শিরোনাম
চট্টগ্রাম রেলওয়ে পুলিশের সমন্বয় সভায় ট্রেনে যাত্রী সেবা বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ নিংশ্বাসের বন্ধু’র প্রথম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন চট্টগ্রামে ১৬-১৭ জুন থিয়েটার থেরাপি প্রয়োগ বিষয়ক রিফ্রেশার্স ট্রেনিং চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ে জরুরী রোগী ব্যবস্থাপনার দুই দিনের প্রশিক্ষণ শুরু চা শ্রমিক নেতা বাবুল বিশ্বাসের মৃত্যুতে চা শ্রমিক নেতাদের শোক প্রকাশ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর ভ্যাট চায় না চট্টগ্রাম সিটি ছাত্রদল বিডার কাছে ব্যবসায় সহজীকরণের উদ্যোগ চায় বিজিএমইএ মিরসরাই বঙ্গবন্ধু শিল্প নগরে বেপজার প্লট পেল বঙ্গ প্লাস্টিকসহ দেশি বিদেশি দশ প্রতিষ্ঠান ভারতীয় ভেরিয়েন্ট দেশে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডে উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে কাউন্সিলর শহিদুল আলম
মঙ্গলবার, ১৫ জুন ২০২১, ১২:৫৭ অপরাহ্ন

ধারাবাহিক গল্প: তোমায় ভালোবেসে: পর্ব পাঁচ

শাশ্বতী ভট্টাচার্য / ১৪০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

বিশ-পঁচিশ বার ফোন দেওয়ার পরেও যখন ফোনের ওপাশ থেকে সংযোগ দেয়া সম্ভব না বার বার ভেসে আসছিল, তখন আর নিজেকে আটকে রাখতে পাচ্ছিলাম না। নিজের অজান্তেই চোখ থেকে অশ্রুকণা গাল বেয়ে নেমে আসছিলো।

ফুফি তুমি বাচ্চাদের মতো কান্না করছো কেনো?

ঈশানের প্রশ্নের উওর আমার কাছে নেই। আমি নিজেও জানি না কেনো অদ্রিজ ভাইয়ের উপর এত ভরসা করছি। সে তো আমাকে বলেই দিয়েছিলো, বিয়ে দিলে বিয়ে করে নিতে। তারপরও কেনো যে বোকার মতো তার কাছ থেকে কিছু আশা করছি, আমি নিজেও জানি না।

শেলী আপু, সায়মা আপু এসেছে।

সায়মা নামটা শুনতেই আমার কেমন যেন রাগটা বেড়ে গেলো। ও চাইলে আমাকে সাহায্য করতে পারতো কিন্তু করেনি। আজ আবার এসেছে নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে। মানুষ কত কি যে দেখায় দুনিয়ায়, এটা উপরওয়ালা ছাড়া আর কেউ ভালো জানে বলে মনে হয় না।
-শেলী…
-ভিতরে আসুন..
-তুই আমাকে আপনি করে কেনো বলছিস?
-সম্মানিত ব্যক্তিকে সম্মান দিয়ে কথা বলছি..
-সেদিনের জন্য সরি শেলী…
-ছি, ছি,…আপনি কেনো স্যরি বলছেন। আমার বাসার মেহমান আপনি। কিছুক্ষণ পর মেহেদি অনুষ্ঠান, এসেছেন যখন আনন্দ করুন। সন্ধ্যায় বিয়ে দেখে রাতে খেয়ে তারপর না হয় যাবেন।

সায়মা চুপ করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। চোখ ছলছল করছে ওর। আমার কথায় যে ওর অপমান বোধ হচ্ছে সেটা আমি বুঝতে পারছি। ও কিছু না বলেই রুম থেকে বের হয়ে চলে গেলো।

ঈশান আমার বুকে মাথা রেখে চুপটি করে লেপে আছে। আমি ওকে আরো যত্ন নিয়ে বুকে জড়িয়ে রেখেছি। এই ছেলেটার মায়া বাধনে কেন যে মাঝে-মাঝে আমি আটকে যাই, নিজেও জানি না।

কচু পাতার রঙের গোল্ডেন সুতোর কাজ করা একটা শাড়ি নিয়ে রুপ্সা তাড়াহুড়ো করে রুমের ভিতর এলো।

শেলী আপু, দেখো তো শাড়িটা কেমন।

আমি আচমকা ওর এভাবে ভিতরে আসা দেখে কোনো কিছু না ভেবেই ভালো বলে দিলাম।

আমি জানতাম, তোমার ভালো লাগবে। অদ্রিজ ভাইয়ার পছন্দ খারাপ হতেই পারে না। আর এই শাড়িটাই তুমি মেহেদী অনুষ্ঠানে পড়বে।

তার সাথে খোপায় বেলী ফুলের গাজরা, রুমি এসে বললো।

বাহ, তাহলে আজ তোদের দেখার মতো কেউ নেই। যারা আসবে হনুমানের দল সব শেলী আপুর দিকে তাকিয়ে থাকবে, রনি বলেই হা হা হা হা হা করে হেসে উঠলো।

এ দিকে, ঝুমি দৌঁড়ে এসে চিৎকার করে বলা শুরু করলো- তোমাদের কি হা হা হা হা শেষে হয়েছে? চাচী বলেছে, শেলী আপুকে নিয়ে যেতে।

ওমনি রনি, ঝুমির গাল টেনে দিয়ে বললো, চলে এসেছে আমাদের ডাক পিয়ন।
ঝুমি রেগে গিয়ে চলে গেলো।

আর এ দিকে, রুমি ও রুপ্সা আমাকে মেহেদি অনুষ্ঠানের জন্য তৈরি করতে ব্যস্ত। আমাকে আটপৌরে করে শাড়ি পড়ানো হলো। মাথায় পিছনে বেশ বড় একটা খোপা করে তাতে বেলী ফুলের গাজরা গুজে দিলো রুমি। হলুদ ফুলের গহনা দিয়ে রুপ্সা তার মনের মতো করে সাজালো আমায়।

আমাকে নিয়ে প্রত্যেকে আজ ব্যস্ত। প্রত্যেকের আনন্দ শেষ নেই। এসবের মাঝে শুধু আমার ভালো থাকাটা নেই। আমার বাহিরটা খুব যত্ন করে সাজিয়েছে সবাই কিন্তু আমার ভিতরটা এক বারও কারোর মাথায় এলো না।

বড়া চাচী আম্মা আমাকে নিতে আসলো। ঈশান আমার হাতের আঙুল ভুল করেও এক বারের জন্য ছাড়েনি। কিন্তু এসবের মাঝেও আমার অস্থিরতা একটু কমে নি। প্রত্যেকের উপর ক্ষোভ কাজ করছিলো। কেউ এক বারও জানতে চাইলো না আমি কি চাই।

আমাকে ড্রইং রুমে নিয়ে সোফায় বসানো হলো।ঝুমি মেহেদী থালা নিয়ে টেবিলে রাখলো। মেহেদী থালার পুরোটা গোলাপের পাপড়ি দিয়ে সাজানো হলো। তার উপর মাঝেখানে রাখা হলো বাটা মেহেদী বাটি। ঈশান আমার সাথে সোফায় বসে আছে। খালামণি বাটা মেহেদী দিয়ে আমার হাতের আঙুল ভরাট করে দিচ্ছে। আম্মু আমার ডান হাতের তালুতে বাটা মেহেদি দিয়ে গোল বৃত্ত করছে।

আর বাকি সবাই যার যার মতো করে মেহেদি পড়ছে। ঈশান আমাকে একটু একটু করে খাইয়ে দিচ্ছে আর টিসু দিয়ে ঠোট মুছিয়ে দিচ্ছে।

হঠাৎ করে সবুজের দিকে চোখ পড়লো। এক কোণে চুপটি করে দাঁড়িয়ে আমার দিকে গভীরভাবে তাকিয়ে আছে। ওর তাকানো দেখে মনে হচ্ছে, একমাত্র ও আমার মতো চাইছে বিয়েটা যেন না হয়।

যদিও আর কিছুক্ষণ পর সব শেষ হয়ে যাবে। আমি নতুন কোনো শেলীর জন্ম নিবো।

এ চিরচেনা পরিবার তখন আমার সব থেকে বেশি পর হবে। যাদের আমি চিনি না সেই বাড়িটাই তখন আমার সব থেকে কাছের হবে।

আর যে মানুষটাকে আমি জানি না, তাকে আমায় ভোগ করার সম্পূর্ণ অধিকার দিতে হবে। হায়রে ভাগ্য! শুকরিয়া আদায় করবো না উপহাস করবো বুঝতে পারছিনা।

মেহেদি দেয়ার শেষে আম্মু আর খালামণি উঠে গেলো। আমি তখনো ছোফায় ঠাই হয়ে বসে আছি। চোখ দিয়ে পানি ঝরছে। কারোর চোখে কি পড়ছে না। কেউ কি বুঝতে পারছে না নাকি চাইছে না সেটা উপর আল্লাই ভালো জানে।

আমার বাম হাতটি তার হাতের মধ্যে নিয়ে তাকিয়ে আছে সবুজ। আমি সবুজকে ঠিক বুজতে পারছি না। ওর হাব ভাব আমার ঠিক সুবিধা মনে হচ্ছে না। যদিও শুরু থেকে সবুজ আমার বিয়ে নিয়ে রাজি ছিল না। এর আগেও অনেকগুলো বিয়ে ভেঙেছে। এবারও চেষ্টা করেছে কিন্তু পারেনি।

হঠাৎ করে অনুভব করলাম সবুজের চোখ থেকে পানি পড়ছে আমার হাতের তালুর উপর। অবাক হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে আছি। কান্না কেনো করছে সেটা আমার সম্পূর্ণ অজানা।

সবুজ আমার মামাতো ভাই। বলে রাখা ভালো সবুজ আমার দুই মাসের বড়ো। কিন্তু ও ছোট থেকেই আমায়, রুমি, ঝুমি সবাইকে আপু বলে ডাকে। যদিও অনেক বার মানা করার পরেও কাজ হয়নি। আর ওকে সবুজ বলে ডাকার কথা ওই আমাকে বলেছিল। এমন কি পরবর্তী যেন ঝামেলা না হয় তাই বাসায় থেকে অনুমতিও নিয়েছে।

কিন্তু আজ সবুজ এর ছোয়া, কান্না করা,পাগলামিগুলো বেশ অন্য রকম লাগছে।

শেলী তুই কেনো ফুফাকে বলছিস না তুই এই বিয়েটা চাস না।

-আমি বললেও আব্বু আমার কথা শুনতেন না।আব্বুর কাছে তার সম্মানটা সবার আগে।

-শেলী, তুই বিয়েটা করিস না।

আমি সবুজের দিকে তাকিয়ে আছি। ও কথা বলার সময় এক বারো আমার দিকে তাকায় নি। আমার হাতটা এত শক্ত করে ধরে ছিল যে, আমার হাতে ব্যথা হচ্ছিলো। এক দৃষ্টি দিয়ে হাতে কি দেখছিল কে জানে!

হাতটা অনেক বার ছাড়ানোর চেষ্টা করছি কাজ হচ্ছে না। উফ, আমার এখন খুব বিরক্ত লাগছে।এর আগেও সবুজ আমার হাত ধরেছে। কিন্তু আজ কেনো যেন মনে হচ্ছে হাতটা ভেঙে ফেলবে। আজ সবুজের নিঃশ্বাসটাও আমার অসহ্যকর লাগছে। আমি পারছি না ওর পাশে থেকে উঠে যেতে।

-শেলী?
-হুম…
-যাবি আমার সাথে?

আমি কিছুটা থেমে ভ্রু কুচকে জানতে চাইলাম কোথায়?

-ছাদে, দোলনায় চড়বি। অনেক দিন তুই দোল খাস না।

সবুজ আমার দিকে তাকালো। চোখ দুটো রক্তের মতো লাল হয়ে আছে। সবুজকে দেখে আমার ভয় হচ্ছে। ওকে এতো উগ্র হিংস্র আগে কখনো দেখি নি। ওর বিভৎস রুপ আমি সহ্য করতে পারছিলাম না।

আমি সাথে সাথে মানা করে দিলাম ছাদে যাবো না।

-কেনো, যাবি না? চল না শেলী, আমি তোকে খুব যত্ন নিয়ে দোল খাওয়াবো।

আচমক আমি টের পেলাম সবুজ আমাকে শেলী বলে ডাকছে।

আমার সব কিছু গোলমাল লাগছে। কিন্তু সবুজ আমায় টেনে নিয়ে ছাদে গেলো।

ছাদের মেঝেতে চার দিকে গোলাপ ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে আছে। গাদা ফুল দিয়ে দোলনা সাজানো হয়েছে।

সবুজ আমার হাত ধরে হেটে দোলনার কাছে গিয়ে দাঁড়ালো। আমায় দোলনাতে বসালো।তারপর পিছনে গিয়ে দোলনায় দোল দিতে লাগলো। কিছুক্ষণ দোল দেয়ার পর আমার পায়ের কাছে এসে বসলো। আমার ডান পা হাতে নিয়ে তার হাটুর উপর রাখলো।

-সবুজ কি করছো এগুলো?
-তোর পা খালি কেনো শেলী?
-পা ছাড়ো আমার। পায়ে হাত দিচ্ছো কেনো? (বিরক্ত সুরে বললো শেলী)

সবুজ বুক পকেট থেকে এক জোড়া পায়েল বের করলো। খুব যত্ন নিয়ে শেলীর ডান পায়ে পায়েল পরালো সবুজ। সবুজ গরম নিঃশ্বাস শেলীর পায়ের উপর পড়ছে। আদর করে সবুজ শেলীর পায়ে চুমু খেলো।

শেলী রেগে গিয়ে দোল না থেকে উঠে গেলো।চিৎকার বলে উঠলো- কি করছো তুমি এগুলো সবুজ ভাইয়া।

ভাইয়া ডাক শুনে সবুজ খেপে গিয়ে দোলনায় ঘুষি দিলো।

শেলী সবুজের আচরণে ভয় পেয়ে পিছিয়ে গেলো। ঢোক গিলে কাপা গলায় বলতে লাগলো, তুমি এমন করছো কেনো।

তোকে আমি মানা করেছিলাম, তুই আমাকে ভাইয়া বলবি না। বুঝিস না তুই আমার কথা।

চাচ্চু তুমি ফুফির সাথে এভাবে কথা বলছো কেনো? ফুফি তো ভয় পারে। তুমি ফুফিকে বকছো কেনো?

ঈশানে কখন ছাদে এসেছে, আমাদের কথাগুলো শুনেছে কিছুই টের পায়নি।

সবুজ রেগে গিয়ে ঈশানকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো।

আমি দ্রুত গিয়ে ঈশানকে তুলে বুকে জড়িয়ে নিলাম। সবুজ আমার দিকে রক্তচক্ষু করে তাকিয়ে আছে। ঈশান ভয়ে পেয়ে কেঁদে দিলো।আম ওখানে এক মিনিটও দাঁড়ায়নি। ঈশানকে কোলে নিয়ে সেখানে থেকে নিচে চলে এলাম।

(চলবে…)

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ