মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন

দুই যুগ আগের জালিয়াতি: দুদকের মামলায় আসামী চট্টগ্রামের সিনিয়র চার সাংবাদিক

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : বুধবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৫২২ Time View

চট্টগ্রাম: কাকের মাংস কাকে খায় না। তবে সাংবাদিকের মাংস খায় সাংবাদিক। আজ থেকে প্রায় দুই যুুগ আগে চট্টগ্রামের সাংবাদিক জগতে এমনি একটি ঘটনা ঘটেছিল। সাংবাদিকদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি খাসজমিতে লোলুপ দৃষ্টি পড়েছিল চার নেতা সাংবাদিকেরই। সরকারী খাস জমি বরাদ্দ পেতে নিজেদের প্রাণপ্রিয় জীবনসঙ্গীনিকেও দুর্নীতিতে অংশীদার করেছেন তারা। যৌবনকালের এ জালিয়াতির শাস্তি বুড়ো বয়সে পেতে যাচ্ছেন তারা। আদালতের কাঠের রেলিংয়ে দাঁড়াতেই হচ্ছে তাদেরকে।

অনুসন্ধানে অপরাধের প্রমাণ পাওয়ায় চট্টগ্রামের সিনিয়র চার সাংবাদিকসহ নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ গত ২৫ নভেম্বর এ মামলাটি (মামলা নম্বর-১৪) দায়ের করেন একই কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আবু সাঈদ।

মামলায় আসামীরা হলেন চট্টগ্রাম সাংবাদিক কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান (এজাহার অনুসারে) মাহবুব উল আলম, সাবেক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন আহমেদ, তার স্ত্রী হোসনে আরা, সাবেক কোষাধ্যক্ষ শহীদ উল আলম, তার স্ত্রী তসলিমা খানম, সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক নির্মল চন্দ্র দাশ, তার স্ত্রী তাপতী দাশ, মো. সেলিম ও মোসাম্মৎ হুমায়েরা ওয়াদুদ। মো. সেলিম হচ্ছে ঠিকাদার। তিনি নির্মল দাশের স্ত্রীর তপতী দাশের নামে বরাদ্দ দেওয়া জমির ক্রেতা এবং মোসাম্মৎ হুমায়েরা ওয়াদুদ হচ্ছেন চট্টগ্রামের উত্তর বন বিভাগের সাবেক ডিএফও আব্দুল ওয়াদুদের স্ত্রী। তিনি শহিদুল আলমের স্ত্রীর নামে বরাদ্দ দেওয়া প্লটের ক্রেতা।

এর আগে এ নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার জন্য গত ২৪ নভেম্বর দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর উপ-পরিচালক বরাবর একটি দাপ্তরিক পত্র দিয়েছিলেন দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (অনুসন্ধান ও তদন্ত) মো. আনোয়ারুল হক। পত্রে তিনি বলেন, ‘অনুসন্ধান প্রতিবেদন পর্যালোচনায় উল্লেখিত নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজুর সিদ্ধান্ত কমিশন কর্তৃক গৃহীত হয়েছে।’

মামলা দায়ের ও তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ পূর্বক এজাহার ও তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগের কপি প্রেরণের জন্য পত্রে অনুরোধ করা হয়।

এ দিকে, মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অনুমোদিত লে-আউটে ১০৯টি প্লটের বিপরীতে আসামীরা নিজেরা লাভবান হবার অসৎ উদ্দেশ্যে জালিয়াতির মাধ্যমে সিডিএর অনুমোদিত নকশা বহির্ভূতভাবে সরকারী খাসজমিসহ চারটি প্লট সৃজন করে মোট ১১৩টি প্লট সম্বলিত একটি মিথ্যা ও বানোয়াট লে-আউট/নকশা প্রণয়ন করে তা পরবর্তী বরাদ্দ প্রদান করে দন্ডবিধি আইনে অপরাধ করেছেন। ১৯৯২ সালে সাংবাদিক কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লিমিটেডের দায়িত্ব পাওয়ার পর সরকারী জায়গার উপর মাহবুব উল আলম, নিজাম উদ্দিন আহমেদ, শহীদ উল আলম ও নির্মল চন্দ্র দাশের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে। সমিতির অসদস্য তিনজনের নামে প্লট বরাদ্দ এবং অবৈধভাবে প্লট বিক্রি করেছে তারা। লিজ শর্তানুযায়ী প্লট বিক্রির ২৫ শতাংশ অর্থ প্রায় দুই লাখ ৩৫ হাজার টাকাও তারা আত্মসাৎ করেছেন। পারস্পরিক যোগসাজশে সরকারি পাঁচ কাঠা জমিও তারা আত্মসাৎ করেছেন।’

এ নিয়ে চট্টগ্রাম সাংবাদিক কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লিমিটেডের সদ্য সাবেক সভাপতি সাংবাদিক হাসান ফেরদৌস বলেন, ‘সাংবাদিকতার নামে যারা দুর্বত্তায়নের সাথে জড়িত, তাদের বিচার হউক। কারণ সাংবাদিকেরা জাতির বিবেক, তারা যেখানে পথ দেখাবে সেখানে তারাই অনিয়মের সাথে জড়িয়ে পড়ছে। এভাবে চলতে পারে না।’

Share This Post

আরও পড়ুন