ঢাকাশুক্রবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ধারাবাহিক উপন্যাস: সোনারগাঁ । পর্ব: পাঁচ

সেলিম ইসলাম খান
মার্চ ৬, ২০২১ ১:১৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

গাছগাছালির ছায়াঘেরা আর পাখপাখালির কলগানে মুখরিত সুজলা সুফলা বাংলার রূপ ভগীরথদের বেশ মুগ্ধ করেছে। তারা সুলতানের অনুমতি নিয়ে সোনারগাঁ থেকে বেরিয়ে গ্রামবাংলার শোভা দেখতে বেরিয়েছেন।

ভগীরথ: প্রিয় ভাই দশরথ! এই সবুজ শ্যামল বাংলার মন উদাসকরা প্রকৃতি তোমার কেমন লাগছে?
দশরথ: ভাইজান এর কোন তুলনা হয় না। আমরা অযোধ্যায় যে সব সমস্যা মোকাবেলা করে এসেছি, এখানে সে ধরনের কোন সমস্যা কল্পনাই করা যায় না। এখানকার মানুষ কত সহজ সরল আর অতিথিপারয়ণ। নিজের ভালর চেয়ে তারা অন্যের ভালটা আগে দেখে। এখানে না এলে আমি কখনো ভাবতেই পারতাম না, এমন মহৎহৃদয়ের মানুষও জগতে আছে। অথচ দেখ, আমাদের প্রতিবেশী রাজ্যগুলোতে কেবল হিংসা-হানাহনি, ঝগড়া-বিবাদ আর মারামারি। তারা সামান্য কারণে আপনজনদের খুন করতেও পিছপা হয় না।
ভগীরথ একটি দীর্ঘশ্বাস টেনে বললেন, এসবই ক্ষুধার কারণে দশরথ। অভাব মানুষের স্বভাব নষ্ট করে দেয়। দু’বেলা দু’মুঠো অন্নের সংস্থান করতে তারা কতটা মরিয়া, সে মাঠে-ময়দানে বের না হলে তুমি বুঝবে না দশরথ।
দশরথ:জনগণের মাঝে অভাব আছে বুঝলাম। কিন্তু রাজপ্রাসাদে কিসের অভাব ভাইজান। সেখানেতো কোন সমস্যা থাকার কথা নয়, তবুও দেখ, প্রতিটি রাজ্যের প্রাসাদ জুড়ে কেবল হিংসা আর লোভের ছড়াছড়ি। এটা অভাব নয়, স্বভাব দোষ ভাইজান।
ভগীরথ: তুমি ঠিকই বলেছ ভাই! সুশিক্ষার অভাবও এর অন্যতম কারণ। এখানকার মানুষ দেখ, কি সুন্দর মানবিক আচরণ শিখেছে। যে আচরণ আমি কেবল দিল্লীর বাদশাহর প্রাসাদে দেখেছি সে মহান আচরণ আমি এখানেও পেয়েছি। এরা এদেশেরই মানুষ। অথচ কি এক সোনার কাঠির ছোঁয়ায় রাতারাতি এরা পরিবর্তন হয়ে গেল আমি কিছুতেই ভেবে পাই না।
দশরথ: ভাইজান, তোমার বন্ধু বতুতাও কিন্তু অসম্ভব ভাল মনের মানুষ। তিনি লেখালেখির বাইরে আমাদের রাজ্যগুলো ভ্রমণ করে নিরন্ন মানুষদের অকুণ্ঠচিত্তে অর্থ সাহায্য দান করেছেন।
ভগীরথ: বতুতা আরবের মক্কায় বহুকাল অবস্থান করে মদিনার নবীর ধর্ম বিষয়ে বেশ জ্ঞান অর্জন করেছে। আমি তার কাছে তাদের ধর্মগ্রন্থ কোরআন শুনেছি। আমার কাছে সেটা কখনো কবিতা আবার কখনো সুন্দর সুরমালায় রচিত গীত বলে মনে হয়েছে। কিন্তু তার কথাগুলো আমার হৃদয় স্পর্শ করেছে।
দশরথ: তারা ওটাকে তাদের খোদার বাণী বলে দাবি করে ভাইজান।
ভগীরথঃ হয়তো এই বইই তাদের পাল্টে দিয়েছে। তাদের মধ্যে নশ্বর দুনিয়ার চাকচিক্য থেকে পরকালের নেয়ামতকে উত্তম বলে মনে হয়েছে।
দশরথ: কিন্তু তারাতো একালেও বেশ বিত্তশালী ভাইজান।
ভগীরথ: চল ভাই! আরে আমার কালিদাস কোথায় যাচ্ছে?
কালিদাস: দেখ বাবা! গাছের মাথায় মাটির ঘড়া বেঁধে দিচ্ছে লোকটা। ঐ ঘড়া দিয়ে কি করবে সে?
ভগীরথ: ঐ ঘড়াতে খেজুর রস জমা হবে বাবা! সে রস দিয়ে তারা পিঠাপুলি বানাবে। তুমি খাবে পিঠা, পিঠা কিন্তু বেশ মজার হয়।
কালিদাস: মজার হয়! তাহলে আমি অনেক পিঠা খাব বাবা।
দশরথ: ঠিক আছে বাবা! নায়েবকে বলে তোমার জন্য অনেক পিঠা আর-খেজুর রস আনাব। সন্ধ্যে হয়ে আসছে। এখন চলতো শাহী মহলে ফিরে যাই।

(চলবে)

Facebook Comments Box