শিরোনাম
দুঃস্থ নারীদের নগদ টাকা উপহার দিল হিউম্যান সাপোর্ট ফাউন্ডেশন খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় বায়েজিদ থানা ছাত্রদলের মিলাদ ও ইফতার বিতরণ স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা হেলাল উদ্দিনের অর্থায়নে ফ্রি সবজি বাজার আন্দরকিল্লায় রমজানে ডায়াবেটিস রোগীর সমস্যা, সমাধানে করণীয় ও হোমিওপ্রতিবিধান ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন চট্টগ্রামে আজ মাহে রমজানের শেষ জুমা; জেনে নিন জুমাতুল বিদার মহত্ত্ব আলোচিত ‘নয়া দামান’ গানের মূল শিল্পী তোসিবা বেগম উপেক্ষিত নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভারত থেকে প্রবেশ বাড়ছে আখাউড়া স্থল বন্দর দিয়ে বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা কেন করবেন? সরকারিভাবে অন্তত ৯০০ টন অক্সিজেন মজুত আছে
শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ০৭:৫০ পূর্বাহ্ন

ধারাবাহিক উপন্যাস: সোনারগাঁ । পর্ব তিন

সেলিম ইসলাম খান / ৭৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

তখন ছিল পড়ন্ত দুপুর। বাংলার সুলতান গিয়াস উদ্দিন আযম শাহ তার সিংহাসনের আরাম তাকিয়ায় হেলান দিয়ে তসবিহ জপছিলেন। এমন সময় দ্বার রক্ষীরা ভিনদেশী অতিথিদের নিয়ে এলো। সুলতানের নিকটবর্তী আরাম কেদারায় অতিথিদের বসানো হলো।

সুলতান: সুবর্ণগ্রামে আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। আপনাদের দেখে মনে হচ্ছে, আপনারা বাংলার অধিবাসী নন। পোশাকে আশাকে দিল্লীর বাসিন্দা বলে মনে হচ্ছে। যা হোক, আশা করি পথে আপনাদের কোন বিড়ম্বনা পোহাতে হয়নি।
ভগীরথ: মহামান্য সুলতানকে তসলিম জানাচ্ছি। আমি এসেছি দিল্লীর শাহানশাহ ফিরোজ শাহ তুঘলকের পত্র বাহক হিসেবে। আমি উনার অধীনস্থ অযোধ্যার সামান্য একজন জন সেবক মাত্র। অযোধ্যার বাইশওয়ার পরগনায় এক ক্ষয়িত্র রাজা ভগীরথ আমি। এ হচ্ছে আমার ছোট ভাই দশরথ, আর গীতা আমার সহধর্মীনি, লক্ষী দশরথের। আর এ হচ্ছে আমার ছেলে কালিদাস।

ভগীরথের মুখে বৃত্তান্ত শুনে সুলতান আর বসে থাকতে পারলেন না। তিনি তড়িৎ উঠে গিয়ে ভগীরথের সামনে দাঁড়ালেন। ভগীরথ দাঁড়ালে সুলতান তাকে আলিঙ্গন করলেন। আলিঙ্গন করলেন দশরথের সাথেও। তারপর ছোট্ট কালিদাসের মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করলেন। গীতারানী আর লক্ষীরানীকেও সালাম জানালেন।

সুলতান: আমি বেশ আনন্দিত হয়েছি যে, আমার বন্ধু আমাকে ভুলে যায় নি। তিনি আপনার মাধ্যমে আমার কাছে বার্তা পাঠিয়ে ঠিকই বন্ধুত্বের সম্পর্ক নবায়ন করলেন।
ভগীরথ: মহান সুলতান! আমি সব সময় উনার মুখে আপনার সুনাম শুনতাম। মনের মধ্যে এই দেশ সফরের বাসনাও পোষণ করতাম। তিনি আমাকে বন্ধুর চোখে দেখেন বলে আমাকে সবকিছু মন খুলে বলেন। তিনি আঁচ করতে পেরেছিলেন, আমি বঙ্গদেশ সফরে আগ্রহী। তাই তিনি পথ খরচ আর নানা উপঢৌকন দিয়ে আপনার কাছে আমাকে পাঠিয়েছেন।
সুলতান: উনার পাঠানো উপঢৌকন আমি ইতিমধ্যে দেখেছি। উনার পছন্দের তারিফ না করে পারি না। উনি জানতেন আমি কাশ্মিরী শাল আর তুর্কী বাজুবন্দ ও ঢাল-তলোয়ার পন্দ করি। আপনার মাধ্যমে উনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই আমি। সেই সাথে আমার দূতের মাধ্যমে উপহার প্রত্যার্পণ করতে চাই।
ভগীরথ: মহান সুলতান! আমি বঙ্গদেশের সম্পদ ও সমৃদ্ধির কথা শুনে বেশ আকৃষ্ট হয়েছি। বিশেষ করে এখানকার বাণিজ্যপসরার সুনাম জগৎজোড়া। আপনার অনুমতি পেলে আমি কিছু দিন সুবর্ণগ্রাম অবস্থান করে বঙ্গদেশের প্রাচুর্য নিজ চোখে অবলোকন করতে চাই। সে জন্য পরিবার পরিজন নিয়ে এদেশে এসেছি।
সুলতান: বেশতো! আপনি এখানে যত দিন ইচ্ছা আমার মেহমান হয়ে থাকবেন। যখন যা লাগবে আমার নায়েবদের কাছে বলতে দ্বিধা করবেন না। তাদের প্রতি আমার সব সময় নির্দেশ তাকে, শাহী অতিথিদের প্রয়োজন পূরণকে সর্বাগ্রে অধিকার দেয়ার।
ভগীরথ: মহান সুলতান! আমরা জাতে স্বর্ণকার হলেও আমরা অনার্য। অযোধ্যায় আমরা বংশ পরম্পরায় রাজ সিংহাসনের অধিকারী। সততা ও ন্যায়প্রতিষ্ঠা আমাদের পারিবারিক শিক্ষার আওতায় পড়ে। তাই ভারতের অন্যান্য রাজারা যখন পরস্পর দ্বন্ধে লিপ্ত তখন আমি শাহানশাহের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করে সামাজিক উন্নয়নের চেষ্টা করে আসছি।
সুলতান: আপনার এই আত্মত্যাগ আপনার জাতিকে উন্নতির সোনালী সোপানে পৌঁছে দেবে।আমরা দায়িত্বশীলরা যদি সততা ও ন্যায়বিচারের মাধ্যমে রাষ্ট্র গঠন করতে পারি, তবে প্রজাসাধারণের কোন দু:খকষ্ট থাকবে না। এটাই আমাদের একমাত্র চাওয়া হওয়া উচিত।
ভগীরথ: মহান সুলতান! আপনি মহামান্য শাহানশাহের কথারই প্রতিধ্বনি করলেন। তিনিও সব সময় এমন কথাই বলতে অভ্যস্থ। কাজেও তিনি তার প্রমাণ রেখেছেন। আমি কখনো তাকে বিশ্রাম নিতে দেখি না। তিনি সর্বদা ভারতের উন্নয়নে তার চিন্তা ও সময়কে কাজে লাগান। নতুন নতুন সৃষ্টির চিন্তায় সব সময় মশগুল থাকেন।

মহলের আয়া আর খানসামারা বিকেলের নাশতা নিয়ে এলে সুলতান সবাইকে নাশতা গ্রহণের আহ্বান জানালেন।

(চলবে)

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ