বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২২, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন

ধারাবাহিক উপন্যাস: সোনারগাঁ । পর্ব দুই

সেলিম ইসলাম খান
  • প্রকাশ : সোমবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ১৯৯ Time View

কয়েক দিন পর সুবর্ণগ্রাম বন্দরে ভিড়ল একটি বজরা নৌকা। মাঝিরা ভিনদেশীদের নিয়ে সুবর্ণগ্রামের পথঘাট দেখিয়ে দিচ্ছিল। অভ্যাগতরা বেশ বনেদী হলেও এই ভাটির দেশে তারা বেশ আনকোরা। ভোলা আর মতি সে সুযোগ নিয়ে তাদের উপর পান্ডিত্য জাহির করছিল। বন্দর, বাজার, সুলতানী মহল সব কিছু ঘুরে ঘুরে দেখাচ্ছিল তারা। দুপুর নাগাদ ভগিরথ তাদের ভাল বখশিশ দিয়ে বললেন, তোমাদের অনেক ধন্যবাদ। তোমরা এবার আসতে পার, আমরা সুলতানের মহলে যাব। তাঁর সাথে আমার কাজ রয়েছে।

ভগীরথের কথা শুনে ভোলা আর মতির মুখহা হয়ে গেল, এই ভিনদেশী বলে কি? সুলতানের মহলে তাদের আবার কি কাজ থাকতে পারে?
মাঝিদের অবস্থা দেখে ভগীরথ বললেন, কেন তোমরা অবাক হচ্ছ কেন? তোমরা কি কখনো সুলতানের মহলে প্রবেশ করনি?

ভোলা: করেছি, করেছি। আমরাও বেশ কয় বার প্রবেশ করেছি। একবার বিক্রমপুরের রাজার লোকেরা আমাদের বজরা লুট করলে সুলতান তার সুরাহা করেছিলেন। বেশ দয়ালু মনের মানুষ তিনি। কিন্তু আমি ভাবছি, আপনাদের কি কাজ থাকতে পারে তার সাথে? আমরা কি কিছু কসুর করেছি যে, আপনি সেখানে আমাদের বিরুদ্ধে নালিশ জানাতে যাচ্ছেন।
ভগীরথ: না না ভোলা! ব্যাপার তেমন নয়।তোমরাতো আমাদের বেশ ভাল দেখভাল করেছ। আমার বন্ধু ফিরোজ সুলতানের কাছে একটা চিঠি পাঠিয়েনে। আমি সেটা তাকে দিতে যাব। আর কিছু না।
এতক্ষণে ভোলা আর মতির চেহারা ধেকে দুর্ভাবনার ছায়া কেটে গেল। তা দেখে ভগীরথ বললেন, কেন তোমরা কি সুলতানকে বেশ ভয় পাও নাকি?
ভোলা: না দাদা মশায়! ভয় পাব কেন? তিনিতো দয়ালু মানুষ। তবে কসুর কিছু হয়ে গেলে তিনি বিচার করেন।
ভগিরথ: না না ভোলা! তোমরা তেমনটি ভেব না! আমি সুলতানের কাছে তোমাদের নামে কোন নালিশ দেব না। বরং আমাদের সমাদর করার জন্য তোমাদের বেশ সুনাম করব। কি এবার খুশি তো?

ভোলা আর মতি হেসে মাথা দুলিয়ে নমস্কার জানিয়ে বিদায় নিল।

ভগীরথরা যখন সুলতানের মহলে প্রবেশ করেছেন, তখন সুলতান মধ্যাহ্নের আহারে ব্যস্ত ছিলেন। দ্বারক্ষীরা ভগীরথদের মেহমানখানায় নিয়ে গেলেন। তাদের সামনে দুপুরের খাবার দিয়ে গেলেন মহলের আয়া আর খানসামারা। খাবারের থালায় বেশ কয়েক পদের মাছ ও মাংসের সাথে নানা জাতের সবজির তরকারি। সেই সাথে বরইয়ের আচার, দই আর ফলের শরবত। দীর্ঘ পথ ভ্রমণে ক্লান্ত অতিথিরা তৃপ্তিভরে খাবার গ্রহণ করলেন।

মেহমানখানার নায়েব এসে আর কিছু লাগবে কিনা জানতে চাইলেন। ভগীরথ বললেন, এত কিছু দিয়ে আপ্যায়ন করার পর আর কিইবা বাকি থাকতে পারে। ধন্যবাদ! আপনাদের অতিথিপরায়ণতা আমাদের মুগ্ধ করেছে। এই সুস্বাদু খাবার আমাদের দীর্ঘ পথশ্রম মুছে দিয়েছে। আমরা মহান সুলতানের বদান্যতার কথা অনেক শুনেছি। আজ নিজ চোখে দেখে বেশ ভাল লাগল।

ভগীরথরা দুপুরের খাবার সেরে শাহী বাগানে ঘুরছিলেন, বাগানের নানা রঙ ও বাহারের গাছগাছালি দেখে তারা বেশ অভিভূত হলেন।মহলের শান শওকত যেমন তাদের মুগ্ধ করেছে, তেমনি এই শাহী বাগানও তাদের হৃদয় জয় করেছে। এমন সময় তাদের সামনে আসলেন শাহীরক্ষী। তিনি বললেন, মহামান্য সুলতান আপনাদের অপেক্ষায় দরবারে বসে আছেন। আপনারা ভাল মনে করলে সুলতানের সাথে সাক্ষাৎ করতে পারেন।

(চলবে….)

Share This Post

আরও পড়ুন