ঢাকাবৃহস্পতিবার, ৮ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ধারাবাহিক উপন্যাস: সোনারগাঁ । পর্ব: চার

সেলিম ইসলাম খান
ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২১ ২:২৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

দিল্লীর বাদশাহ ফিরোজ শাহ তুঘলক তাঁর চিঠিতে ভগীরথকে তার প্রিয় বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাই সুলতান গিয়াস উদ্দিন আযম শাহও তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করলেন। পর দিন সুলতানের দরবারে ভগীরথকে বিশেষ মেহমান হিসেবে সুলতান তাঁর সভাসদদের কাছে পরিচয় করিয়ে দিলেন।

সুলতান: সম্মানিত সভাসদগণ! ভগীরথ বাবু আমার প্রিয় বন্ধু দিল্লীর বাদশাহ ফিরোজ শাহ তুঘলকের বন্ধু। সুতরাং তিনি আমারও বন্ধু। আমি তাকে আলিঙ্গন করে বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করতে চাই।

সুলতান ভগীরথকে আলিঙ্গন করে নিজের পাশে বসালেন।

ভগীরথ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে দিল্লীর বাদশাহর সালাম দরবারের সকলকে পৌঁছে দিলেন।

ভগীরথ: মহামান্য বাদশাহ ফিরোজ শাহ তুঘলক, সব সময় বঙ্গদেশের প্রশংসা করতেন। এখানকার মানুষদের সরলতা আর অতিথিপরায়ণতার পরিচয় পেয়ে তিনি এতটাই মুগ্ধ যে, তিনিও বঙ্গদেশ সফরের আশা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু শাহী কার্য সমাধা করে ফুরসৎ মেলানো তাঁর জন্য বেশ কঠিন। তবে তিনি সব সময় বঙ্গদেশের প্রতি আন্তরিক টান অনুভব করেন।
সুলতান: মহান বাদশাহকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে আমি একটি চিঠি লিখে দূতের মাধ্যমে দিল্লী পাঠাতে চাই। নায়েব সাহেব, আপনি আজই তার ব্যবস্থা করুন। সেই সঙ্গে আমাদের ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প আর নারকেলের চিঁড়া-নাড়ু থাকা চাই। মূল্যবান উপঢৌকনসহ কালকের মধ্যে দূত যেন রওয়ানা হয়।
ভগীরথ: মহান সুলতান! আপনার অনুমতি পেলে আপনার দূতের মাধ্যমে আমিও একটি চিঠি বন্ধু দিল্লীশ্বরকে পাঠাতে চাই। সেই সাথে সেখানকার এক কর্মকর্তা আমার প্রিয় বন্ধু ইবনে বতুতাকেও একটি চিঠি পাঠাতে চাই।
সুলতান: দিল্লীর সুলতান আপনার এক গোপন প্রতিভার কথা চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, যা আপনি আমার কাছ থেকে গোপন করেছেন। আপনি যে, ভাল কবিতা লিখেন এবং তা সুর করে বলতে পারেন, তা আপনি কখনো উল্লেখ করেন নি। আমি আপনার স্বরচিত কবিতা শুনতে চাই-ভগীরথ বাবু ।
ভগীরথ: এ আর এমন কি লিখি। যখন মন উদাস হয় তখন দু’চার লাইন কবিতা সকলেই লিখতে পারে।
সুলতান: না ভগীরথবাবু! আপনার লেখা সাধারণ কিছু হলে দিল্লীর বাদশাহ নিশ্চয়ই তা উল্লেখ করতেন না। আমি চাই, কালই দরবারে আপনি একটি স্বরচিত কবিতা আমাকে শোনান।
ভগীরথ: নিশ্চয়ই শোনাব মহান সুলতান। আজই আপনার সম্মানে আমি একটি কবিতা লিখব। আশা করি, কাল সেটি আপনার বেশ পছন্দ হবে।
সুলতান: আর আপনার আরেক জন বন্ধু, কি যেন নাম বললেন, যাকে আপনি চিঠি পাঠাতে চান?
ভগীরথ: ইবনে বতুতা তাঁর নাম। তিনি সুদূর মরক্কো থেকে এসেছেন। দরবেশ ধরনের মানুষ। দেশ-বিদেশে বেড়ানো আর তার বৃত্তান্ত লিখে রাখা তার শখ। তিনি পদব্রজে দেশে বিদেশে ঘুরে বেড়ান। কিন্তু দিল্লীর সুলতানের আতিথ্যগ্রহণ করে তিনি বেশ বিপাকে পড়েছেন।
সুলতান: বিপাক! বিপাক কেন ভগীরথবাবু?
ভগীরথ: না তেমন কোন সমস্যা নয়। এটা একটা মধুর সমস্যা। মহান বাদশাহ ফিরোজশাহ তুঘলক তাকে বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করে ফেলেছেন, তাই বতুতা সাহেব না পারছেন ছেড়ে যেতে, না পারছেন মনের ধাবমান পাগলা ঘোড়াকে আঁটকে রাখতে।

ভগীরথের কথা শুনে সুলতান হেসে উঠলেন, বাদশাহ সত্যিই বলেছেন। আপনি আসলেই বেশ মজার মানুষ। বেশ রসিয়ে কথা বলতে পারেন। আমিও কিন্তু বাদশাহর মত খেয়ালী। তিনি ইবনে বতুতাকে দিল্লীতে আটকে রেখেছেন, আর আমি আটকাব আপনাকে সোনারগাঁয়ে। বলুনতো কেমন মজা হবে?

ভগীরথ: হে মহান সুলতান! আপনার আন্তরিকতা আমাকে মুগ্ধ করেছে ।আপনি চিরজীবী হোন।

(চলবে)

Facebook Comments Box