শিরোনাম
দুঃস্থ নারীদের নগদ টাকা উপহার দিল হিউম্যান সাপোর্ট ফাউন্ডেশন খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় বায়েজিদ থানা ছাত্রদলের মিলাদ ও ইফতার বিতরণ স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা হেলাল উদ্দিনের অর্থায়নে ফ্রি সবজি বাজার আন্দরকিল্লায় রমজানে ডায়াবেটিস রোগীর সমস্যা, সমাধানে করণীয় ও হোমিওপ্রতিবিধান ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন চট্টগ্রামে আজ মাহে রমজানের শেষ জুমা; জেনে নিন জুমাতুল বিদার মহত্ত্ব আলোচিত ‘নয়া দামান’ গানের মূল শিল্পী তোসিবা বেগম উপেক্ষিত নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভারত থেকে প্রবেশ বাড়ছে আখাউড়া স্থল বন্দর দিয়ে বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা কেন করবেন? সরকারিভাবে অন্তত ৯০০ টন অক্সিজেন মজুত আছে
শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ০৮:২৭ পূর্বাহ্ন

দুষ্প্রাপ্যতার যুগেও জহির রায়হান চলচ্চিত্রটি তৈরিতে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন

নুরুন্নবী নুর / ১৫৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২০

চলচ্চিত্র বানানোর আগে দেশি-বিদেশি চলচ্চিত্র ও চলচ্চিত্রকারদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ছিলো কিংবদন্তী পরিচালক জহির রায়হানের সাথে। সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করারও সুযোগ হয়েছিলো। শুরুর দিকে চলচ্চিত্র বানাতে গিয়েও ছিলেন খুবই আত্মবিশ্বাসী।

চলচ্চিত্রে কাজ করার অনুপ্রেরণা ও উৎসাহে দরুন ভদ্রলোক প্রথম চলচ্চিত্র বানালেন ‘কখনো আসেনি’। মুক্তি পায় ১৯৬১ সালে ২৪ নভেম্বর। চলচ্চিত্রটি নিয়ে সে সময় সিনেমার বিজ্ঞাপনে একটি দারুণ কথাও লোকেমুখে বিবৃতি প্রকাশিত ছিলো,
‘দেশের জনসাধারণ ২০ বছর পর যে ছবি দেখবে বলে আশা করেছিল, ২০ বছর আগেই দেশের তরুণরা সে ছবি তাদের উপহার দিলো।’

‘কখনো আসেনি’ জহির রায়হানের একটি সামাজিক বাংলা ভাষার চলচ্চিত্র। এটি বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার প্রায় ১০ বছর পূর্বের চলচ্চিত্র। এ চলচ্চিত্রে সমাজের কিছু রুঢ় বাস্তবতা তিনি তুলে আনতে চেষ্টা করেছিলেন। প্রতিপাদ্য বিষয় হলো- মানুষ নিতান্তই একা। নিজের ভালো নিজে বুঝে। রক্ষ সম্পর্কীয় হলেও নিজের অবস্থানকে সে আগে পাকাপোক্ত করতে চায়। নিজের অবস্থান যদি নড়-বড়ে হয়, সে ক্ষেত্রে কোনো সম্পর্কই এক সাথে একই পথে হাটে না, ভিন্ন পথ অনুসরণ করে।

অন্য দিকে ‘কখনো আসেনি’ চলচ্চিত্রটির কাহিনী সংক্ষেপ হলো- ছেলে-মেয়েসহ চার জনের সংসার। ছেলে উপার্জন করার মতো হলেও বাবাকেই জীবিকার ঘানি টানতে হচ্ছে। চাকরির বাজার তরুণদের জন্য সোনার হরিণ। ছেলে আঁকাআঁকি করেই দিন কাটায়। সেখান থেকে যে টাকা আয় হয়, নিজে কোনো মতে চলে। মাঝে-মধ্যে বাবা, বোনদের থেকে নিয়ে যায়। বোন একজন বড় হয়, বিয়ে দিতে হয়। সমাজের কাছে বড়ই অপয়া। বাবার দুশ্চিন্তা বাড়তে থাকে। একদিন বাবাও দুর্ঘনায় মারা যায়। পরিবারের হাল ধরতে গিয়ে ছেলেও ব্যর্থ। অভাবের সংসারে ভাই বোনদের সম্পর্কটা দিন দিন ফ্যাকাশে হয়ে যায়। ভাই, ভালোবাসে পাশের বাসার স্বাবলম্বী এক সুলতানের অনিচ্ছাসত্ত্বেও মনোরন্ঞ্জনকারী দাসীকে। বাস্তবতার দিকে তাকিয়ে বড় ভাই সেই দাসীকে পাওয়ার জন্য বোনদের অবজ্ঞা করে। শেষত বোনরা আত্মহত্যা করে, ভাই তা দেখে সহ্য করতে না পেরে সেও মারা যায়।’

জহির রায়হানের শুরুর চলচ্চিত্র ‘কখনো আসেনি’। খুবই সুনিপূণ একটি কাজ। চলচ্চিত্র বানানোর দুষ্প্রাপ্যতার যুগেও জহির রায়হান চলচ্চিত্রটির তৈরিতে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। আলো কম আসলেও, অভিনেতাদের অভিনয় দিয়ে তা অনেকটা কাটিয়ে উঠেছিলেন। আনিস চরিত্রে খান আতাউর রহমান যেমন একজন সংগীতজ্ঞ, তেমনি একজন বিরাট মাপের অভিনেতাও। এছাড়া শবনমের কৃত্রিমতাহীন অভিনয় যেন চলচ্চিত্রটি আমাদের কাছে বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। চলচ্চিত্রটিতে সুমিতা দেবী, কণা, শহীদুল আমীন, আবদুল্লাহ ইউসুফ ইমামসহ প্রায় প্রত্যেকের অভিনয় প্রশংসনীয়।

অভিনয়ের পাশাপাশি খান আতাউর রহমান ‘কখনো আসেনি’ চলচ্চিত্রে সংগীতে যে জাদু দেখিয়েছেন, সত্যিই অসাধারণ। নিজে গান গেয়েছেন, আরও গেয়েছেন কলিম শরাফী ও মাহবুবা রহমান। আবহ সংগীতও ছিলো অনবদ্য। শুরু ও শেষের দিকে গরুর গাড়ির চলার যে আবহ, তা আমাকে খুব মুগ্ধ করেছে। গ্রাম বাংলার মুর্ছনা জাগিয়েছে। চিত্রগ্রহণও ছিলো খুব ভালো। ক্যামরার ব্যবহারে পাণ্ডিত্য দেখালেন বলতে হয়। চিত্রগ্রহণ ও সম্পাদনায় ছিলেন কিউএম জামান। সম্পাদনায় একটু ঘাটতি থাকলেও, গল্পের কোন ক্ষতি হয়নি।

১৪১ মিনিট ২৪ সেকন্ডের লিটল সিনে সার্কেলের প্রযোজনায়, এরা ফিল্মস-ঢাকার পরিবেশনায়, রচনা-চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় জহির রায়হানের চলচ্চিত্র ‘কখনো আসেনি’।

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ