ঢাকাবৃহস্পতিবার, ৮ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দেশে প্রথম বারের মত জিন থেরাপি প্রয়োগ

ঢাকা
অক্টোবর ২৭, ২০২২ ৭:০৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ঢাকা: বাংলাদেশে প্রথম বারের মত দূরারোগ্য স্নায়ুরোগ স্পাইনাল মাস্কুলার এট্রফি (এসএমএ) রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হল জিন থেরাপি। এ জন্মগত রোগের চিকিৎসায় বাংলাদেশে প্রথম কোন শিশুকে জিন থেরাপি প্রয়োগের মাধ্যমে চিকিৎসা বিজ্ঞানের নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরসাইয়েন্সেস ও হাসপাতাল। নিরাময়যোগ্য এবং ইউএসএফডিএ (ইউনাইটেড স্টেট্স ফুড এন্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) অনুমোদিত এ জিন থেরাপি প্রতি ডোজের দাম প্রায় ২২ কোটি টাকা; যা বিনামূল্যে দিয়েছে বহুজাতিক ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান নোভার্টিস।

স্পাইনাল মাসকুলার এট্রফি একটি বিরল ও জটিল স্নায়ুতন্ত্রের জন্মগত রোগ; যা জিনগত ত্রুটির কারণে হয়ে থাকে। এ রোগে আক্রান্ত শিশুদের মাংসপেশী ক্রমাগত দূর্বল হতে থাকে। যার ফলে এসব শিশুরা বসতে বা দাঁড়াতে পারে না। তবে তাদের বুদ্ধিমত্তা ঠিক থাকে। পরবর্তী শ্বাসতন্ত্রের জটিলতার কারণে আক্রান্ত শিশুরা মৃত্যুবরণ করে। পূর্বে এ রোগটির চিকিৎসা না থাকার কারণে প্রতি বছর বিশ্বে অসংখ্য শিশু মারা যায়। এ রোগে সাধারণত শিশুদের স্পাইনাল কর্ডের স্নায়ুকোষ নষ্ট হয়ে যায়। যে সব স্নায়ুকোষ মাংসপেশী নিয়ন্ত্রণ করে, সেই স্নায়ুকোষগুলো নষ্ট হওয়ার কারণে মাংসপেশী দুর্বল হতে থাকে। বাংলাদেশে অধিকাংশ মানুষ এ রোগ সম্পর্কে অবগত নয়। এ রোগে নবজাতকরা প্রচণ্ড দুর্বল হয়ে পড়ে ও ক্রমান্বয়ে তারা কনজেনিটাল হার্ট ডিজিসে ভোগে।

তবে আশার ব্যাপার এ যে, বাংলাদেশে প্রথম বারের মত নোভার্টিসের ম্যানেজড অ্যাক্সেস প্রোগ্রামের আওতায় ও ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরসাইয়েন্সেস ও হাসপাতালের সহায়তায় এ দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসা প্রয়োগ করা সম্ভব হয়েছে।

গ্লোবাল ম্যানেজড অ্যাক্সেস প্রোগ্রাম (জিম্যাপ) এসব রোগীদের চিকিৎসায় একটি সম্ভাব্য সুযোগ দেয়ার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এর আওতায় যেসব রোগী প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পূরণ করে, তাদেরকেই বাছাই করা হয়। এরপর প্রযোজ্য স্থানীয় আইন ও প্রবিধান অনুসারে চিকিৎসা সম্পন্ন করা হয়।

এ জিম্যাপ প্রোগ্রামের আওতায় ইতিমধ্যে বাংলাদেশের একটি শিশু এ চিকিৎসার জন্য নির্বাচিত হয়েছে। যেহেতু ওষুধটি সব রোগীর জিন গত বৈশিষ্ট্য এবং আরো নানা রকম শারীরিক বিষয় যাচাই বাছাই করে প্রস্তুত করা হয়, যা অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া; তাই এর চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এ জিন থেরাপির চিকিৎসা ব্যয় সাধারণ মানুষের পক্ষে মেটানো এক প্রকার অসম্ভব।

কেবল মাত্র একটি শিশুই নয়, নোভার্টিসের এ মানবিক উদ্যোগের আওতায় ভবিষ্যতে বিনামূল্যে বাংলাদেশে এসএমএ আক্রান্ত আরো শিশুর চিকিৎসার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এখন পর্যন্ত গোটা বিশ্বে ২৩০০ জন রোগীকে এ ওষুধটি প্রয়োগ করা হয়েছে। শুধুমাত্র রোগীর চিকিৎসাই নয়, বরং যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ দেশের চিৎসকরাই যেন এ জিন থেরাপি তাদের রোগীর জন্য ব্যবহার করতে পারেন, নোভার্টিস সেটাও নিশ্চিত করে।

Facebook Comments Box