শিরোনাম
এস আলম গ্রুপের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পুলিশের গুলিতে শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ গ্যালাক্সি এম০২ হ্যান্ডসেটে ১০০ দিনের রিপ্লেসমেন্ট ওয়্যারেন্টি দিচ্ছে স্যামসাং বাঁশখালীতে গুলি করে শ্রমিক হত্যা; সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট চট্টগ্রামের তীব্র নিন্দা আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্থগিতকরণ প্রভাব ফেলছে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ ও অন্য মেগা প্রকল্পে বাঁশখালীতে এস আলম গ্রুপের কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে শ্রমিক নিহতে খেলাফত মজলিসের নিন্দা বীমা খাতে প্রথম ‘তিন ঘন্টায় কোভিড ক্লেইম ডিসিশন’ সার্ভিস চালু মেটলাইফের মুজিবনগর সরকারের ৪০০ টাকার চাকুরে জিয়ার বিএনপি ইতিহাসকে অস্বীকার করতে চায় ধারাবাহিক ছোট গল্প: পতিতার আলাপচারিতা । পর্ব পাঁচ এস আলম গ্রুপের কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে পুলিশের গুলিতে শ্রমিক হত্যার নিন্দা ও বিচার দাবি সাতকানিয়ায় সোয়া কোটি টাকার ৩৮ হাজার ইয়াবাসহ ট্রাক চালক ও হেলপার গ্রেফতার
রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ০৯:৩২ পূর্বাহ্ন

ধারাবাহিক উপন্যাস: সোনারগাঁ । পর্ব ছয়

সেলিম ইসলাম খান / ৩২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৩ মার্চ, ২০২১

পর দিন ভগীরথ বাবু সুলতানের দরবারে যাওয়ার জন্য রওয়ানা হলেন। মেহমানখানার চারপাশে বিশাল ফুলের বাগান। বাগানে মাথায় গামছা বাঁধা একজন মালি রোজ সকালে ফুলগাছে পানি সিঞ্চন করেন। আর বাগানের গাছগাছালির পরিচর্যা করেন। দূর থেকে ভগীরথ বাবু বেশ কয়েক দিন ধরে তাকে লক্ষ্য করেছেন। একদম নিশ্চুপ কাজ করে সে। গায়ে পুরনো ছেঁড়া পোশাক। হাতে বেশ কিছু সময় আছে। গরীব মালির সাথে পরিচিত হওয়া যাক, এই ভেবে তিনি বাগানের দিকে হাঁটলেন। মনে মনে ভাবলেন, মালিকে কিছু কড়ি বখশিশ দেব, শান্তশিষ্ট মালি বোধহয় বেশ গরিব, কিছু নগদ কড়ি হাতে পেলে খুশি হবে।

মালি গাছের ফাঁকে মাথা ঝুঁকিয়ে মাটিতে নিড়ানি দিচ্ছিল।

ভগীরথ: এই মালি! এ দিকে এসো তো, তোমার সাথে পরিচিত হই। তোমাকে বেশ শান্তশিষ্ট মনে হয়। তোমার কাছে আমার কিছু জিজ্ঞাসা আছে।
মালি মাথা না তুলে জবাব দিল, জি বাবু আসতেছি।

মালির আওয়াজ শুনে ভগীরথ কিছুটা চমকে গেলেন। ততক্ষণে মালি মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। মালির চেহারা দেখে ভগীরথ বাবুতো থ’। আরে! এটা কি করে সম্ভব? স্বয়ং সুলতান বাগানের কাজ করছেন। তাহলে রোজ সকালে তিনিই বাগানের পরিচর্যা করেন! মাথায় গামছা বাঁধা বলে সুলতানকে যে চেনাই যাচ্ছিল না। আর চিনবই বা কিভাবে, সুলতান যে মালির কাজ করবেন তা কে ভাববে?

মালি: বাবু, আপনার কি কিছু লাগবে?
ভগীরথ: মহামান্য সুলতান! আপনি সুলতান হয়ে এই বাগানে মালির কাজ করছেন! আমার বিশ্বাস হচ্ছে না!
মালি: বাবু, আমি এখন রাজ কর্মচারী! সূর্য ওঠার আগ থেকে বেলা ওঠার বেশ কিছুক্ষণ পর পর্যন্ত আমি এখানে কাজ করে যা রোজগার করি, তা দিয়ে বাজার থেকে চাল-ডাল কিনে গিন্নিকে দিয়ে আসি। তারপর সুলতানের দরবার শুরু হলে, আমি দরবারে শরিক হই। বিকেল বেলাও তেমনি কয়েক ঘণ্টা কাজ করি মসজিদের পাশের বাগানে।

মালিরূপী সুলতানের কথা শুনে ভগীরথ বাবু কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে স্থানুবৎ দাঁড়িয়ে রইলেন।
কিছুক্ষণ পর মালি বললেন, বাবু আমার সকালের কাজ শেষ হয়েছে, আপনার কোন কিছু চাওয়ার না থাকলে আমি কি এখন যেতে পারি?

ভগীরথবাবু মনের অজান্তে মাথা উপরে নিচে দোলালেন। মালি কোদাল আর বালতি নিয়ে চলে গেল। ভগীরথ বাবু হাতজোড় করে নমস্কার জানিয়ে তাকে বিদায় জানালেন।

দরবার শুরু হলে ভগীরথ বাবুকে সভাকবির পাশে বসার মর্যাদা দেয়া হল। দরবারের দৈনিক আলোচ্যসূচির মধ্যে ভগীরথ বাবুর কবিতাও অন্তর্ভুক্ত করা হল। সুলতান দরবারের কাজ শেষ করে ভগীরথ বাবুর কবিতা শুনতে আগ্রহী হলেন।
ভগীরথ বাবু সুলতানকে হাতজোড় করে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে কবিতা পাঠ শুরু করলেন।

ভগীরথ: এই সোনাফলা বাংলার সবুজ শ্যামলে আমি নিজেকে হারিয়ে ফেলি,
কি যে অপরূপ রূপ যে তাহার, যেখানে ফুটে আছে শাপলা ও বেলী।
মাঠে মাঠে সোনালী ফসলের ঢেউ আমাকে করেছে উদাস,
কি যে ভাললাগায় বেঁধেছে আমায় এই স্নিগ্ধ নির্মল বাতাস।
নদী-বিলে-ঝিলে কতো রঙের পাখি উড়ছে ডানা মেলি।।
গঞ্জের হাটে মাঝি মাল্লারা করছে খেয়াপারাপার,
জেলেদের জালে মাছধরা পড়ে জেলেনির মুখে হাসির বাহার।
ডাহুক আর ডাহুকিরা দিনমান দীঘিজলে করছে জলকেলী।।
মৌ মৌ ফসলের ঘ্রাণে, খুশি আনে কৃষকের প্রাণে
আমি মুগ্ধ হয়ে হারিয়ে যাই শিশুদের হাসিখেলাগানে।
কলসিকাঁখে ঘোমটানা গৃহিনীর সাথে যেন আমিও জলকে চলি।।
শীতের খেজুর রসের মিষ্টি ঘ্রাণে জিভে জল আসে,
পিঠাপুলির এদেশে মন আমার সুবাসে তৃপ্তিতে হাসে।
বারো মাসে তেরো পাবন জুড়ায় আমার প্রাণ করে সুখ-খেলাখেলি।।
মন আমার ছুটে যায় সুখের সীমানায় এই সুবর্ণগাঁয়ে,
সেথা আছে মহীরুহ ন্যায়ের বাণীবহ প্রণাম করি তার পায়ে।
সুলতান আযম শাহের মহিমার শেষ নাই, আমি অধম কেমনে তা বলি?

ভগীরথের কণ্ঠে স্বরচিত কবিতা পাঠ যেন গীতের সুললিতধ্বনিতে বিভোর করে রেখেছিল পুরো দরবার। তন্ময় হয়ে শুনছিলেন সুলতান আর সভাসদগণ। গানের শেষে সবাই মারহাবা মারহাবা বলে তাকে অভিনন্দন জানালেন।

সুলতান: ভগীরথ বাবু! আপনার সুর সংগীত আমাদের আলোড়িত করেছে। সত্যিই অসাধারণ আপনার অন্তর্দৃষ্টি। তবে কবিতার শেষাংশে ব্যক্তি বিশেষের নাম উল্লেখ না করলেই উত্তম হত। কেননা আমি মনে করি, এই বঙ্গদেশে আমরা কেউ রাজা নই। আবার আমরা সকলেই রাজা। এখানে নামমাত্র সুলতান আছেন। তবে তিনি নিজেকে সুলতান নন, জনগণের খাদেম হিসেবে নিজেকে মনে করেন। এখানে জেলে-নাপিত, কৃষক শ্রমিক আর আমির ফকির সকলেই সমান।
সভাসদগণ সকলে সুলতানের কথার সমর্থনে সঠিক সঠিক বলে ধ্বনি প্রতিধ্বনি করতে লাগলেন।

(চলবে)

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ