শিরোনাম
মারা গেলেন বাংলা একাডেমির সভাপতি শামসুজ্জামান খান কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরা বন্ধকালীন দশ উপজেলায় এক হাজার মেট্রিক টন চাল বরাদ্ধ মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ‌‌‌‌‌এক্সপ্রেসিভ সাইকোথেরাপি: বিদ্যায়তনিক পাঠ ও গণ প্রয়োগ কবিতা: আছি সেই সুদিনের অপেক্ষাতে । শ্রাবন্তী বড়ুয়া করোনার চিকিৎসায় পাহাড়তলীতে সিএমপি-বিদ্যানন্দ ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন মাছ আহরণ নিষিদ্ধকালে জেলেদের জন্য ৩১ হাজার মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ রমজানে রোগবালাই ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয় হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে উড়িরচরে সীমানা পিলার স্থাপনের প্রতিবাদ সন্দ্বীপবাসীর মাউন্টেন ভ্যালির আইভেক্টোসল ও আইভোমেকের প্রথম ধাপের ট্রায়াল শুরু এল রহমতের মাস মাহে রমজান
বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ০২:০৫ পূর্বাহ্ন

ধারাবাহিক গল্প: তোমায় ভালোবেসে । পর্ব: চার

শাশ্বতী ভট্টাচার্য্য / ১১৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২১

রুমে এসে ফ্রেশ হতে হতে লতিফ চাচার কথাটা ভাবলাম। কিন্তু আব্বুকে কিভাবে কি বলবো সেটা কিছুতেই বুঝে উঠতে পারলাম না। হঠাৎ করে অনুভব করলাম, আমার ঘরে একটা পারফিউমের সুবাস আসছে। কিন্তু এই পারফিউম আমার নয়।তার মানে ওয়াস রুম থাকা অবস্থায় আমার ঘরে কেউ এসেছিল। টেবিলের উপর এক কাপ কফি রাখা দেখে ব্যাপারটা ক্লিয়ার হলাম।

কফি শেষ করে নিচে এসে দেখলাম, বাগানে এক জন নতুন ছেলে কাজ করছে। লতিফ চাচাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলাম ছেলেটি কে?

চাচা বললেন, ছেলেটি তার ভাইয়ের ছেলে। এবার বিবিএ শেষ করে চাকরির জন্য চেষ্টা করছে।

আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করলাম না। তখন শুধু আমার মাথায় ভাইয়াকে নিয়ে চিন্তা হচ্ছে। শেলীর বিয়ের ব্যাপারটা ভাইয়াকে বলা দরকার। ঠিক করলাম, আমি নিজেই যাবো বাগান বাড়িতে ভাইয়ার সাথে দেখা করতে। গাড়ি নিয়ে বেরও হয়ে গেলাম। প্রায় সাাত ঘন্টার পর বাগান বাড়ি পৌঁছালাম।

বেশ অন্ধকার ছিল বাড়িটা। গাড়ির লাইটের আলোতে ততো ভালো করে চার পাশের কিছুই দেখা যাচ্ছিলো না। গাড়ির হর্ন শুনে খাইরুল চাচা লাইট নিয়ে বের হয়ে আসলেন। গাড়ি থেকে নেমে চাচার কাছে জানতে চাইলাম, ভাইয়া কই?

চাচা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললো…………………..।।।
…………………………………………
দুপুর ১২টায় কলিংবেলের আওয়াজ শুনে মধ্য বয়সী পাঁট ফুট লম্বা, গায়ের রঙ বেশ উজ্জ্বল, ৫০+ বয়সী ভদ্র মহিলা ঈস্পিতা বেগম দরজা খুললেন।

-আসসালামু আলাইকুম খালামণি।
–রানু, দেখে যা শেলী চলে এসেছে।

খালামনি আমায় জড়িয়ে ধরলো। আম্মু রান্নাঘর থেকে দৌঁড়িয়ে এলো। আব্বু মাঝের রুম থেকে চশমা মুছতে মুছতে বেড়িয়ে এলো।

আব্বুকে দেখে আমি খালামণির পিছনে লুকিয়ে পড়লাম।

-আর একটা দিন আগে আসতে পারতে। যা হোক, আমার মান তুমি রেখেছো সেটাই অনেক। তারা সন্ধ্যায় আসবে তোমায় বিয়ের শাড়ি আর গহনা দিয়ে যেতে। তৈরি হয়ে থেকো।

আব্বু চলে যেতেই আমি আড়াল থেকে বের হয়ে আম্মুকে বললাম, আমার তাকে কিছু বলার আছে।

এ দিকে, রনি আর রুমি এসে আমার কথা শেষ না হতেই হাত ধরে টেনে নিয়ে রুমে চলে গেলো বিয়ের শপিং দেখবে বলে।

ভাগ্যিস অদ্রিজ ভাইয়া শাড়িগুলো দিয়ে দিয়েছিলো।

রনি বিশ্বাস করতে চাইছিলো না।
রুমি তো বলেই দিয়েছে, আপু এগুলো কি তোমার পছন্দের?

আমি রুমির প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে চুপ করে আছি।

সবুজ এসে সবাইকে ধমক দিয়ে রুম থেকে বের করে দিয়েছে।

-আপু তুই কোথায় ছিলি?
সবুজের কাছে এমন প্রশ্ন শুনে আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি।
-কোথায় থাকবো..! সায়মার বাসায় গিয়েছিলাম
-মিথ্যে কথা..! সায়মা আপু তোকে বের করে দিয়েছে বাসা থেকে। কোথায় ছিলি সারা রাত তুই?

চুপ করে আছি। সবুজের প্রশ্নের উত্তর কি দেবো?

সবুজ হাজার বার জানতে চেয়েও কোনো উত্তর না পেয়ে রুম থেকে চলে গেলো।

অদ্রিজ ভাইয়াকে ফোন দিয়ে যাচ্ছি কিন্তু সে ফোন ধরছেনা। এদিকে, আমার চুপ করে থাকা সবার মনে প্রশ্ন তৈরি করছে। টেনশনে হাত পা আমার ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে। সারা রাত অদ্রিজ ভাইয়াকে ফোনে ট্রাই করে পাই নি।

তার উপর সন্ধ্যাবেলা ছেলে বাড়ি থেকে এসে বিয়ের শাড়ি আর গহনা দিয়ে গেছে। ঝুমি তো সবার সামনে বলেই দিয়েছে, তাদের বিয়ের শাড়ি থেকে আমার কিনে আনা শাড়িগুলো বেশি সুন্দর। যদিও শাড়িগুলো আমি কিনি নি।
ছেলের বাড়ি থেকে শাড়ি গহনা কেউ পছন্দ করে নি। কিন্তু আব্বু ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারছে না।

রাতের খাবার শেষ করে রুমে এসে জানালার পাশ ঘেসে দাঁড়িয়ে আকাশ দেখছিলাম।
ভাবছিলাম, পরিস্থিতি মানুষকে কত কি শিখায়!

হঠাৎ ফোনের টুং টাং আওয়াজে চেতনা ফিরে এলো। ইনবক্সে গিয়ে দেখলাম অদ্রিজ ভাইয়ার এসএমএস। লেখা আছে, আমার উপর তোর বিশ্বাস আছে?

উত্তরে লিখে পাঠালাম, হ্যাঁ।

আবার এসএমএস আসলো, আমি যা বলবো কোনো প্রশ্ন ছাড়া চোখ বন্ধ করে সেই কাজ করতে পারবি?

আমি এই প্রশ্নের উত্তর জানি নি। কিন্তু অদ্রিজ ভাইয়া আমার কাজিন থেকে বন্ধু বেশি। এখন ঠিক ভুল আমি কিছুই ভাবতে পারছি না। হুট করে বলে দিলাম, পারবো।

তারপর আর কোনো এসএমএস আসে নি। এদিকে আজকে আমার এখানে শেষ রাত। কাল থেকে নতুন একটা জীবন শুরু হবে। কার সাথে হবে জানি না। সে মানুষটাকে এখনো আমি চিনি না, জানি না। কাঁধে একটা হাত অনুভব করলাম।ঘুরে দেখি বড়া চাচী আম্মা।

এত রাতে চাচী আম্মার ঘরে আসার কারণটা মনে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
-শেলী, তুই কি এই বিয়ে করতে চাইছিস না?

আমি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না। চাচী আম্মার বুকে মাথা রেখে কেঁদে দিলাম।

উনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করছে, আর কোনো প্রশ্ন করে নি।
সবুজ রুমের বাহিরে দাঁড়িয়ে সবটা দেখেছে। কিন্তু কোনো কথা বলেনি।

ভোর পাঁচটা বাজে, বাসায় হৈ চৈ পড়ে গেছে। আর মাত্র কয়েক ঘন্টা।

তারপর এই বাড়ি আলোক সজ্জায় ভরে উঠবে।চার দিক বাদ্য মাতল সুরে বেজে উঠবে। রঙ বেরঙের সাজে সবাই নিজেকে সাজিয়ে তুলবে। আমাকেও বাহারি সাজে সার্কাসের পুতুল সাজিয়ে আবিষ্কার করবে এক দল অপরিচিত মানুষের সামনে। হাজার হাজার লোকের সমাগম হবে টিকেট ছাড়া চিড়িয়াখানার রঙিন প্রাণী দেখার জন্য।

নিজের ভাগ্যের উপর প্রচণ্ড রাগ হচ্ছে। কেনো সাহস করে বলতে পারছি না, বিয়েটা আমি করবো না…..। কি হতো যদি সব ছেড়ে ছুড়ে চলে যেতাম। অনেক কিছু করতে গিয়েও পারি নি। আটকে গেছি বারংবার।

খুব আদরের মেয়ে আমি পরিবারের। আমাকে নিয়ে সবার চাহিদা ছোট থেকেই অন্যদের তুলনায় বেশি। আর সেই চাহিদার কাছেই আমি আর আমার নিয়তি দুটোই হার মানতে শিখে গেছি। জানি না আজ সন্ধ্যায় কি অপেক্ষা করছে। এত কিছুর পরেও যদি আমার পরিবারটা ভালো থাকে, তবে তাই হোক। আমার ইচ্ছের বিসর্জনে এদের মান সম্মান যদি অর্জন হয়, তবে আমার চুপ করে থাকাই শ্রেয়।

নামাজ শেষ করে হলুদ নিয়ে চাচী আম্মা রুমে আসলেন। খালামণি, আম্মু, রনি, রুমি, ঝুমি, সবুজ প্রত্যেকেই এলো। ঝুমি সবার ছোট। ওর আনন্দ দেখে মনে হচ্ছিলো, বিয়েটা ওর হচ্ছে।

এক এক করে সবাই আমায় হলুদ ছুঁয়ে গেলো। বাকি সবার মতো আমার হলুদ অনুষ্ঠান হয় নি।এটাও আব্বুর ইচ্ছেতে হলো।

আমি কিছুতেই বুঝতে পারছি না আব্বু কেনো এতো তাড়া দিচ্ছে। এ রকম তাড়াহুড়ো করে বিয়ের নিয়ম-নীতি পালন করা কারোর পছন্দ হচ্ছে না। কিন্তু আমাদের পরিবারে আব্বুর কথাই শেষ কথা।

সকাল সাতটা বাজে বাড়ি সাজানোর জন্য ডেকোরেশনের ছেলেগুলো চলে এলো। আব্বু আর বড় আব্বু মিলে রান্নার কাজে নজরদারি করছে।

রনি খুব আনন্দ নিয়ে লাইটিং ছেলেদের দেখিয়ে দিচ্ছে কোথায় কি করতে হবে।

সবুজ না চাইতেও ফুল দিয়ে ঘরের ভিতর দরজা সাজিয়ে তুলছে।

রুমি আর ঝুমি মেহেদি অনুষ্ঠান নিয়ে প্ল্যান করছে।

আম্মু আর খালামনি পিঠে পায়েস নিয়ে ব্যস্ত।
বড় চাচি আম্মা সকালের নাস্তায় কি তৈরি করা যায় তা নিয়ে ব্যস্ত।

বাড়ির মিনিটাও তাদের কাজে সাহায্য করছে। আমি সব কিছু শুধু চেয়ে চেয়ে দেখছি। প্রত্যেকে কতও খুশি আর আমি স্বার্থপরের মতো সব শেষ করে দেওয়ার চিন্তা করছিলাম।

হঠাৎ গাড়ির শব্দ শুনা গেলো। রুপ্সারা চলে এসেছে।

ঈশানে এসেই ফুফি বলে কোলে ঝাপ দিয়ে বসলো। ঈশানকে দেখে মনে হচ্ছে, আমার সব অবসাদগুলো চলে গেছে। এই ছেলেটার প্রতি আমার একটা অন্য রকম মায়া কাজ করে। ও আমার কাছে থাকলে কেমন যেন আনন্দ অনুভব করি।

রুপ্সা এসে পিছন থেকে আমায় জড়িয়ে ধরলো।

আমি সোফায় বসা, ঈশান আমার কোলে আর রুপ্সা আমার পিছনে ঘাড়ে মাথা রেখে জড়িয়ে আছে। রনি সাথে সাথে এই দৃশ্য ক্যামেরা বন্দি করলো।

-শেলী আপুকে এতখন পর এতো খুশি দেখাচ্ছে।

বুঝতে হবে রনি ভাইয়া আমি আর ঈশান থাকতে শেলী আপুকে মুড অফ করতেই দিবো না।

এত ভিড়ে অদ্রিজ ভাইয়াকে কোথাও দেখতে পেলাম না। তাহলে কি ভাইয়া আসে নি।

অদ্রিজ ভাইয়াকে ফোন দিলাম। কিন্তু ফোনের ওপাশ থেকে ভেসে এলো, এই মুহূর্তে আপানার কাঙ্ক্ষিত ফোন নম্বরে সংযোগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না…….

(চলবে….)

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ