শিরোনাম
ভারতীয় ভেরিয়েন্ট দেশে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডে উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে কাউন্সিলর শহিদুল আলম টেকনাফে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৮০০ পিস আন্দামান গোল্ড বিয়ার জব্দ প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা তহবিলে এক কোটি টাকা অনুদান দিল চট্টগ্রাম চেম্বার প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনের ছুটি বাড়ল ৩০ জুন পর্যন্ত নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম’র আইটি বিশেষজ্ঞ গ্রেফতার চট্টগ্রামে সাদার্ন ইউনিভার্সিটিতে দুই মাসব্যাপী আন্তঃবিভাগ বির্তক প্রতিযোগিতা শুরু নাভানাসহ সীতাকুণ্ডের সব কারখানায় ঈদুল আজহার আগে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দাবি পরিবেশ বিষয়ক গল্প : মন পড়ে রয় । নাজিম হোসেন শেখ পিএইচপি অটো মোবাইলসের তৈরি অ্যাম্বুলেন্স উপহার পেল চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল
রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ০৫:৪১ অপরাহ্ন

ধারাবাহিক গল্প: তোমায় ভালোবেসে । পর্ব সাত

শাশ্বতী ভট্টাচার্য / ৬৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২১

অদ্রিজ গোসল ঘরে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর শেলী রুমে আশেপাশে একটা সুগন্ধি অনুভব করে। রুমের বাহিরে এবং ভিতরে শেলী বেশ কয়ে বার দেখে নেয়, কিন্তু কিছু রাখা ছিল না। কিন্তু সুগন্ধি শেলীর রুমের আশে পাশেই আছে।

শেলী আয়না দেখে নিজের ভেজা চুল হালকা করে মুছে নিচ্ছে আর নিজের সৌন্দর্যে আজ কেন জানি নিজেই প্রেমে পড়ছে। এমন সময় শেলী অনুভব করল, তার দিকে কেউ চেয়ে আছে। শেলী পিছন ফিরে তাকাতেই কিছু একটা অদৃশ্য হয়ে গেল।

ঘর ফাঁকা ,শেলী ছাড়া কেউ নেই। অদ্রিজ গোসল করছে। পাশের রুমটায় রপ্সা আর ঈশান থাকে। বড় ভাইয়ার রুমটা অনেক দিন ধরে বন্ধ।

ঈশান দুষ্টমি করছে, কিন্তু গত পাঁচ বছরে তো এমন হয় নি….রুপ্সা তো এখন মায়ের কাছে তাহলে…. (এসব এক মনে ভাবতে ভাবতে) শেলী আবারো পা বাড়ালো দরজার দিকে। হঠাৎ শুনা গেল এক ঝাঁক উড়ন্ত কবুতর উড়ে যাচ্ছে।

শেলী তড়িঘড়ি করে বারান্দায় গেল, ওর মনটা খুশিতে ভরে গেল। বিয়ের আগে কবুতর পোষা ওর সব থেকে প্রিয় ছিল।

আকাশের বুকে এক ঝাঁক কবুতর উড়তে দেখে ওর ভারী স্বাদ হল, ওইভাবে উড়ার। কিন্তু ওর তো ডানা নেই, আছে দটো হাত, যা অদ্রিজের মাথায় চুলে বিলি কেটে পরম তৃপ্তি পায়।

আচমকা শেলীর ঠোঠে এক অদ্ভুত রকমের হাসি জেগে উঠেছে। তার কারণ অদ্রিজ, সেটা শেলীও জানে।

তবে অবাক হল রঙ বের বেরঙের ফানুস উড়তে দেখে। এ কবুতর উড়ছিল ফানুশ কি করে হল?

কি হচ্ছে আজ সকাল থেকে? শেলীর অবচেতন মনে হাজার প্রশ্নের জন্ম হচ্ছে।

অদ্রিজ এসব করে নি তো,..? কিন্তু ও তো এভাবে কিছু করে না। অদ্রিজ শেলীকে ভালবাসে। কিন্তু কখনো বলে নি। কিন্তু এ ফানুসগুলোতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে লেখা ‘লাভ ইউ।’

না, শেলী আর কিছু ভাবতে পারছে না। এসব কিছু ভাল লাগার জায়গায় প্রশ্নের তৈরি করছে।

রাস্তার ধারে আজ সারি বদ্ধ করে পানি পুরি, রেম্বো কুলফি আর চকলেট বিক্রেতাদের ভীড় শেলীর আশ্চর্য লাগল।

শেলী আজ কিছু এখনো খায় নি, খেলে হয়তো বুঝা যেত। কিন্তু সকালে চা অদ্রিজকে ছাড়া খাওয়া হয় নি। কিন্তু ওর সাথে যা হচ্ছে, সেটা ভ্রম নাকি অন্য কিছু, তা বুঝার উপায় নেই।

শেলী রুমের ভিতর যেতেই চোখে পড়ল ড্রেসিং টেবিলের উপর রাখা বুকেট।

তবে সাধারণত এ বুকেট খানিকটা আলাদা। রজনীগন্ধা দিয়ে বুকেট সাজানো হয়েছে।

শেলী প্রিয় ফুলের সৌন্দর্য নিতে ব্যস্ত। সে বুকেট হাতে নিয়ে খুব সুন্দর করে দেখছিল আর ভাবছিল অদ্রিজ এতোটা সুন্দর করে কি করে ভালোবাসে।

অদ্রিজের থেকে শেলীর অনেক কিছু এখনো শেখার আছে। শেলীর সব কিছু অদ্রিজ এত সুন্দর করে মনে রেখেছে, যা সত্যি অবাক করার মত।

শেলী আজ ভীষণ খুশি, আজ কি অদ্রিজ শেলীকে মুখে বলবে ভালোবাসি কথা নাকি আজো শেলীকে আদরে বুঝাবে কতখানি ভালোবাসে।

এসবটা ততক্ষণ সুন্দর ছিল যতক্ষণ একটা ধমকা হাওয়া ঘরে প্রবেশ করি নি।

পূর্ব দিকের জানলা দিয়ে এক সুমিষ্ট ঠান্ডা বাতাস শেলীর ভেজা চুলে দোল খেলছে, সূর্যের আলোটা পর্দার ফাকে দিয়ে আলতো করে শেলীর কপাল ছুঁয়ে প্রমাণ করার চেষ্টা করছে, রোদও শেলীর কাছে আজ শীতল।

এ পর্যন্ত সব কিছু ঠিক ঠাক ছিল, হয়তো থাকত, যদি না চোখে পড়ত টেবিলের উপর সরু করে রাখা একটা ছুরি। ছুরিটা দেখে যে কেউ বুজতে পারবে, ভিতরে পুষে থাকা রাগের কিছুটা প্রকাশ। খুব জোর দিয়ে টেবিলের উপর আঘাত এনে চিরকুটের উপর বসানো হয়েছে ধারাল ছুরিটা।

বিবাহ বার্ষিকীতে এমন কিছু শেলীর কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল। চিরকুট ভাল করে পড়তে গিয়ে দেখল, ওখানে লেখা আছে ‘অতীত কেমন ছিল আর ভবিষ্যৎ কেমন হবে, তা মানুষের অজানা। যেখানে মানুষ শেষ ভেবে খুশি হয়, সেখান থেকেই নতুন শুরুর জন্ম হয়।’ লেখার শেষে পাতার ডান দিকে লাল রং দিয়ে একটা ইমুজি।

শেলী সময় নিয়ে ইমোজিটা দেখছে। শেলীর কন্ঠে ভয়ার্ত ছাপ পড়ছে। যেটা শেলী লাল রঙ ভেবেছিল, সেটা কলমের বা রঙিন কালার নয়। সেটা রক্ত..!

হাত থেকে বুকেট পড়ে গেল। শেলী চোখে ভয়, ঠোট কাপছে, ভয়ার্ত কন্ঠে ঢুক গিলছে। শেলী চোখের সামনে থাকা ছুরিটা রক্ত মাখা।

শেলী অনুভব করল, রুমে ও একা নয়, আরো একজন আছে, যে শেলীর খুব কাছে দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু অদ্রিজ নয়।

শেলী ভয়ে চিৎকার করে অদ্রিজ বলে ডেকে উঠল। কিন্তু অদ্রিজের কোন সাড়া শব্দ শেলী পায় নি। কারণ শেলীর চিৎকারে কোন শব্দ শোনা যাচ্ছিল না। অনেক বার চেষ্টা করেও শেলী তার কন্ঠ হতে আওয়াজ বের করতে পারেনি। আর এ দিকে, শেলীর মনে হচ্ছিল এক জোড়া চোখ শেলীর দিকে তাকিয়ে আছে। সম্পূর্ণ ঘরে জুড়ে ওই এক জোড়া চোখ শেলীর সঙ্গে গোপনে খেলা করছে। শেলী আর অদ্রিজ ছাড়াও এখানে আরো ‘একজন’ আছে, যা শেলীর কাছে স্পষ্ট।

(চলবে)

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ