Warning: mysqli_query(): (HY000/1021): Disk full (/tmp/#sql_505d_15.MAI); waiting for someone to free some space... (errno: 28 "No space left on device") in /home2/porombangladesh/public_html/wp-includes/wp-db.php on line 2056
ধারাবাহিক গল্প: তোমায় ভালোবেসে । পর্ব তিন ধারাবাহিক গল্প: তোমায় ভালোবেসে । পর্ব তিন – পরম বাংলাদেশ
শিরোনাম

Warning: mysqli_query(): (HY000/1021): Disk full (/tmp/#sql_505d_5.MAI); waiting for someone to free some space... (errno: 28 "No space left on device") in /home2/porombangladesh/public_html/wp-includes/wp-db.php on line 2056
দুঃস্থ নারীদের নগদ টাকা উপহার দিল হিউম্যান সাপোর্ট ফাউন্ডেশন খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় বায়েজিদ থানা ছাত্রদলের মিলাদ ও ইফতার বিতরণ স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা হেলাল উদ্দিনের অর্থায়নে ফ্রি সবজি বাজার আন্দরকিল্লায় রমজানে ডায়াবেটিস রোগীর সমস্যা, সমাধানে করণীয় ও হোমিওপ্রতিবিধান ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন চট্টগ্রামে আজ মাহে রমজানের শেষ জুমা; জেনে নিন জুমাতুল বিদার মহত্ত্ব আলোচিত ‘নয়া দামান’ গানের মূল শিল্পী তোসিবা বেগম উপেক্ষিত নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভারত থেকে প্রবেশ বাড়ছে আখাউড়া স্থল বন্দর দিয়ে বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা কেন করবেন? সরকারিভাবে অন্তত ৯০০ টন অক্সিজেন মজুত আছে
শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ০৭:২৫ পূর্বাহ্ন
/ Uncategorized

ধারাবাহিক গল্প: তোমায় ভালোবেসে । পর্ব তিন

শাশ্বতী ভট্টাচার্য / ১৯৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২১

আকাশের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে অদ্রিজ। ভিতরের জমা কষ্টগুলো ধোয়ার সাথে উড়িয়ে নিজেকে হালকা করে নেওয়ার সামান্য প্রচেষ্টায় সান্ত্বনা দেওয়া ছাড়া আজ তার কিছুই করার নেই।
ছেলেরাও কান্না করতে পারে সেটা অদ্রিজের মতো ছেলেদের না দেখলে বুঝা যায় না। একের পর এক সিগারেটের নেশায় মেতে উঠেছে অদ্রিজ।
মার্কেটের ঘটনাগুলো সে কিছুতেই ভুলতে পারছে না। আজকের ঘটনাগুলো তাকে বার বার স্নিগ্ধার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।
-আমার যে সময়ে তোমাকে পাশে প্রয়োজন ছিল, সেই সময় তুমি আমাকে অনায়াসে খুব সহজে ছেড়ে অন্যের হাত ধরে চলে গিয়েছিলে। যে সময়টা পুরো পরিবার আমার থেকে দূরে থাকার শাস্তি দিচ্ছিল আমায়, সে সময়টা তুমি সুখের ঘুমে আছন্ন ছিলে।
আমার কিছু মেয়ে বন্ধুদের দেখেছি তাদের ব্রেক আপের পর তারা তাদের বয়ফ্রেন্ডকে ‘কাপুরুষ’ বলে পরিচয় দিতো। আচ্ছা তাহলে আমি তোমায় কি বলে পরিচয় দিবো ‘চরিত্রহীনা নারী’?
কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস! আমি তোমাকে তাও বলততে পারছি না। ভালোবেসেছিলাম তোমাকে।
কি করে নিজের ভালোবাসাকে নিজে অপমান করি, বলো? এসব কিছু ভাবতে ভাবতে অদ্রিজের চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে।
একটা দীর্ঘশ্বাস টেনে নিয়ে অদ্রিজ আবার এক মনে প্রশ্ন করতে শুরু করলো, আজও কি তুমি সে দিনের মতো তৃপ্তি নিয়ে রাতে ঘুমাতে পারো স্নিগ্ধা? যে হাত ধরে তুমি আমায় ছেড়েছিলে, সে কি তোমায় আমার মতো করে ‘ঘুম পরি’ বলে ডেকে বেড়ায় সারাদিন? তোমার অসময়ের সব আবদার পূরণ করতে করতে কি সে হাপিয়ে উঠে, নাকি আরো কি কি চাই তোমায় অভিমান সুরে জিজ্ঞেস করে?
মানুষ নাকি ভালোবাসায় বাঁচে আর আমি, ‘তোমায় ভালোবেসে’ অভিনয় করতে শিখেছি। ভালো অভিনয় শুধু অভিনয় শিল্পীরাই করতে পারে, এমন ধারনা ভুল। প্রতিটা মানুষ প্রতিটা সেকেন্ডে দক্ষ অভিনয় শিল্পী। যেমন আমি প্রতিটা দিন রাত আজো তোমাকে ভুলবার অভিনয় করে যাচ্ছি। কিন্তু তোমাকে ভুলার চেষ্টা করলেও তোমার নামটা আজো ভুলতে পারি নি।
হঠাৎ করে অদ্রিজ তার বাসার সামনে সিএনজির শব্দ শুনতে পেলো। সে দেখতে পেলো সিএনজি থেকে এলো চুলে সাদা রঙের শাড়ি পরা ব্যাগ হাতে একটি মেয়ে তার বাসার ভিতর হেঁটে চলে আসছে। অদ্রিজ খানিকটা ভালো করে লক্ষ্য করে দেখলো, এই মেয়েটা আর কেউ নয়, ওর খালাতো বোন শেলী।
অদ্রিজ হা করে শেলীর দিকে তাকিয়ে আছে। এই মেয়ের দুই দিন পরে বিয়ে আর সে কিনা ব্যাগ হাতে নিয়ে এতো রাতে ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গল চলে এসেছে।
অদ্রিজ দ্রুত ছাদ থেকে নিচে নেমে এলো। রাত বেশি হয়ে যাওয়াতে শেলীর আসার খবরটা কেউ জেনে উঠতে পারি নি। কলিংবেলের আওয়াজ কারো কানে যাবার আগেই অদ্রিজ রুমের দরজা খুলে ঠাঁই হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
শেলী চুপ করে মাথা নিচু করে দরজায় দাঁড়িয়ে আছে। অদ্রিজ ব্যাপারটা জানাজানি হওয়ার আগেই শেলীকে হাত ধরে টানতে টানতে নিজের রুমে নিয়ে গেলো।
অদ্রিজ শেলীর দিকে তাকিয়ে আছে। কি বলবে শেলীকে সেটাই বুজতে পারছেনা। আর শেলী যে বাসা থেকে বের হয়েছে সেটা কি খালামণি জানতে পারি নি?
অদ্রিজ শেলীর উপর খেপে আছে। এ দিকে শেলী অদ্রিজের সামনে সোফায় বসে চুপচাপ কেঁদেই যাচ্ছে।
তুই কি আমায় বলবি নাকি এভাবেই কেঁদে যাবি?
-ভাইয়া, আমি এই বিয়েটা করতে চাই না।
-হু, কেনো করতে চাস না?
-ভাইয়া তুমি তো সব জানো, আমি….
এবার অদ্রিজ নিজের রাগকে আর কন্ট্রোল করতে পারি নি। সে শেলীকে উচ্চস্বরে ধমক দিলো।
-দুই দিন পর তোর বিয়ে। আর তুই এখন বলছিস বিয়ে করতে পারবি না। তাও সেটা……….বলতে গিয়ে অদ্রিজ থেমে গেলো। ছাড় এ সব কথা। আগে আমাকে এটা বল, তুই বাড়ি থেকে কি বলে বেরিয়েছিস?
শেলী অদ্রিজের এই রুপ আগে কখনো দেখেনি। ও ভেবেছিলো অন্তত অদ্রিজ সবটা জানে। তাই ও তাকে সাহায্য করবে। কিন্তু এখানে সব উল্টো হয়ে গেছে।
শেলী চুপ করে আছে দেখে অদ্রিজ আরো রেগে গেলো।
-শেলী, তুই আমাকে বলবি নাকি চুপ করে থাকবি?
-আমি বাসা থেকে আসি নি।
এবার অদ্রিজ অবাক হয়ে শেলীর দিকে তাকিয়ে আছে।
-অই মাইয়া, দুই দিন পর তোর বিয়ে। আর তুই বাসা থেকে আসিস নি। মানে কি? কই ছিলি তুই?
-আমি আমার বান্ধবীর বাসা থেকে এসেছি।
এটা শোনার পর অদ্রিজ ধপাস করে খাটে বসে পড়েছে। অদ্রিজের মাথা কাজ করছে না।
-শেলী, আমায় খুলে বল পুরো ঘটনা। এসবের মাঝে তোর বান্ধবী কই থেকে আসলো?
-আমি আম্মুকে মার্কেটের কথা বলে হোস্টেল থেকে বান্ধবীর বাসায় উঠি। কিন্তু আমার বান্ধবী সব শোনে আমায় ওর বাসায় রাখতে চায় নি। তাই আমি ঠিক করলাম তোমাদের এখানে চলে আসবো।
অদ্রিজ হাসবে না কাঁদবে বুজতে পারছে না। এ দিকে ভোর হয়ে গেলে সব জানাজানি হয়ে যাবে। সেই টেনশনে ওর রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।
অদ্রিজের ইচ্ছে করছে শেলীর গালে কষে একটা থাপ্পড় মারতে। কিন্তু অদ্রিজ তাও করতে পারছে না।
এখানে শেলীর কোনো দোষ নেই। খালামণি শেলীকে কিছু না বলেই বিয়ে ঠিক করেছে। শেলী তো পাত্রকেও দেখেনি। কেনো যে এমন সিদ্ধান্ত নিতে গেলো খালু কে জানে?
কিন্তু শেলীকে এখানে রাখা যাবে না। ভোরের সাথে সাথে শেলীকে যেভাবেই হোক বাসায় পাঠানোর ব্যবস্থা কর‍তে হবে।
রাত একটা বেজে ৫৩ মিনিট। শেলীকে দেখলেই ওর রাগ বেড়ে যাচ্ছে। শেলীকে ওর রুমে রেখে অদ্রিজ ঈশানের রুমে চলে গেলো। যাওয়ার সময় দরজা বাহিরে দিয়ে লক করে গেলো।
রুমে গিয়ে দেখলো, ঈশান ঘুমাচ্ছে। ভাইয়াও নেই। ঈশানকে দেখে অদ্রিজের কষ্ট হলো। এভাবে আরো কতো রাত যে ঈশানকে একা ঘুমাতে হয়েছে তার হিসেব নেই।
ঈশানের কপালে চুমু একে অদ্রিজ সোফায় গিয়ে বসলো। পাশের ছোট টেবিলের উপর রাখা ফটো ফ্রেমটা নিয়ে অদ্রিজ গভীরভাবে তাকিয়ে আছে।ভাই আর ভাবীকে এক সাথে কতো সুন্দর লাগছে। ইস, কি অবস্থা ফ্রেমটার? ভাইয়া ধুলোগুলো পরিষ্কারও করে না।
হঠাৎ করে অদ্রিজের হাত থেকে ফ্রেমটা নিচে পড়ে খুলে গেলো। অদ্রিজ দেখল, সেখান থেকে একটা হলুদ রঙের ভাজ করে কাগজ বের হয়ে এসেছে। অদ্রিজ কাগজটা হাতে নিয়ে খুলে দেখতে লাগলো।
ভোর ৪.৪৫.. দূর থেকে আজানের শব্দ ভেসে আসছে। অদ্রিজ সারারাত ঘুমায় নি।
নিজের রুমে গিয়ে দেখলো, শেলী সোফায় ঘুমিয়ে আছে। শেলীকে টেনে তুললো। বের হতে হবে। অদ্রিজ আলমারি থেকে কিছু শাড়ি আর গহনা বের করলো। যদিও এগুলো খুব যত্ন নিয়ে স্নিগ্ধার জন্য কেনা হয়েছিলো। কিন্তু দেয়া হয় নি। এখন এগুলো দিয়েই শেলীকে ঢাকায় পাঠাতে হবে।
শেলীকে নিয়ে অদ্রিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে সোজা রেলওয়ে স্টেশন গেলো। অনলাইনে ট্রেনের টিকেটও কিনে রেখেছে রাতে। যেতে যেতে শেলীকে কিছু খাবার প্যাকিং করে দিলো।
-ভাইয়া, আমি বিয়েটা সত্যি করতে চাই না, তোমরা কেনো জোর করে আমায় বিয়ে দিচ্ছো..?
-তোর এখন ঢাকায় থাকাটা জরুরি। বিয়ের কথা পরে দেখা যাবে।
-ভাইয়া, আব্বু আমাকে জোর কিরে বিয়ে দিয়ে দিবে!
-বিয়ে দিলে চুপচাপ ভদ্র মেয়ের মতো বিয়ে করে নিবি।
শেলী চুপ করে রইলো। সে অদ্রিজকে চিনতে পারছে না আজকে। অদ্রিজের মুখে এমন কথা, তার থেকে এমন আচরণ সবই শেলীর কাছে অচেনা।
গাড়ি থেকে নেমে শেলী ঠাঁই হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ও কিছুতেই যাবে না।
অদ্রিজ শেলীর হাত ধরে জোর করে টানতে টানতে ট্রেনে উঠিয়ে দিয়ে আসলো।
শেলী পিছু থেকে আরো একবার অদ্রিজকে ভাইয়া বলে ডেকে উঠলো।
-আমরা না যাওয়া পর্যন্ত তুই কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নিবি না শেলী। খালামণি কিংবা খালু যাই বলুক, তুই আমার জন্য অপেক্ষা করবি।
শেলী আর কিছু জানার আগেই ট্রেন ছেড়ে দিলো। অদ্রিজও আর পিছু ফিরে দেখলো না।
বাসায় ফিরে অদ্রিজ কাকে কি জবাব দিবে সেটাও যেতে যেতে ঠিক করলো। আর কেউ কোনো প্রশ্ন না করলেও লতিফ চাচা ঠিকই প্রশ্ন করবে।
বাড়িতে ঢুকতেই লতিফ চাচার সামনে পড়লো অদ্রিজ।
-চাচা, একটু লং ডাইভে বের হয়েছিলাম।
লতিফ চাচা মুচকি হাসছে।
-আমি সব জানি সাহেব (চাপা হাসি হেসে উত্তর দিলো লতিফ চাচা)
অদ্রিজ ফেল ফেল চোখে বোকার মতো লতিফ চাচার দিকে তাকিয়ে আছে।
– ইয়ে মানে, চাচা…….
-শেলী মাকে মনে কইরা খাবারগুলো দিছিলা তো?
অদ্রিজ চুপ করে আছে। ও ভেবেছিল কেউ কোনো কিছু জানতে পারবে না। কিন্তু লতিফ চাচার কথা শুনে মনে হচ্ছে, সে সব কিছু জেনে চুপ করে আছে।
-ছোট সাহেব, তুমি রুমে গিয়া ফ্রেশ হইয়া লও।কিছুক্ষণ পর সব আইসা পড়বো খাবার টেবিলে।যাও……..। আমি কাউরে কিছু কমু না। তয় শেলী মা খুব ভালো মেয়ে………
লতিফ চাচা কি বুঝাতে চাইলো সেটা আমার বুঝতে সময় লাগলেও এটা ঠিক যে, চাচা ভুল কিছু বলেনি।
(চলবে)
ছবি: রুবেল দাশ ও অন্বেষা পাল দম্পতি

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

Warning: mysqli_query(): (HY000/1021): Disk full (/tmp/#sql_505d_5.MAI); waiting for someone to free some space... (errno: 28 "No space left on device") in /home2/porombangladesh/public_html/wp-includes/wp-db.php on line 2056