ঢাকাশুক্রবার, ৯ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ধারাবাহিক উপন্যাস: আলোর পথে রাজা চেরুমন

সেলিম ইসলাম খান
নভেম্বর ৯, ২০২০ ৭:৫৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

পর্ব: ২

বসন্ত যখন প্রকৃতিকে নতুন সাজে সাজিয়ে তোলার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তখন চেরাজেম ও পারুর সংসারেও নতুন অতিথি আসার সুখবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। পারুকে যখন বেশ যত্নআত্তি করা দরকার তখন হঠাৎ রাজ্যময় বিদ্রোহ দানা বেঁধে উঠল। চেরাজেম সর্বক্ষণ সে বিদ্রোহ দমনে ব্যস্ত থাকেন। পারুর খোঁজখবর নেয়ার কোন সুযোগই তার নেই। এ দিকে পারুর মায়ের মৃত্যুর কারণে সে রাজমহলে বেশ একাকী জীবন যাপন করছিল। রাজ্যে বিদ্রোহ বেশ দানাবেঁধে উঠেছে। এ অবস্থায় চেরাজেম অধিক নিরাপত্তার কথা ভেবে পারুকে মিথিলা পাঠিয়ে দেবার ব্যবস্থা গ্রহণ করলেন। চেরাজেম যখন বামুনদের মোকাবেলা করছিলেন তখন মিথিলায় পারুর কোল জুড়ে চাঁদের মত ফুটফুটে এক পুত্র সন্তান জন্মলাভ করল। পারু তার বাবা ও নিজের নাম মিশিয়ে ছেলের নাম দিলেন চেরুমন পেরুমল।

তখন মালাবারের রাজা জান্দারের শত্রুরাও তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহের প্রস্তুতি শুরু করেছে। বামুনরা দলবদ্ধ হয়ে রাজা জান্দারকে অপসারণ করার জন্য নানা কলাকৌশল অবলম্বন করেছে। তারা রাজার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে, রাজা নিম্নবর্ণের লোকদের বেশি সুবিধা দিচ্ছেন বলে। এতে করে বামুনদের তিনি অপমান ও অপদস্ত করছেন।

বামুনরা আন্দোলন এতই জোরালো ছিল যে, বাহির দেশ থেকেও দলে দলে বামুন এসে কোদনগুল্লুতে সমাবেশ শুরু করে দিল। আন্দোলনের মুখে রাজা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। কিন্তু তার কোন উত্তরসুরী না থাকায় তিনি বীরুকে রাজসিংহাসনে বসিয়ে দেন। এতে বামুনদের আন্দোলন কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়ে। কারণ বীরু ছিলেন ব্রাহ্মণদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা চান্দারুর বন্ধুশ্রেণীয়। রাজার পদত্যাগ ও সকল দাবি পূরণ হওয়ার ফলে বাহ্মণরা সবাই দলে দলে যে যার রাজ্যে ফিরে গেল।

বীরু রাজা হওয়ার পর সদ্য বিদায়ী রাজা জান্দারকে তার প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেন। আর চেরাজেমকে প্রধান আমাত্য হিসেবে নিয়োগ দেন। কিন্তু বছর না ঘুরতেই রাজা বীরু বসন্ত রোগে মারা যান। পারু ভিন্ন তার অন্য সন্তান না থাকায় আমাত্যগণ চেরাজেমকে রাজা হওয়ার অনুরোধ করেন। আনুষ্ঠানিকভাবে চেরাজেম মালাবারের রাজসিংহাসনে আরোহন করেন। তিনি চেরা রাজ বংশের সূচনা করেন।

চেরাজেম রাজা হওয়ায় বামুনরা আরো সুযোগ সুবিধা পেতে লাগল। কারণ সেরাজেম বামুনদের প্রধান বর্ণের বংশধারী বামুন। কিন্তু চেরাজেম বামুনদের অতিরিক্ত সুবিধাগ্রহণ জানতে পেরে সকল সুবিধা রদ করে দেন। বামুন সর্দারগণ রাজপ্রাসাদের সামনে এসে রাজা চেরাজেমের কাছে সুবিধা কেড়ে নেওয়ার কারণ জানতে চান।চেরাজেম এক আদেশ বলে বামুনদের রাজধানী ছেড়ে যেতে আহ্বান জানান। কিন্তু বামুনরা কোন কথায় কর্ণপাত না করে সংঘবদ্ধ হয়ে রাতের আঁধারে রাজবাড়িতে হামলা চালান। ফলে সেনাদের হাতে বহুসংখ্যক বামুনের মৃত্যু ঘটে। এর ফলে রাজ্যময় আবারো বামুন বিদ্রোহ দানা বেঁধে উঠল।

(চলবে)

Facebook Comments Box