকে উঠে রুমের দরজা খুলতেই ঈশান হুমড়ি খেয়ে জড়িয়ে ধরে তাকে। তারপর শেলীর গালে চুমু খেয়ে দৌঁড়ে যায় অদ্রিজের দিকে। তারপর বেশ কিছুক্ষণ চলে এদের দুষ্টমি; যা এদের প্রতিদিন অভ্যাসে দাঁড়িয়ে আছে।

রুপ্সা বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল, হালকা গলায় কেশে নিয়ে রুমে প্রবেশ করার অনুমতি চাইল। শেলী রুপ্সার কান ধরে টেনে ঘরের ভিতর নিয়ে এল।

–মা তোমাদের জন্য চা পাঠিয়েছে আর বলল তোমরা ঘুম থেকে উঠেছ কিনা তা দেখার জন্য। মা একটু পর তোমাদের রুমে আসবে।

কথাটা শুনেই শেলী আর অদ্রিজ একে অপরের মুখের দিকে তাকাল। রুপ্সা তাদের অবয়বে একটা ভিন্ন মাত্রার ছাপ দেখতে পেল। তারপর বলে উঠল – তোমরা ঝটপট তৈরি হয়ে নাও, আমি নিচে গিয়ে মাকে বলছি……..বলেই সেখান থেকে চলে আসল।

শেলী একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে আলমারী দিকে ধীর পায়ে গিয়ে, আলমারিটা খুলে একখানা তোয়ালে আর বেগুনী রঙের একখানা জামদানী শাড়ি বের করে গোসল ঘরের দিকে পা বাড়াল।

অদ্রিজ আর ঈশান তাদের মনের আনন্দে দুষ্টমি করে চলেছে। বড় ভাইয়া মানে ঈশানের আব্বু দেশের বাইরে বেশি থাকে। তাও ঈশানের যত আবদার সব কিছু অদ্রিজের কাছে। ঈশানের এক বন্ধু আছে, নাম মিলি।

ঈশান তাকে নিয়ে খুব ব্যস্ত, স্কুলে মিলির সাথে কি হয়েছে, কি করেছে, সে সব কিছু অদ্রিজকে লিস্ট ধরে বলে চলেছে। আর অদ্রিজ ভেবে যাচ্ছে, মিলির সাথে ঈশানের বন্ধুত্ব কোন দিকে যাবে।

হঠাৎ লতিফ চাচা ঈশানকে নিচে আসার জন্য ডেকে পাঠাল। এক দৌঁড়ে ঈশান ও ঘর থেকে চলে এল।

শেলী মাথায় তোয়ালে বেধে হালকা ভেজা শরীর নিয়ে গোসল ঘর থেকে বের হল। শেলীর ভেজা পায়ের ছাপ খুব নিখুঁতভাবে রুমের মেঝেতে বসিয়ে হাঁটতে হাঁটতে ড্রেসিং টেবিলের সামনে গেল। যা দেখে অদ্রিজ এক আলাদা তৃপ্তি পায়।
চুল মুছতে মুছতে শেলী পিছন ঘুরে তাকাল, অদ্রিজ অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে।

হাতের কাছে থাকা শুকনো তোয়ালে মুখের উপর ছুরে মেরে চোখ আর তর্জনীর দ্বারা ইশারায় গোসল শেষ করতে বলল।

অদ্রিজের বাচ্চাদের মত করে কথা না শোনার ভঙ্গিমা শেলীর ভালো লাগে।

শেলী কোমড়ে হাত রেখে নিঃশ্বাস টেনে নিয়ে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে অদ্রিজের দিকে……….

(চলবে…)

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ