বৃহস্পতিবার, ০৬ মে ২০২১, ১১:০৬ অপরাহ্ন

দেশের আগামীর আইসিটি খাতে সম্ভাবনার সঞ্চারণে হাত মেলালো হুয়াওয়ে ও বুয়েট

পরম বাংলাদেশ ডেস্ক / ৯২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

ঢাকা: আগামী দুই বছরে বিশ্ব আইসিটি ক্ষেত্রে সাত লাখেরও বেশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। আর দশ বছরের মধ্যে এ খাতের ব্যাপক সম্প্রসারণের ফলে প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় সাত কোটি পেশাদার আইসিটি কর্মীর ঘাটতি হবার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের তরুণ আইসিটি শিক্ষার্থীরা যাতে বিশ্ব পেশাবাজারে নিজেদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জায়গা করে নিতে পারে, সেই লক্ষ্যে বাংলাদেশের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে এক হয়ে বিশেষ আইসিটি একাডেমি পরিচালনা করতে চায় হুয়াওয়ে।

সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) প্রথম আইসিটি একাডেমি স্থাপন করতে যাচ্ছে হুয়াওয়ে ও বুয়েট। সম্প্রতি এ উদ্দেশ্যে দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বুয়েট কাউন্সিল ভবনে অনুষ্ঠিত এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে হুয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের এন্টারপ্রাইজ বিজনেস গ্রুপের ভাইস প্রেসিডেন্ট লিনঝিজুন এবং বুয়েটের উপাচার্য ডক্টর সত্য প্রসাদ মজুমদার নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এমওইউতে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। এছাড়া অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়েছিলেন হুয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের সিওও তাও গুয়াংইয়াও।

চলতি বছরের এপ্রিলের মধ্যে বুয়েট একাডেমিক ভবনে তৈরি হবে এ বিশেষ ট্রেনিং সেন্টার, যেখানে কারিগরি প্রযুক্তি ও যন্ত্রাংশ নিশ্চিত করা হবে। সাথে থাকবে কানেক্টিভিটি যার মাধ্যমে সারা বিশ্বের ১ হাজার ২০০ এরও বেশি প্রশিক্ষকদের সাথে যোগাযোগ করার সুযোগ পাবেন বুয়েটের শিক্ষার্থীগণ। ১৯টি ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ের ওপর ৮৩টি সার্টিফিকেশন প্রোগ্রাম থাকবে এখানে। আর এ কোর্স এবং সার্টিফিকেশন সমন্বয় করবে হুয়াওয়ে অথরাইজড ইনফরমেশন এণ্ড নেটওয়ার্ক একাডেমি (এইচএআইএনএ) যা মুলত: এ হুয়াওয়ে-বুয়েট আইসিটি একাডেমি ।

এ আইসিটি একাডেমি থেকে শিক্ষার্থীরা তাদের কৃতিত্বের ওপর ভিত্তি করে তিন ধরণের গ্রেড যেমন-অ্যাসোসিয়েট, প্রফেশনাল ও এক্সপার্ট; সার্টিফিকেট পাবেন। এ প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীরা চাকরির বাজারের জন্য নিজেদের উপযুক্ত করে তৈরি করতে পারবেন এবং সবশেষে তাদের জন্য জব ফেয়ারেরও আয়োজন করা হবে।

অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘যে কোন দেশের অগ্রগতির জন্য শিক্ষা, বিশেষত: আইসিটি শিক্ষার গুরুত্ব অনেক বেশি। বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা বেশ অনেক দিন থেকেই বিশ্বে আমাদের নাম উজ্জ্বল করে চলেছে। কিন্তু এখনও অনেক দূর যেতে হবে আমাদের। এ যাত্রাকে ত্বরান্বিত করতে হুয়াওয়ে এবং বুয়েট যে পদক্ষেপ নিতে চলেছে, তা অনেক আশাব্যাঞ্জক। আমাদের সামনে যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন রয়েছে, তা পূরণ করতে বুয়েটের মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী দিনগুলোতে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ মানব সম্পদের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। আর আমার খুব ভাল লাগবে, যখন আমাদের ছেলেমেয়েরা শুধু আমাদের দেশের জন্য নয় বরং সারা পৃথিবীর উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।’

বুয়েটের উপাচার্য ডক্টর সত্য প্রসাদ মজুমদার বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী হুয়াওয়ে একটি বিশ্বস্ত নাম। তাই, আইসিটি একাডেমি তৈরির উদ্যোগ এবং এর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এই প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত হতে পেরে আমরা আনন্দিত। ইতিপূর্বে আমরা জিএসএম ল্যাব প্রতিষ্ঠাকালে হুয়াওয়ের কাছ থেকে যে আন্তরিক সহযোগিতা পেয়েছিলাম, তা আমাদের ছাত্রছাত্রীদের সুশিক্ষার জন্য বেশ ফলপ্রসু ভূমিকা পালন করেছিল। আসন্ন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণে হুয়াওয়ে আইসিটি একাডেমির মত একটি প্রতিষ্ঠান নিঃসন্দেহে আমাদেরকে বিপুল চালিকাশক্তি জোগাবে। বিগত দশকগুলোতে পাঠদানের ক্ষেত্রে বুয়েট যে গুণগত মান ধরে রেখেছে তার সাথে এ উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আমাদের বিশ্বাস”।

হুয়াওয়ে টেকনোলজিস বাংলাদেশের সিওও তাও গুয়াংইয়াওবলেন, ‘তরুণদের কর্মদক্ষতার উন্নয়ন না ঘটলে একটি দেশ উপকৃত হতে পারে না। উন্মুক্ত বৈশ্বিক শিক্ষার সুযোগ ছাত্র-ছাত্রিদের জন্য অনেক প্রয়োজন। এ সুযোগ তাঁদের চিন্তাশক্তিকে বাড়িয়ে তোলে অনেক গুণ। আইসিটি ক্ষেত্র যখন প্রতি মুহূর্তেই নতুন নতুন আবিস্কার নিয়ে আবির্ভাব হচ্ছে তখন এর সাথে আরও এক হয়ে সমাজের জন্য নতুন উপযোগিতা তৈরি করতে হবে। গত ২২ বছর ধরে আমরা বাংলাদেশের আইসিটি ক্ষেত্রের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। পাশাপাশি আমরা চাই, এদেশের ছেলেমেয়েরা আরও বেশি দক্ষতা অর্জন করুক এবং আমরা একসাথে এক হয়ে দেশের জন্য কাজ করি। তাই মূলতঃ আমাদের এ হুয়াওয়ে-বুয়েট আইসিটি অ্যাকাডেমী স্থাপন করা।’

অলাভজনক শিক্ষা প্রোগ্রাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এ একাডেমিটি দু’টি বিষয়কে সামনে রেখে কাজ করবে। এর মধ্যে একটি হলো আইসিটি খাতের চাহিদা পূরণে ট্রেনিং ও লার্নিং সল্যুশন প্রদান করা; অন্যটি হলো আইসিটি খাতের জন্য একটি ট্যালেন্ট ইকোসিস্টেম তৈরি করা।

সারা বিশ্বে এরকম ৯০০টিরও বেশি আইসিটি একাডেমী স্তাপনের পরিকল্পনা রয়েছে হুয়াওয়ের এবং প্রতি বছর এ একাডেমিগুলো থেকে ৪৫ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী বের হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী বুয়েট থেকে ২৫০ জন শিক্ষার্থী এ ট্রেনিংয়ে অংশগ্রহণ করবে। এ পর্যন্ত পাকিস্তান, জাম্বিয়া ও চীনসহ আরো বেশ কিছু দেশে এ একাডেমি কার্যক্রম শুরু করেছে।

নিউজ রিলিজ

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ